somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(২০)

২১ শে জুন, ২০০৭ সকাল ১১:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন । বস্তুতঃ অশ্লীলতার ধারক-বাহক ও প্রয়োগকারীদের নিকট ইসলাম কখনোই বরদাশ্ত করার মত কোন জীবন ব্যবস্থা হতে পারে না। সকল শ্রেণীর মতই এই শ্রেণীতেও আছে নূন্যতম থেকে সর্বোচ্চতম পর্যায়; (এই নিকৃষ্টতার ক্ষেত্রে সাধারণ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়) তাই এদের অনেকেই ইসলামকে নিজেদের জীবনের জন্য অনেক ক্ষেত্রে মেনে নিলেও মানসিক বিকৃতির প্রাবল্যে তা আর ধরে রাখতে পারে না, অবশেষে বিরুদ্ধাচরণকেই গ্রহণ করে নেয়। ইল্লা মাশা আল্লাহ্; যাদেরকে আল্লাহ্ তৌফিক দিয়েছেন তারা ব্যতীত। নানাবিদ অশ্লীলতায় জড়িয়ে পড়াতে যতটা না কার্যকর ব্যক্তি প্রচেষ্টা; তার চেয়ে হাজার-লাখো গুণ বেশী কার্যকর রয়েছে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার মত এক ধরনের অদৃশ্য তরল বিধ্বংসী গ্যাস অথবা বিষ; যা ব্যক্তি থেকে শুরু করে ক্রিয়ায় "নীল" করে দিতে পারে, ধ্বংস করে দিতে পারে এক একটি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় নৈতিকতাকে। যার দৈহিক পরিণাম নানাবিধ পঙ্গুত্ব থেকে শুরু করে মরণব্যাধি এইডস্ হয়ে ধীরে ধীরে মৃতু্য। আর নৈতিক ও মানসিক পরিণাম হিসেবে বিবর্তিত হয় একটি সুস্থ জাতি থেকে মানসিক বিকারগ্রস্ত, পঙ্গু, পরনির্ভর ও ক্ষয়িষ্ণু জাতিতে। (সাধারণ অর্থে)

ইসলাম পৃথিবীতে এসেছে মানুষের দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর ও সফল করার মাধ্যমে আখেরাতের মুক্তি অর্জন করিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে তাই ইসলামের বাণী যেমন সর্বোচ্চ সতর্ক তেমনি এর শাস্তিও অত্যন্ত কঠোর। সকল অশ্লীলতারই চুড়ান্ত রূপ ব্যভিচার; কিংবা সকল অশ্লীলতাই ব্যভিচারের ছোট ছোট অংশ। আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا ((আর যেনার (ব্যভিচার) ধারে-কাছেও যেও না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ।)) [সূরা আল-ইসরাঃ ৩২] অশ্লীলতা থেকে নিয়ে ব্যভিচার পর্যন্ত সকল পর্যায়ে লিপ্ত হওয়া তো দূরের কথা; এসবের নিকটবর্তী হওয়ার ক্ষেত্রেও আমাদের স্রষ্টার কঠোর নির্দেশ হচ্ছে- ((ধারে-কাছেও যেও না!))। তদুপরি অশ্লীলতার সর্বনিম্ন (চুড়ান্ত অর্থে) ধাপ "যেনা"র শাস্তি ইসলাম নির্ধারণ করেছে অবিবাহিত যেনাকারী/যেনাকারিণীর জন্য আশি বেত্রাঘাত এবং বিবাহিতদের জন্য পাথর ছুঁড়ে মৃত্যুদণ্ড! এহেন কঠোর ব্যবস্থাপনাই একদা উপহার দিতে পেরেছিল একটি নির্ভয়, সুন্দর ও সফল সমাজ ব্যবস্থা। আর ঠিক এহেন কঠোরতার ভয়েই অশ্লীলতাপন্থী ও যেনাকারী এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকেরা ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে জীবনপণ সক্রিয়।

