আগের পর্ব পড়ুন । অশ্লীলতার ধারক-বাহক ও প্রয়োগকারীদের বিরোধিতাঃ
নৈতিকতা মানব জাতির এমন এক শক্তি, যার কাছে অন্য সকল মানবীয় শক্তিরা পরাভূত হতে বাধ্য। এটা যেমন ব্যক্তিকে শক্তিশালী করে, তেমনি এ জাতীয় গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের আধিক্যতা একটি জাতিকে শক্তিশালী হতে সহায়তা করে। অস্ত্র ধ্বংসলীলার মাধ্যমে দখল করতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের বিজয় দান করতে পারে নৈতিক শক্তি। আজ যেমন দেশে দেশে অস্ত্রের বলে দখলদারিত্ব চলছে, সেসব দেশের বিক্রি হওয়া কিছু মানুষ ছাড়া সারা দেশবাসীই দখলদারদের বিরুদ্ধাচরণে জীবনপণ। দখল করার পরও বিজয়ী শক্তিকে লড়াই করে যেতে হচ্ছে, কেননা, দেশবাসী তাদেরকে মেনে নিতে পারেনি। তেমনি দখলদারিত্ব অর্জন করেছিল আল্লাহর পথের মুজাহিদগণ ইসলামের বিজয়ের যুগে, অথচ দেখা গিয়েছিল যে, দেশ দখলের পর দেশের জনগণ তাদের নৈতিক চরিত্রকে এতটাই উচ্চতর মানে পেয়েছে যে, এক নিমিষেই শত্রুরা সব বন্ধুতে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।
অন্য দৃষ্টিতে দেখলে দেখতে হয় তার উল্টোটা, যেখানে কেবল কোন নৈতিক চরিত্রের বলে বলীয়ান জাতির বিরুদ্ধে শত্রুদের ফিসফাস শোনা যায়। যেখানকার মূলনীতি হলোঃ "কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দাও"। বিগত কয়েক শতাব্দি থেকে বিশ্ব ব্যাপী মারণাস্ত্রের চাইতে যেন এই নৈতিকতা বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহারটাই বেশী লক্ষ্যণীয় এবং তাও বিশেষভাবে মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে।
ইসলামের দুশমনেরা মুসলমানদের সাথে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে পরাজয়ের পর পরাজয় স্বীকার করে করে অবশেষে এই কূট চালের আশ্রয় নেয়। এর পরীক্ষামূলক সফলতা তারা প্রথম অর্জন করে সুলতান সালাহ্ উদ্দিন আইয়ূ্যবীর সাথে বাঁধা লড়াইয়ে। যদিও সুলতান আল্লাহর সাহায্যক্রমে এবং নিজ যোগ্যতা বলে শত্রুদেরকে পরাজিত করে পবিত্র বায়তুল মাকদিস মুক্ত করেন। তথাপি শুরুর এই প্রক্রিয়াটাকে আরো আধুনিক রূপ দান করে এবং সাথে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুসলমানদের নৈতিক চরিত্র ধ্বংস করার প্রক্রিয়া আজো সফলভাবে কার্যকর। মুসলমানদের সন্তানেরা আজ নিজেদের জাতিকে গালাগাল করার মত নিচুতায় নেমেও ঘূর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারছে না যে, তারা আসলে পুতুল আর তাদের এইসব নর্তন-কুর্দনের অদৃশ্য সূতো রয়েছে তাদের জাতির শত্রুদের হাতে। শত্রুদের এহেন ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে বর্তমান পৃথিবীর সবগুলো ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে স্বধর্ম এবং স্বজাতির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায়, বিরোধিতা করায় এবং ক্ষতি সাধনে সবচেয়ে অগ্রগামী হচ্ছে মুসলমানেরা। কি দুর্ভাগা মুসলিম জাতির সেসব সদস্যরা, যারা জানতেও পারছে না যে, ষড়যন্ত্রকারীরা তাদেরকে নিয়েই হাসাহাসি করছে আড়ালে আবডালে অথচ এরা একেক জন নিজেদেরকে জগতের মহা চালাক ভেবে ভেবে আত্মতৃপ্তিতে বিভোর।
এছাড়া সার্বিকতায় বর্তমান পৃথিবীর যাবতীয় অধঃপতনের গোড়ায় যে কয়টি ক্ষয় পোকা কার্যকর, তার ভয়াবহ একটি হচ্ছে এই নৈতিক অধঃপতন। পশ্চিমা বিশ্বকে আজ আলাদাভাবে ভাবতে হচ্ছে যে, কিভাবে পরবর্তী প্রজন্মের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা কিংবা অন্ততঃ টিকিয়ে রাখা যায়। কেননা, ভালবাসার সংজ্ঞা তাদের কাছে পাল্টে গেছে, জৈবিক উন্মাদনাই তাদের কাছে ভালবাসার একমাত্র গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা। তাই অন্যসব হৃদয়বৃত্তির অনুভূতি তারা আর খুঁজে পায় না নিজেদের সত্তায়। মাতৃত্ব, স্নেহ-মমতার বোধ, পারিবারিক সৌন্দয্য; এসব এখন সেকেলে ঠেকে তাদের সমাজে। আর এসবের ফলশ্রুতি হিসেবে পরিচয়হীনদের সংখ্যা তাদের মোট জনসংখ্যার সাথে এখন রীতিমত পাল্লা ধরেছে। বলা বাহুল্য যে, এসবের জন্য মানবতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী এবং অশ্লীলতা, উলঙ্গীপণা ও পতিতাবৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতার মত সামাজিক ও চক্রান্তকারী রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিবর্গই দায়ী। মুখে যাই বলুক না কেন, নিজেদের সমাজ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবেই প্রাচ্যের পরিবারগুলোকে তারা প্রতি বছর নিজেদের দেশগুলোতে আমদানী করতে বাধ্য হচ্ছে এখন। যদিও এই একটি মাত্র কারণ নয়; বরং আরো অসংখ্য স্বার্থ এই মাইগ্রেশন কৌশলে লুকায়িত রয়েছে। বস্তুত........
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)
পরের পর্ব পড়ুন ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




