আগের পর্ব পড়ুন । রাষ্ট্রীয় অপরাধীঃ ভূখণ্ডীয় পরিমণ্ডলে রাষ্ট্রীয় অপরাধীরাই হয়ে থাকে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক, ফেৎনা সৃষ্টিকারী এবং নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের ভয়ানক ঘুনপোকা। এদের অধিকাংশকেই সাধারণ মানুষ চিনতে পারে না। জাতীয় পর্যায়ে এরা ইবলীসের মতই অদৃশ্য থেকে সকল নষ্টের কলকাঠি নেড়ে যায়। জনগণ অধিকাংশ সময়েই এদের মুখরোচক বক্তৃতা-বুলি শুনে শুনে আর খাল পর্যায়ের চুরির নিমিত্ত নলকুপ জাতীয় টোপ অজানায় গিলে গিলে এদেরকে 'দেশ দরদী', 'জন দরদী', 'গরীবের বন্ধু' ইত্যাদি খেতাবে ভূষিত করে থাকে।
কিন্তু ডাক্তার যেমন রুগীর চেহারা দেখেই রোগের আগাম অনেক সিদ্ধান্তই নিয়ে নিতে পারেন এবং রোগীর অবস্থা সম্পর্কিত অনেক তথ্যই প্রকাশ করতে পারেন, তদ্রূপ সমাজ ও দেশকে সত্যিকারভাবে ভালবেসে যারা সংস্কারের দায়িত্ব নিজ কাঁধে স্বেচ্ছায় তুলে নিয়েছেন, তারা দু'এক কথায় ও কাজের দু'একটি ধারাতেই চিনে নিতে সক্ষম হন সুন্দর সমাজ ও ন্যায়-ইনসাফ সমৃদ্ধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথের কাঁটাস্বরূপ এ সকল রাষ্ট্রীয় শত্রুদের।
অনেকগুলো কারণে এরা এহেন জঘন্যতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। যেমন- স্বার্থ, কতর্ৃত্ব, সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার, মাদকাসক্তি, বিকৃতরুচিবোধ ইত্যাদি। এ জাতীয় আরো অসংখ্য কারণ হতে নিম্নে মৌলিক এ কয়েকটি দিক তুলে ধরা হলো-
স্বার্থঃ মূলতঃ সকল পর্যায়েই কিছু না কিছু স্বার্থ সংশ্লিষ্ট থাকেই, আর পর্যায় যত বড় স্বার্থের অংকটাও ঠিক ততটাই ব্যাপক হয়ে থাকে। যেমন, পরিবারে কারো সাথে শত্রুতা করলে হয়তো অতি জোর উত্তরাধিকারে কিছু বেশী সম্পত্তি পাওয়া যাবে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে তা করলে হয়ত কয়েকটি গ্রাম অথবা একটা এলাকা খরিদ করার মত বড় অংকের স্বার্থ হাসিল হবে। তদ্রূপ চক্রান্তটাও হয়ে থাকে ততটাই ব্যাপক আকারে। পারিবারিক চক্রান্তে বিপদগ্রস্ত হবে হয়ত পাঁচ/সাত জন মানুষ, কিন্তু রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে বিধ্বস্ত হয়ে যেতে পারে জনপদের পর জনপদ, আক্রান্ত হয় পুরো দেশের কোটি কোটি মানুষ, এমনকি জীব-জানোয়ার থেকে নিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদও এর আওতায় পড়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
সুতরাং এ পর্যায়ের অপরাধী ব্যক্তি যখন নিজ স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পায় না, তখন মানুষের দেহগুলো তার কাছে পিঁপড়ার মত ঠেকে, আর নির্দ্বিধায় স্বীয় স্বার্থ হাসিলের নিমিত্ত সে দলে যেতে পারে সাধারণ জনগণকে। যেমনটি আমরা বিভিন্ন সময় স্বৈরাচারী, চক্রান্তকারী ও স্বার্থান্ধ সরকার প্রধান কিংবা নেতা-নেতৃদের কার্যক্রমে দেখতে পাই। ইসলামে স্বার্থ বলতে ব্যক্তি সবার আগে দেখবে তার আদর্শের স্বার্থকে, আর ইসলামী আদর্শ যে ন্যায়-ইনসাফ ও মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সফল ও পরীক্ষিত; সে কথা বলাই বাহুল্য। অতএব, স্বার্থান্ধ রাষ্ট্রীয় অপরাধীরা সর্বদাই ইসলামকে দেখে এসেছে তাদের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হিসেবে। এর প্রতিরোধ কল্পে তারা প্রতিযুগেই নিজেদেরকে বিক্রয় করেছে ইসলামের শত্রু কাফের, মুশরিক, নাস্তিক, মুরতাদের নিকট।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)
পরের পর্ব পড়ুন ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




