আগের পর্ব পড়ুন । কতর্ত্বঃ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আরেকটি কারণ হচ্ছে ক্ষমতার লোভে অন্ধত্ব অর্জন করা। দেশে দেশে তো আজ বিভিন্ন পর্যায়ে এমনসব কতর্ত্বশালীরা নিরীহ জনগণের ঘাড়ে চেপে বসছে, ইসলামের বিচারে ইসলামী রাষ্ট্রের ঝাড়ুদার হবারও যোগ্যতা রাখে না তারা। তাদের শরীরে দগদগ করছে পাপের চিহ্ন, মস্তকে শয়তানী মুকুট, তাদের পোষাক থেকে বেরুচ্ছে মাদকের নিকৃষ্ট দুর্গন্ধ, তাদের অর্থ-সম্পদের সিন্দুক থেকে গোমরিত হচ্ছে অগণন বঞ্চিতের কান্না, তাদের বন্দুকের নলের ভেতর শোনা যাচ্ছে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের মরণ চিৎকার!
কথাগুলো বলা এজন্য প্রয়োজন হলো যে, কতর্ৃত্ব-ক্ষমতা এগুলো এমনি এক নেশা, যা অর্জনে মানুষ হিংস্রতায় সকল হিংস্র পশুকে ছাড়িয়ে যায়, বর্বরতায় সর্বনিম্নস্তরে পৌঁছে যায়। অথচ নেতৃত্বের আকাংখী কোন ব্যক্তি যত যোগ্যতাই রাখুক না কেন, ইসলাম তাকে নেতৃত্ব দানের অযোগ্য মনে করে। আল্লাহর মেহেরবাণী যে, আমাদের স্বদেশেও ইসলামের সত্যিকার ও পূর্ণাঙ্গ অনুসারী এমন ইসলামী দল রয়েছে, যারা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ইসলামের এই মহান সৌন্দর্যের অনুসারী। অনৈসলামিক রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তিও এখানে এসে সাধারণ পর্যায়ে অংশ নিতে বাধ্য, তারপর আল্লাভীরুতা ও নিজের যোগ্যতা বলে যদি কর্মী-সাধারণ তাকে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চায় তবেই কেবল পুনরায় ক্ষমতায় আরোহন সম্ভব হবে; অন্যথা কস্মিনকালেও নয়।
এ পর্যায়ের অপরাধীদের ভয়টুকু এখানেই, তারা জানে যে, ইসলাম ক্ষমতায় আসলে আমাদের কতর্ৃত্বে টিকে থাকা তো দূরের কথা, এতদিনের অপরাধের শাস্তি ভোগ করতেই এক জীবন কেটে যাবে। ইসলামের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশী কুটকৌশল প্রয়োগ করে থাকে এই চক্রটি। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষিত কালেমার শব্দাবলী কর্ণে প্রবেশের সাথে সাথেই আবু জাহল, আবু লাহাব, উৎবা, শাইবারা এ সত্যটি টের পেয়ে যায় যে, কা'বা কেন্দ্রিক তাদের নেতৃত্বের দিন খতম হতে যাচ্ছে। তাই তারা তাকে এক পর্যায়ে হত্যার করার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিল। রাসূল হিজরত করে মদীনায় আগমন করলে মদীনার ভাবী নেতা আব্দুল্লাহ্ বিন উবাই হারালো তার আশু নেতৃত্ব, এই আসক্তি অবশেষে তাকে মুনাফেকদের সর্দারে পরিণত করলো।
আমাদের সমাজেও আজ মোটেও অভাব নেই আবু জাহল, উৎবা, শাইবা আর আব্দুল্লাহ্ বিন উবাইদের, সেকালের ওরা ছিল অন্য চেহারায় অন্য অবয়বে আর একালের এরা তো আমাদের পরিচিত চেহারা; এদের সবারই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অভিন্ন। তবে একথা নিঃসন্দেহ যে, নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার আর হিংস্রতায় সেকালের ওদেরকে ছাড়িয়ে একালের এরা অনেক অনেক নীচে পতিত। কিন্তু এ ব্যাপারেও নিঃসন্দেহ থাক যে, মুমিনগণের জন্য যে ইসলাম পরম শান্তির, আর মনে রেখো- তোমাদের জন্য তা ছাই চাপা আগুন! আল্লাহ্ তাঁর এই আগুনকে জ্বালাবেনই জ্বালাবেন, মুখের ফুঁৎকারে তোমরা তা নির্বাপিত করতে পারবে না। সে আগুনে মুমিনেরা পাবে আলো, পথের দিশা; আর জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে এসব অপরাধী আর কুটকৌশলীদের সকল পাতানো জাল।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)
পরের পর্ব পড়ুন ।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




