somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

@ সর্বযুগের সর্বাধুনিক জীবনপদ্ধতির নামঃ ইসলাম(২১)

০৯ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগের পর্ব পড়ুন । মদ, মাদক তথা নেশার সওদাগর ও সেবীদের বিরোধিতার মুখে ইসলামঃ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম বিরোধিতাকারীদের আরেকটি অংশ হচ্ছে মাদকদ্রব্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত সকল প্রকারের অপরাধী চক্র। এরা দু'ভাগে দু'দিক থেকে এই বিরোধিতায় লিপ্ত। এক: ব্যবসায়ী সমপ্রদায় এবং দুই: সেবনকারী সমপ্রদায়। শুধুমাত্র ইসলাম কেন, এরা সকল সামাজিক সৌন্দর্যের জন্যই হুমকি স্বরূপ। ব্যবসায়ীরা তাদের হিংস্র স্বার্থ আর সেবনকারীরা ধ্বংস, অবক্ষয় এবং অপচয় ছাড়া চতুর্থ কোন কিছু ভাবতে পারেনা। তারা মৃতু্য গিলে গিলে রঙিন পৃথিবী দেখতে চায়, কিন্তু বেশীদিন তা দেখা হয় না। শুধু তাদের একার ধ্বংসই ডাকে না ওরা, সমাজের যাবতীয় অশান্তির একটা বিরাট অংশ তাদের তৈরী, পটে এবং প্রস্থানে। শান্তিপ্রিয়দের শান্তির নিদ্রাকে অশান্ত করে তোলে মাদক সম্পর্কিতরা। স্বীয় জীবনের ভয় তো রয়েছেই, সন্তানাদির বিপথাশংকা, অপহরণ, চুরি, ডাকাতি থেকে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর মত হেন কি আছে যা নেশার উন্মত্ততায় কিংবা অপ্রাপ্তিতে খোর ব্যক্তির পক্ষে সাধন করা অসম্ভব? তদুপরি সমাজের যে অংশ ধ্বংস হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাদের ঘাটতি কে পুরণ করবে? মাদকের অপর নাম কেবলি ধ্বংস আর নিঃশেষ। (প্রয়োজনটুকু পরে আসছে)

যাবতীয় নেশা ও মাদকদ্রব্যাদির ব্যবসায়ীরা সমাজের চৌকাঠে ঘুণ পোকার বিধ্বংসী মঞ্চায়ণের প্রযোজক। ওদের নিকৃষ্ট অন্তর দেখতে চায় একটি বালক অথবা যুবক/যুবতী কি করে তার জীবনটাকে ঠেলে দেয় অস্বাভাবিকতায়, কিভাবে ধীরে ধীরে মৃতু্যর অন্ধকারে হারায়! তাই দেখে ওরা তৃপ্ত করে ওদের লোভের পিশাচ-অন্তরকে আর পাতা খোলা অন্ধ দু'চোখকে। এরা মানবতার শত্রু, পৃথিবীর স্থিতিশীলতার শত্রু, শান্তি ও সমৃদ্ধির শত্রু; তাই এরা ইসলামেরও শত্রু। কেননা, ইসলাম-যার মূল অর্থ শান্তি-তাই দুনিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার যাবতীয় কল্যাণকর কাজে সম্মতি দান করে এই মহৎ জীবন ব্যবস্থা।

