somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(১৯)

০২ রা জুন, ২০০৭ সকাল ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন । অশ্লীলতার ধারক-বাহক ও প্রয়োগকারীদের বিরোধিতাঃ
নৈতিকতা মানব জাতির এমন এক শক্তি, যার কাছে অন্য সকল মানবীয় শক্তিরা পরাভূত হতে বাধ্য। এটা যেমন ব্যক্তিকে শক্তিশালী করে, তেমনি এ জাতীয় গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের আধিক্যতা একটি জাতিকে শক্তিশালী হতে সহায়তা করে। অস্ত্র ধ্বংসলীলার মাধ্যমে দখল করতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের বিজয় দান করতে পারে নৈতিক শক্তি। আজ যেমন দেশে দেশে অস্ত্রের বলে দখলদারিত্ব চলছে, সেসব দেশের বিক্রি হওয়া কিছু মানুষ ছাড়া সারা দেশবাসীই দখলদারদের বিরুদ্ধাচরণে জীবনপণ। দখল করার পরও বিজয়ী শক্তিকে লড়াই করে যেতে হচ্ছে, কেননা, দেশবাসী তাদেরকে মেনে নিতে পারেনি। তেমনি দখলদারিত্ব অর্জন করেছিল আল্লাহর পথের মুজাহিদগণ ইসলামের বিজয়ের যুগে, অথচ দেখা গিয়েছিল যে, দেশ দখলের পর দেশের জনগণ তাদের নৈতিক চরিত্রকে এতটাই উচ্চতর মানে পেয়েছে যে, এক নিমিষেই শত্রুরা সব বন্ধুতে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।

অন্য দৃষ্টিতে দেখলে দেখতে হয় তার উল্টোটা, যেখানে কেবল কোন নৈতিক চরিত্রের বলে বলীয়ান জাতির বিরুদ্ধে শত্রুদের ফিসফাস শোনা যায়। যেখানকার মূলনীতি হলোঃ "কোন জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার নৈতিকতাকে ধ্বংস করে দাও"। বিগত কয়েক শতাব্দি থেকে বিশ্ব ব্যাপী মারণাস্ত্রের চাইতে যেন এই নৈতিকতা বিধ্বংসী অস্ত্রের ব্যবহারটাই বেশী লক্ষ্যণীয় এবং তাও বিশেষভাবে মুসলিম জাতির বিরুদ্ধে।

ইসলামের দুশমনেরা মুসলমানদের সাথে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে পরাজয়ের পর পরাজয় স্বীকার করে করে অবশেষে এই কূট চালের আশ্রয় নেয়। এর পরীক্ষামূলক সফলতা তারা প্রথম অর্জন করে সুলতান সালাহ্ উদ্দিন আইয়ূ্যবীর সাথে বাঁধা লড়াইয়ে। যদিও সুলতান আল্লাহর সাহায্যক্রমে এবং নিজ যোগ্যতা বলে শত্রুদেরকে পরাজিত করে পবিত্র বায়তুল মাকদিস মুক্ত করেন। তথাপি শুরুর এই প্রক্রিয়াটাকে আরো আধুনিক রূপ দান করে এবং সাথে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুসলমানদের নৈতিক চরিত্র ধ্বংস করার প্রক্রিয়া আজো সফলভাবে কার্যকর। মুসলমানদের সন্তানেরা আজ নিজেদের জাতিকে গালাগাল করার মত নিচুতায় নেমেও ঘূর্ণাক্ষরেও বুঝতে পারছে না যে, তারা আসলে পুতুল আর তাদের এইসব নর্তন-কুর্দনের অদৃশ্য সূতো রয়েছে তাদের জাতির শত্রুদের হাতে। শত্রুদের এহেন ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে বর্তমান পৃথিবীর সবগুলো ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে স্বধর্ম এবং স্বজাতির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায়, বিরোধিতা করায় এবং ক্ষতি সাধনে সবচেয়ে অগ্রগামী হচ্ছে মুসলমানেরা। কি দুর্ভাগা মুসলিম জাতির সেসব সদস্যরা, যারা জানতেও পারছে না যে, ষড়যন্ত্রকারীরা তাদেরকে নিয়েই হাসাহাসি করছে আড়ালে আবডালে অথচ এরা একেক জন নিজেদেরকে জগতের মহা চালাক ভেবে ভেবে আত্মতৃপ্তিতে বিভোর।

এছাড়া সার্বিকতায় বর্তমান পৃথিবীর যাবতীয় অধঃপতনের গোড়ায় যে কয়টি ক্ষয় পোকা কার্যকর, তার ভয়াবহ একটি হচ্ছে এই নৈতিক অধঃপতন। পশ্চিমা বিশ্বকে আজ আলাদাভাবে ভাবতে হচ্ছে যে, কিভাবে পরবর্তী প্রজন্মের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা কিংবা অন্ততঃ টিকিয়ে রাখা যায়। কেননা, ভালবাসার সংজ্ঞা তাদের কাছে পাল্টে গেছে, জৈবিক উন্মাদনাই তাদের কাছে ভালবাসার একমাত্র গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা। তাই অন্যসব হৃদয়বৃত্তির অনুভূতি তারা আর খুঁজে পায় না নিজেদের সত্তায়। মাতৃত্ব, স্নেহ-মমতার বোধ, পারিবারিক সৌন্দয্য; এসব এখন সেকেলে ঠেকে তাদের সমাজে। আর এসবের ফলশ্রুতি হিসেবে পরিচয়হীনদের সংখ্যা তাদের মোট জনসংখ্যার সাথে এখন রীতিমত পাল্লা ধরেছে। বলা বাহুল্য যে, এসবের জন্য মানবতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী এবং অশ্লীলতা, উলঙ্গীপণা ও পতিতাবৃত্তির পৃষ্ঠপোষকতার মত সামাজিক ও চক্রান্তকারী রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিবর্গই দায়ী। মুখে যাই বলুক না কেন, নিজেদের সমাজ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবেই প্রাচ্যের পরিবারগুলোকে তারা প্রতি বছর নিজেদের দেশগুলোতে আমদানী করতে বাধ্য হচ্ছে এখন। যদিও এই একটি মাত্র কারণ নয়; বরং আরো অসংখ্য স্বার্থ এই মাইগ্রেশন কৌশলে লুকায়িত রয়েছে। বস্তুত........
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)

পরের পর্ব পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১১:৪২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'মাহাথিরনোমিক্স'- মালয়েশিয়াকে যেভাবে নিজ পায়ে দাঁড় করালো (পর্ব - ১)

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১২:৪৭



আমাদের প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া গেলেন। এটা খুব ভালো এক মুভ ছিলো। সারা বিশ্বকে একটি বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু, সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার অগ্রনায়ক মাহাথির মোহাম্মদের সাথে তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×