somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(১৭)

২২ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন । সুদঃ অর্থনীতির দিগন্ত থেকে ইসলামকে বিতাড়িত করার প্রয়াসে সাধনারত রয়েছে আরেকটি গোষ্ঠী, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থায় সুদখোর হিসেবে পরিচিত। তাদের এই একটি দিক কেন্দ্রিক বিরোধিতা পর্যায়ক্রমে সার্বিকতায় রূপ নেয় অথবা পরিবর্তিত হয়। পৃথিবীর অন্য সকল অর্থব্যবস্থা আজো এই মানবতা বিরোধী ক্যান্সারে আক্রান্ত। এছাড়াও ইসলামের বিরোধিরা অর্থ যোগানদাতা হিসেবে স্বেচ্ছায়-অনিচ্ছায় এদের সহযোগিতার উপরই অনেকাংশে নির্ভরশীল থাকে। অথবা অন্যান্য পর্যায়ভুক্ত হলেও ব্যক্তির অর্থের পাহাড়ে প্রতি বছরই গরীবের হাড়-মাংস নিংড়ানো সুদের একটা বিরাট অংশ জমা পড়ে। আর সেসব উন্নতি(?)র ফলেই সে যাবতীয় সুনাম কুড়ানোর জন্য দান-দক্ষিণা থেকে শুরু করে সকল পাপাচার সংঘটন ও সেসবে যোগান দানে অসামান্য ভূমিকা রাখে।

সুদ মানবতার বিরুদ্ধে এক বিরাট যুলুম, কিন্তু এই যুলুমকে টিকিয়ে রেখেছে গুটিকতক সুদখোর যালেম। নিজেদের ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষের শ্রমার্জিত অর্থ ক্রমাগত লুটে খাচ্ছে এই যালেমেরা, শাসন ব্যবস্থা তাদের করায়ত্ব বলে এই যুলুমও আজ সাধারণ নীতিতে পরিণত হয়েছে। জোঁকের পেট ভরে রক্তে রক্তে, কিন্তু এদের পেট ভরে না: বরং রক্ত শেষ হলে এরা হাড়মাংস চিবিয়ে খায়, তারপরও ঋণ আদায় করতে সক্ষম না হলে তারা হিসেব কষতে থাকে ব্যক্তির নিঃশেষ হওয়া অবধি। অধুনা ধনতন্ত্রের মূলে সুদ ভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা এর মূলভিত্তির (ফাউন্ডেশন) মতই কাজ করে যাচ্ছে। তারা ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় এতটাই প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে যে, পৃথিবীর কোন আইনই সুদের মত এমন জঘন্য অত্যাচারকে অন্যায় বলে স্বীকার পর্যন্ত করে না কেবলমাত্র ইসলাম ছাড়া।

ইসলামী অর্থব্যবস্থায় পরম দয়ালু ও করুণাময় আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদের জীবন ধারণকে সহজ করার জন্য, তাদেরকে যুলুম করা ও যুলুমের স্বীকার হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য সুদকে করেছেন হারাম আর ব্যবসাকে করেছেন হালাল। তিনি বলেনঃ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا অর্থাৎ, ((তারা বলেঃ সুদ তো ব্যবসারই মত; অথচ আল্লাহ্ হালাল করেছেন ব্যবসাকে ও সুদকে করেছেন হারাম।)) [সূরা আল-বাকারাহঃ ২৭৫]। অন্যদিকে মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন ঘোষণা দেনঃ ((জাহেলিয়াতের সময়কার সকল সুদ আমার পদদ্বয়ের তলে মথিত ও বাতিল হয়ে গেল। আর সর্বপ্রথম যার সুদ বাতিল করছি তা হচ্ছে ইবনে আব্বাসের (রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা) সুদ।)) [ইবনে কাসীরঃ ২য় খণ্ড, পৃ-৩৯৪] অন্যত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ (( সুদ গ্রহণকারী, সুদ দাতা, সুদের সাক্ষ্যদানকারী এবং সুদের লেখকদের প্রতি আল্লাহ্ তা'আলা অভিসম্পাত করেছেন। )) [আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী]

সুদ নামক এই জঘন্য যুলুম যারা মানবতার প্রতি নির্দ্বিধায় চালিয়ে যাচ্ছে এবং যাদের যাবতীয় পার্থিব স্বার্থের খনিস্বরূপ বিবেচ্য যে সুদী কারবার; ইসলামের উপরোক্ত ঘোষণা ও কঠোরতাকে তারা কি করে মেনে নেবে? তাই তারা উঠে পড়ে লেগেছে একথার প্রচারে যে, ইসলামে আবার অর্থনীতি কি? আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ইসলামী অর্থনীতির জয় জয়কার দেখে তারা যেন নিজেদের ধানের গোলায় আগুন দেখার মতই ভীত-সন্ত্রস্ত হচ্ছে। যার প্রকৃষ্ট প্রমাণ অনুমেয় হয় আমাদের স্বদেশে ইসলামী শরীয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এবং স্বল্প সময়ে গণমানুষের আস্থার্জনে সফল ও রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখা ইসলামী ব্যাংক-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রাবল্যতায়। ইসলাম সর্বপ্রথম মদীনায় হিজরত করার পর রাষ্ট্র গঠন করে আর সে রাষ্ট্রের কাঠামোতেও ছিল অর্থমন্ত্রণালয়; কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকেই প্রস্তুত ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরী করেছিলেন এসব সফল ব্যবস্থাপনার ধারক সাহাবীদেরকে।

সুতরাং এযুগের ইসলামী রাষ্ট্রের জন্যও প্রয়োজন সকল দিকের জন্য সঠিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও যোগ্য ধারক গঠন; ইসলামী আন্দোলন যেমন সৎ ও যোগ্য লোক তৈরী করবে তেমনি ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থাও ভবিষ্যৎ ইসলামী সরকারসমূহের অর্থব্যবস্থাকে সঠিক সাপোর্ট দিতে সক্ষম হবে। আর এভাবেই একদিন প্রতিষ্ঠা পাবে আল্লাহর আইনকে ভিত্তি করে ইসলামী রাষ্ট্র এবং নিপীড়িত মানুষের রক্তের শুকনো সঞ্চয়ে গড়ে উঠা সুদের প্রাসাদ ভেঙ্গে খানখান হয়ে ধুলোয় মিশিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে সুদখোর যালেমদের বিনিদ্রারোগের এর চেয়ে বড় কারণ আর কি হতে পারে?
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)

পরের পর্ব পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০০৭ সকাল ৯:০৮
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×