অন্যদিকে মাদক সেবনকারীরা লিপ্ত হয় তিন ধরনের ধ্বংস সাধনে- নিজ মস্তিষ্কের, নিজ দেহের এবং সমাজ দেহের। কবির কথা গুলো প্রণিধান যোগ্য- "এক ছিলিমে যেমন তেমন, দুই ছিলিমে প্রজা, তিন ছিলিমে উজির নাজির, চার ছিলিমে রাজা"। ছিলিমগুলোর স্পর্শ পায় কেউ কেউ অসৎ সঙ্গে, কেউ কেউ হেলায় খেলায় চাখতে গিয়ে আবার অনেকেই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আটকা পড়ে। এ এমন এক ফাঁদ, যার থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র মৃতু্য। যদি কেউ সহসাই ফিরতে পারে, অথবা কঠিন চিকিৎসার প্রেক্ষিতে পরে কখনো; তবে বলতেই হবে সে মহা সৌভাগ্যবান। অতএব, ছিলিমের এক, দুই, তিনের ধারাবাহিকতায় উজির নাজির আর নেশার রাজ্যের রাজেন্দ্রবর্গ কোনক্রমেই থমকাতে পারে না। অনিবার্য হয় মাত্রার প্রবৃদ্ধিকরণ। আর সে জন্য প্রয়োজনে পৃথিবী বিক্রয় করতেও প্রস্তুত, যদিও ফুটো কড়িটিও থাকে না পকেটে। তখনি হামলে পড়ে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে। নেশার মোহনীয় জগতে তার প্রবেশাধিকার চাই-ই চাই। এভাবে একটি সুন্দর সমাজকে ত্রাস ও বিশৃংখলার বিভিষণে রূপান্তরিত করে তোলে মদ, মাদক তথা নেশার বস্তু সেবনকারীরা।

শান্তি সবার কাম্য আর অধিকাংশ যদি শান্তিকামী হয় তবে অশান্তির নেকড়েদের প্রতিরোধের মুখোমুখি হতেই হয়। এভাবে মাদক সেবনকারী পর্যায়ক্রমিক বাধার সম্মুখীন হয়ে চাহিদা মত মাদক গ্রহণ করতে সক্ষম হয় না অধিকাংশ ক্ষেত্রে। কারণ, সবার তো আর অঢেল পড়ে নেই, তাছাড়া যার অঢেল আছে সে তো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেশার প্রসারক হয়। এদিকে নিয়মের ব্যতিক্রমে তার মস্তিষ্ক দিনে দিনে রুক্ষ হতে হতে একসময় বিকৃতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। পৃথিবীতেই তখন তার জন্য জাহান্নাম তৈরী হয়ে যায় অথবা সম্পূর্ণ বিকৃতির মাধ্যমে সে মনুষ্যত্ব হারায়। মানুষের সমাজ তখন তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় আমৃতু্য। পাশাপাশি শারীরিক অবক্ষয়ের সংযুক্তি তো রয়েছেই। মাদকাসক্ত ব্যক্তির শরীর ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারায়। যার ফলে যে কোন বড় ধরনের ব্যাধি তাকে সহজেই আক্রমণ করতে সক্ষম হয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গহানীর থেকে নিয়ে দূরারোগ্য ব্যাধিতে প্রতি বছরই অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়। তদুপরি ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে সেবনকারী এইচ.আই.ভি বা এইডস্-এর মত মরণ ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে খুব সহজেই। তাই মাদকাসক্তদের অস্বাভাবিক ও ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দৃশ্য আজ বিশ্বের ভয়ংকর অথচ পরিচিত একটি দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(মন্তব্য কিন্তু হিসেব করে--; এখনো শেষ হয়নি)

পরের পর্ব পড়ুন
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০০৭ দুপুর ১২:৪৩
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অথচ সবার আগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল পানিকে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৫


তারেক রহমান এখন চীনে আছেন। গতকাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বসে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষ করলেন। তিস্তা নদীর জন্য কারিগরি সহায়তা চাইলেন, নদীভাঙন ঠেকানোর উপায় খুঁজলেন, এমনকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোসাইপুর ১৯৭১

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:৫০



জুন মাসের পড়ন্ত বিকেল, ভ্যাপসা গরমে আগন্তুক ঘেমে একাকার। গায়ে ময়লা হাফ শার্ট আর নীল ফুলপেন্ট। শার্টের রঙ কোনো এক সময় হয়তো সাদা ছিলো, ময়লা হতে হতে এখন প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউইয়র্কের ডায়েরী: ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া থেকে লং-আইল্যান্ড

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ২৬ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৫৪


আমাদের সামার ভেকেশন চলছে এখন। প্রায় তিন মাসের ছুটি। এই ছুটিতে বসে না থেকে নিউইয়র্কের একটি ন্যাশনাল ল্যাবে জয়েন করলাম ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে! গবেষণা করে যে পৃথিবীকে উদ্ধার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×