somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফালতু কথা ৫

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নীতির রাজাই যদি রাজনীতি হইয়া থাকে তাহা হইলে আমাদের দেশে রাজনীতির নামে এইগুলি কি চলিতেছে? অল্প ব্যবধান বুঝাইতে ১৯ কে ২০ বলা যাইতে পারে আবার কাককে কোকিলও বলা যাইতে পারে। কিন্তু বিষয়বস্তু কিংবা গুনাবলি কোন কিছুতে মিল না থাকা সত্ত্বেও আমাদের রাজনীতিবিদেরা দেখিতেছি কাককে তাজমহল বলিয়া চালাইয়া দিতেছেন। ছোট বেলায় স্কুল শিক্ষকের মুখে একটি গল্প শুনিয়াছলাম। এক নাপিতের ছিল ১৬ চুঙা বুদ্ধি। তাহার বুদ্ধির সাথে কেহ পারিয়া উঠিত না। একবার এক পান ওয়ালােকে দেখিয়া নাপিত জিজ্ঞাসা করিলো তোমার মাথায় কি? পান ওয়ালা উত্তর করিলো পান। অমনি নাপিত বলিলো মলি তোমার কান। বাড়িতে আসিয়া পান ওয়ালার আর ঘুম হইলো না।কথার মারপ্যাচে সে নাপিতের কাছে হারিয়া যাইবে? কোন ভাবেই এটাক মানিয়া লওয়া যায় না। তাই সে বুদ্ধি করিয়া নাপিতের বাড়ির সামনে বসিয়া রহিলো এই আশায় যে নাপিতকেও কোন না কোন কথার দ্বারা সে ঘায়েল করিবে। কিছু সময় পরে নাপিত বাড়ী হইতে বাহির হইলে পান ওয়ালা নাপিতকে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলো তোমার মাথায় কি? নাপিত উত্তর করিলো বাক্স। সাথে সাথে পানওয়ালা বলিলো তোমার কানে বাধি ঢেকি। এই কথা শুনিয়া নাপিত বলিলো, কি বলিতেছো মিল হইলো না । পান ওয়ালা তখন বলিলো, মিল না হইলে কি হইবে ওজন তো হইয়াছে। ঠিক তদ্রুপ আমাদের দেশের কিছু রাজনীতিবিদ প্রাসঙ্গিক হউক কিংবা অপ্রাসঙ্গিক হউক কথায় কথায় জঙ্গিবাদকে টানিয়া আনিতেছেন। সেদিন শুনিলাম কুটর শিল্প ও আমাদের ভবিষ্যত শীর্ষক আলোচনায় জঙ্গিবাদের আলোচনা চলিতেছ। অন্য এক অনুষ্ঠানে এক রাজনীতিবিদকে প্রশ্ন করা হইলো আপনার ছোটবেলায় ঈদ কেমন কাটিতো? উত্তরে অন্তত দশ মিনিট তিনি জঙ্গিবাদের আলোচনা করিলেন। আনেক আশা নিয়া তাহার জীবনের ঈদের স্মৃতিকথা শুনিতে গিয়া অবশেষে নিজের জীবন হইতে দশটি মিনিট খোয়াইতে হইলো। প্রসঙ্গের সাথে কোন তাল মিল না থাকিলেও ওজনহীন ঐ সকল রাজনীতিবিদের কথার ওজনে সারা বিশ্বে যে আমাদের ভাবমূর্তী ন্যুইয়া পড়িতেছে তহাও তিনারা আন্দাজ করিতে পারেন না। আর যদি ধরিয়াও নেই যে, দেশে জঙ্গিবাদের ইত্থান হইয়াছে তাহা হইলে সেই জঙ্গি কাহারা তাহা খতিয়া দেখিবার সময় হইয়াছে। বাস্তবতার সাথে মিল করিলে, পত্র পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মারফতে প্রতিনিয়তই দেখিতেছি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র রাজনীতির নামে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের অস্ত্র হাতে ভয়বহ বিভৎসতা। যাহারা প্রকাশ্য দিবালোকে চাপাতি দিয়া কোপাইয়া বিশ্বজিৎকে হত্যা করিলো। চট্রগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যাহারা অস্ত্রের মহড়া দেখােইলো। অতি সম্প্রতি যাহারা অস্ত্র হাতে বকশি বাজারে পৈশাচীক হামলা চালাইলো। সেই সকল সোনার ছেলেদের আচলে আড়াল করিয়া বরং তাহাদের দ্বারা যাহারা নির্যাতিত হইলো তাহাদেরকে জঙ্গি বলিয়া চালাইয়া দেওয়া হইতেছে। যে হাচানুল হক ইনুরা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামিলীগ এর শতশত নেতা কর্মীকে হত্যার মধ্যদিয়া দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটাইয়াছিল তাহারাই আবার আওয়ামিলীগ এর সাথে মিলিয়া মুখে জঙ্গিবাদের ফেনা তুলিতেছে। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করিয়া নিজেকে একটু রিফ্রেশ করিবার মানষে যখন টেলিভিশনের সামনে বসি তখন ঐ সকল রাজনীতিবিদদের বোয়ালমাছের মত মুখ দেখিয়া আমি ধান্দায় পড়িয়া যাই। যাহারা অস্ত্র হাতে সাধারণ মানুষের উপর নৃশংসভাবে হামলা চালায় তাহারাই জঙ্গি নাকি যাহারা হামলার স্বীকার হন তাহারা জঙ্গি! নিজেকে তখন বোধ বুদ্ধিহীন বোকা মনে হয়। ফলশ্রুতিতে টেভিশন নামক যন্ত্রের সামনে বসিয়া অমানুষিক যন্ত্রনা ভোগ করিবার ও অহেতুক ফালতু আলোচনা শুনিয়া সময় নষ্ট করিবার বাসনা দুর হইয়াছে্ কিন্তু আমার সেই মানুষিক তৃপ্তিতে বাধ সাধিয়াছে বড় ভাইয়ের ৬ বছরের ছেলে অনিক। এখন সে স্কুলে যায়। বানান করিয়া পড়িতেও পারে। প্রতিদিনই তার নিত্যনতুন সমস্যা তৈরী হয়। হাজারো প্রশ্নের গিট বাধে আর আমাকে তা একটা একটা করিয়া খুলিয়া দিতে হয়। এইটা কেন, ওইটা কেন, এইটার মানে কি, ওইটার মানে কি, এইটা এমন হইলো কেন, এইটা করিলে কি হয় ইত্যাদি। সেদিন আসিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করিলো, চাচ্চু অবরুদ্ধ কথার মানে কি? উত্তরে বলিলাম, কাহারো ইচ্ছাধীন যথেচ্ছ চলাচলে বাধাসৃষ্টি করা বা আটকাইয়া রাখাটাই অবরুদ্ধ। অনিক বলিলো তুমি ভুল বলিয়াছো। আমি তৎক্ষনাত তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম তাহা হইলে কি হইবে? ও বলিলো আমি সেটা জানিনা। তবে এইটা জানি তুমি যেটা বলিয়াছো সেটা অবরুদধ নয় সেটা নিরাপত্তা। আমি কৌতুহলে আবারো জিজ্ঞাসা করিলাম, তুমি ইহা কিভাবে জানিলে? উত্তরে সে বলিলো, প্রধানমন্ত্রী টিভিতে বলিয়াছেন। আমি ভয়ে আতকে উঠিলাম! আমি টিভি দেখা বন্ধ করিয়া আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলিলেও আমার দেশের কচিকাচারা এই গুলি কি শিখিতেছে! বাংলা শব্দের অর্থইতে পুরা উল্টাইয়া যাইতেছে। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ইতমধ্যেই নব্য রাজাকার হইয়াছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বিভিন্ন সেক্টর কমান্ডারগন পাকিস্তানের এজেন্ট হইয়াছেন। না জানি কখোন শব্দের অর্থ উল্টাইয়া স্বাধীন দেশকে ওরা পরাধীন বলা শুরু করিয়া দেয়। আমি আবারো ওকে বুঝাইতে চেস্টা করিলাম, তুমি শব্দের ভুল ব্যাখ্য শিখিয়াছো। ও আমার কোন কথাই শুিনিলো না শুধু মুখের উপর বলিয়া গেল তুমি কি প্রধানমন্ত্রীর থেকে বেশি জানো?
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গভঙ্গ থেকে চব্বিশ, পূর্ব বাংলার ইতিহাস ও বাংলাদেশের আত্মপরিচয়

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বর্তমান সময়ে একটি বিরাট পরিবর্তনের ধাক্কা লেগেছে যা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর এবং আত্মোপলব্ধির ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ পনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:১১

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানল পত্রিকা পড়ে: তাহলে দূতাবাসের কাজটা কী?

১৪ অক্টোবর মক্কায় দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে। তাঁদের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×