অথচ ইসলাম যেমন ধ্বংস ও অধঃপতন চায় না, তেমনি কথায় কথায় মৃত্যুদণ্ডও চায় না। কারণ, মানুষের জন্যই তো এই ব্যবস্থাপনা, এই সৌন্দর্য মণ্ডিত সমাজ নির্মাণ। তাই যেমন মানুষের ভুল-ত্রুটিতে উদারতা প্রদর্শন অথচ সমাজ সংশোধন ও সুস্থতা রক্ষায় ন্যায় বিচারের উদাহরণ রয়েছে নিম্নের হাদীসে। তেমনি ইসলাম তার অনুসারীদেরকে এমনি সঠিক শিক্ষা দান ও সেসবের বাস্তবায়নে সফল সম্ভব মনোভাব তৈরী করতে পেরেছে, যার প্রেক্ষিতে সমাজ থেকে সকল প্রকার অশ্লীলতা তো দূর হয়েছেই; বরং কেউ গোপনে অশ্লীল কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়লে আখেরাতের জবাবদিহিতার বোধের প্রাবল্যে তথা ঈমানের উচ্চ পর্যায়ের কারণে নিজের অপরাধের শাস্তি পেতে নিজ থেকেই হাজির হওয়ার মত নজির উপস্থাপন করেছে; যার উদাহরণ নিম্নের বর্ণিত হাদীস-

আবু নাজাইদ ইমরান বিন হুসাইন আল-খুযা'ঈ রাদিয়াল্লাহু 'আনহুমা বর্ণনা করেন যে, জুহাইনা বংশের এক মহিলা ব্যভিচার জনিত কারণে গর্ভবতী হয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে উপস্থিত হলো এবং বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছি, আপনি আমাকে এর শাস্তি দিন। নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডেকে বললেনঃ এর সাথে সদয় ব্যবহার কর এবং সে সন্তান প্রসব করলে আমার কাছে নিয়ে এসো। তার অভিভাবক তাই করলো। অতঃপর তিনি তার সম্পর্কে নির্দেশ দিলেন এবং তদানুযায়ী তার কাপড় তার দেহে শক্ত করে বেঁধে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। অতএব, তাকে সেভাবে হত্যা করা হলো। অতঃপর তিনি তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। উমার রাদিয়াল্লাহু 'আনহু তাকে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এর জানাযার সালাত আদায় করলেন, অথচ সে যেনা করেছে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সে এমন তাওবা করেছে, যদি তা মদীনার সত্তর ব্যক্তির উপর বন্টন করে দেয়া হয়, তবে সেই তাওবা তাদের সবার (পাপ মোচনের) জন্য যথেষ্ট হবে। (হে উমার!) সে তো তার জীবনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবান করে দিয়েছে। তুমি কি এর চেয়েও উত্তম কিছু পেয়েছ? [মুসলিমঃ ১৬৯৬]

আজো অশ্লীলতা সংঘটনকারী এবং সেসবের দোসরদের জন্য তাওবার দুয়ার খোলা রয়েছে; সুযোগ রয়েছে তাদের জীবনকে তাদের পরম প্রভু আল্লাহর জন্য নিবেদতি করার; যাঁর দিতে তারা প্রতিনিয়ত ধাবমান। শুধুমাত্র ইসলামেই এমন সর্বোচ্চমানের নৈতিক শিক্ষা বিদ্যমান রয়েছে। আর নৈতিকতা ততদিনই মানুষের জীবন ধারায় প্রয়োজন যতদিন তাদের উপস্থিতি বর্তমান। অতএব, ইসলামও ততদিন পর্যন্তই তথা দুনিয়ার চুড়ান্ত ধ্বংস কিংবা কেয়ামত পর্যন্তই মানুষকে নৈতিকতার দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম বিধায় "ইসলাম" সর্বযুগের জন্য সর্বাধুনিক জীবন পদ্ধতির নাম।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)

পরের পর্ব পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৫৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অথচ সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল পানিকে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৫


তারেক রহমান এখন চীনে আছেন। গতকাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করলেন। তিস্তা নদীর জন্য কারিগরি সহায়তা চাইলেন, নদীভাঙন ঠেকানোর উপায় খুঁজলেন, এমনকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×