somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(১২)

০৯ ই মে, ২০০৭ সন্ধ্যা ৬:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন । বিরুদ্ধবাদীদের অগ্রগামীতায় একমাত্র বাধা পূর্বেও ছিল ইসলাম, বর্তমানেও ইসলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবে ইসলাম। সুতরাং, ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তারিত করলো তারা, প্রথমেই তারা গবেষণা করলো যে, কোন্ নৈতিক শক্তির বলে মুসলমানরা জগতের অন্য কোন শক্তিকেই ভয় পায় না; বরং মৃতু্যকেই বেশী ভালবাসতে পারে? ফলাফলে তারা পেল যে, আল্লাহ্, তাঁর কিতাব এবং আখেরাতে প্রতি সুদৃঢ় ঈমান পোষণ; অতএব, এই তিনটি নৈতিক ও আত্মিক শক্তির যোগানদানকারী উৎসকে মুসলমানদের মন থেকে মুছে দিতে হবে; অন্ততঃ এর চেতনাবোধকে ভোঁতা হলেও করে দিতে হবে। তাদের গবেষকদের পরামর্শক্রমে এসব চেতনার বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তারা বেছে নিল প্রচুর অর্থ, নারী এবং জাগতিক সুযোগ-সুবিধা নামক তিনটি বিলাসী সামগ্রীকে; যেসবের প্রভাবে মুসলমানগণ কেন, যেকোন মানুষই তার অভীষ্ট লক্ষ্য হতে বিচু্যত হতে বাধ্য। কিন্তু পৃথিবীকে সংস্কার করার, সঠিক ও সরল পথ দেখানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত জাতি হিসেবে মুসলমানদের জন্য যা কখনোই স্বাভাবিক নয়।

একথা অনস্বীকার্য যে, সকল জাতির মধ্যকার সমস্ত মানুষই জাতীয় সম্মানকে অগ্রগামী করার যোগ্যতা রাখে না; বরং চিন্তাশীল ও জ্ঞানীদের স্বল্পসংখ্যকই সে ভূমিকা পালন করে থাকে। ইসলামের শত্রুদের শ্যেনদৃষ্টি বহুকাল থেকেই ছিল মুসলিম বিশ্বের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি। এ জাতীয় মেধাবীদেরকে তারা নানা কৌশল খাটিয়ে প্রয়োজন হলে নিজেদের দেশে নিয়ে গিয়ে প্রচুর বৈভবে বুঁদ করে ভুলিয়ে দিতে সফল হয় তার মূলত্বকে, তার পরিচয়কে এবং তাকে দিয়ে নিজেদের প্রয়োজন মত উন্নয়ণ সাধন করে থাকে। আর সে প্রয়োজন না হলে বা সে পর্যায়ের না হলে মুসলিম দেশে রেখেই তাদের মস্তক ক্রয় করে ফেলে, সে মস্তকে তখন আর মুসলিম জাতির চিন্তাচেতনা বিদ্যমান থাকে না; বরং ধোলাইয়ের পর ভোগ-বিলাসের নেশায় মাতোয়ারা করার সাথে সাথে তাতে ঢুকিয়ে দেয়া হয় প্রচুর ইসলাম বিরোধী সেল যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকে ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে।

সূতোর টানে পুতুল নাচের মতই ইয়াহূদ-খৃষ্টান-হিন্দুদের দেশে দেশে তো নাচেই; এমনকি আপনার-আমার চারপাশেও তাদের সে সাম্বানৃত্য দৃশ্যমান প্রতিনিয়ত। মুসলিম জাতি তাদের কাফন সেরে রেখেছে বহু আগেই; শুধু দাফনটুকু বাকী রেখেছে এই আশায় যে, আল্লাহ্ যদি দয়া করে তূরের বুকে মূসার সঙ্গীদের মত এসব মৃতদেহগুলোতেও আবার প্রাণের সঞ্চার করেন!

দুশ্চিন্তায় ভেঙ্গে পড়ার কোন কারণ নেই, এসব নতুন কিছু নয়; আমরা কি ছাই, নবূয়ত প্রাপ্তির পর মক্কার সুদীর্ঘ তেরটি বছরের কোন একটি মুহূর্ত আল্লাহর নবী শান্তিতে যাপন করতে পারেননি। ইসলামকে মুকুলেই ছিঁড়ে ফেলে জগতের বুক থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার জন্য হেন পন্থা নেই যা কুরাইশ সর্দারগণ গ্রহণ করেনি। অবশেষে ষড়যন্ত্রকারীদের শেষ পদক্ষেপ যা হয়, তা তার বেলায়ও হলো, তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলার সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিল কুরাইশ নেতৃবৃন্দ। কিন্তু সব ফির'আনের ঘরেই আদর-সোহাগে লালিত হতে থাকে মূসারা, মূর্খরা কি করে বুঝবে আল্লার কুদরত? তিনি হিজরত করেন, কিন্তু মদীনাতেও ইসলামের প্রসারকে তারা সহ্য করলো না, যুদ্ধ হলো বদরে, উহুদে, খাইবারে, মদীনায়(খন্দকের যুদ্ধ)সহ অসংখ্য বার। তাদেরই আপনাপন সন্তান-ভাই-ভাইস্তা তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে কঠোর হস্তে দমন করলো আল্লাহর শত্রুদের আর দুনিয়ার বুকে বিজয়ী করলো আল্লার দেয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত- ইসলামকে। তারা মুখের ফুঁকে আল্লাহর সেই চেরাগকে নির্বাপিত করবে কিভাবে; স্বয়ং আল্লাহ যে আলোকে পাঠিয়েছেন জগতের সকল অন্ধকারকে বিদূরিত করতে? আশার কথা যে, আল্লাহর এই বিধান নিঃশেষ হয়ে যায়নি; বরং তা চিরন্তন। চৌদ্দশতক পূর্বে এসে বর্তমান পর্যন্ত স্বদর্পে ধাবমান এবং সেদিন পর্যন্ত পৌঁছেই পরে ক্ষান্ত হবে, যেদিন ধ্বংস হয়ে যাবে এই বিশ্ব চরাচর। আর ততদিনের জন্য সময়ের প্রতিটি ভগ্নাংশে ইসলামই থাকবে একমাত্র সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতি; সর্বযুগে এই অপুরাতন জীবন ব্যবস্থা শুধুমাত্র ইসলাম।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)
পরের পর্ব পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০০৭ ভোর ৬:৩৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা দিবসে, বাবা কে

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

বাবা,

আমি যখন তোমাকে এই চিঠিটা লিখছি,তখন থেকে ঠিক ছয় হাজার ছয়’শ বাইশ দিন আগে তুমি আমাকে একা করে চলে গেছো। সংখ্যাগুলি লিখতে যত সহজ, তার ভেতরে জমে থাকা শূন্যতাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি কিশোরীর অসমাপ্ত গল্প, নাকি আমাদের সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি?

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২২ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৮

দৃশ্যটা যেন কোনো সাউথ ইন্ডিয়ান ক্রাইম থ্রিলারের শুরু। চারদিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। নির্জন জঙ্গলের ভেতর একটি গাছের সঙ্গে ঝুলছে এক কিশোরীর অর্ধগলিত লাশ। কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন নিচের অংশ মাটিতে পড়ে আছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মাঠে নামছে জামায়াত-এনসিপি।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:১৭


বাংলাদেশে এই প্রথম একটা অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছি আমরা। সরকার টেকানোর জন্য মাঠে নামছে বিরোধী দল! জ্বী, আপনি ঠিকই পড়েছেন। আগামীকাল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। ওহ সরি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×