somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুসাফির রাজীব নিবেদিত কাকপাখি পরিচালিত "কইছিলিম নে ব্লগডে কত্তি হবে তাই কল্লাম " (খুলনার ব্লগ ডে উদযাপন )

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১২ বিকাল ৩:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত মানুষ সমাজে খুব বেশী নয় ।আর তাছাড়া এ সুযোগ সবাই পায় না ।হয় ঘরে খাবার থাকে না নয়ত বনে মোষ থাকে না ।আমরা কতিপয় খুলনার ব্লগার বড়ই ভাগ্যবান যে এই ফালতু ! একটা কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পেরেছি ।ডিম ভেঙ্গে সরাসরি কুসুমে আসি ।গতকাল ১৯ ডিসেম্বর ২০১২ ছিল ৪র্থ ব্লগ দিবস ।দেশ এবং দেশের বাইরে ব্লগ ডে নিয়া যখন অনেকে হাতি ঘোড়া মারতে ছিল আমরা তখন কুইচ্চা মুরগীর মতো ঝিমাচ্ছিলাম ।বড় আশা ছিল এবার ঢাকা গিয়ে ব্লগ দিবস পালন করবো ।সে আশার গুড়ে বালি চুনাপাথর ছিটিয়ে দিয়েছেন আমিনুর ভাই আর জানা আপা ।বললেন বন্যেরা বনে সুন্দর খুলনার ব্লগার খুলনায় !তে কি আর করা, আই সি ইউ তে থাকা ইচ্ছাটাকে আবার অক্সিজেন দিয়ে তরতাজা করলাম ।ব্লগার চাইয়া পোষ্ট দিলাম ।খুলনা সম্পর্কে অন্য শহরের মানুষের ধারনা সুন্দরবনকে আমরা খাটের নীচে নিয়া ঘুমাই।ইচ্ছে হলেই খাটের নীচে হাতরে বাঘের গাল টিপে দেই ।আসলে আমাদের খুলনায় বাঘও যেমন কম তেমনি ব্লগারও আশংকাজনক ভাবে কম ।যেকয়জন আছেন তারাও আবার চাকরী বাকরীর উছিলায় শহর ছাড়া ।তারপরও শেষ মুহুর্তে নড়েচড়ে বসলাম ।শুরু তো করি শেষে যা হয় হবে ।মার সিন্নি তাউল্লায় যা করে আল্লায় !

আমি কাকপাখি,মুসাফির রাজীব,টিনটিন ,ব্রিগেডিয়ার,তুরাগ হাসান ,মায়া সহ কতিপয় ওয়াচে থাকা ব্লগার এবং অনলাইনের ভবিস্যত ছাগু ভাদা পাদা নাস্তিক মিলে পালন করলাম সবথেকে ফালতু ব্লগ ডে ।

কর্মযজ্ঞ : স্থান ঠিক হল রুপসা ব্রিজ ।কুয়াশার কারনে পোস্টার আসতে একদিন দেরী হয় ।১৮ তারিখ রাতে হাতে পাই পোষ্টার ।১৯ তারিখ ভোর ৬ টায় শুরু হয় পোষ্টার মারা ।তীব্র শীত আর কুয়াশায় বেড়িয়ে পড়ি বাইক নিয়ে ।সঙ্গী মুসাফির রাজীব আর জমিদার ।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে শুরু হয় ক্যাচাল ।তাদের ভাবখানা দেখলে মনে হয় আমরা যেন হিজবুত তাহরীর পোষ্টার মারতে এসেছি এবং এটা কবিরা গুনাহ পর্যায়ের ঘোরতর অন্যায় একটা কাজ ।যাই হোক বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজী করালাম ।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কেবল অহংকার এবং অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকলে এদের মতো দায়ত্বশীল মানুষ সমাজে আর পাওয়া যাবে না ।

অনুষ্ঠান শুরু করার কথা ছিল বিকেল ৪ টায় ।আবারো মাংসের মধ্যে হাড্ডি হয়ে আসল কুয়াশা ।পরিবহনের গাড়ী লেইট যথাসময়ে ব্যানার হাতে না পাওয়ার কারনে কর্মসুচী কিছুটা পিছাতে হলো ।৩টা নাগাদ চলে আসলেন মুসাফির রাজীব,ব্রিগিডিয়ার আর মায়া ।ইতিমধ্যে ফোন করে আসার কথা বলেছেন টিনটিন ভাই আর ছোটভাই তুরাগ হাসান ।আমি এবং মুসাফির বিকেল ৫ পর্যন্ত এস এ পরিবহনে কিন্তু ততক্ষনেও গাড়ী এসে পেীছায় নি ।বাধ্য হয়ে ফিরে আসলাম ।ছোটভাই তুরাগকে একটু বেশী উত্তেজিত মনে হল সে বিকাল ৪ সময় রুপসা ব্রিজে গিয়ে হাজির ।সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আসলেন টিনটিন ভাই ।সারক্ষন ক্যাপ পড়া ছিলেন তবে আশংকা করছি তার মাথার চুল আনুপাতিক হারে সামান্য কম আছে ।ব্রিগেডিয়ারের বউয়ের হাত পুড়ে গেছে এই নিয়ে যতটা না চিন্তিত তার চেয়ে বেশী চিন্তিত ১৯ তারিখ হরতাল নিয়ে ।সারাক্ষন কেবল সিগারেটের মুখে আগুন জ্বালাতেই দেখলাম ।নিপাট ভদ্র ভালো ছেলেদের চেহারা ভাবলে চোখের সামনে যেমন একটা নাদুস নুদুস মুখ ভেসে ওঠে তুরাগ ছেলেটি ঠিক তেমনি ।আর মুসাফির তো পুরাই হার্টর্থব ।এমন স্মার্ট আর সুন্দর একটা ছেলে ঠোট লাল করে মাঝে মাঝে পান চিবাবে এই দৃশ্য আমার কাছে সহ্য করার মতো না ।যাইহোক অনেক ত্যানা পেচানো হইল যেটা আদতে বিশ্বব্যাংকের কাজ ।সব গোছগাছ করে সিদ্ধান্ত নিলাম সন্ধা ৭ টায় শুরু করব অনুষ্ঠান ।টিনটিন ভাই হটাত ঘোষনা করলেন তার জরুরী বাড়ী যেতে হবে।মামাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে ।প্রচুর পরিমানে মিষ্টি কিনে দিয়ে তিনি দায়িত্ব শেষ করে বাড়ী ফিরে গেলেন ।সাড়ে ৭ টার দিকে শুরু হল অনুষ্ঠান ।কেক,মোগলাই,কোক,মিষ্টি,সামুচা খাওয়ার ফাকে ফাকে আড্ডা আলোচনায় ব্রিজ গরম করে ফেললাম ।রাত সাড়ে ৯টায় একবুক আপসুস নিয়ে বাড়ীর পথ ধরলাম ।ঈশ কেন যে একটু আগে থেকে আয়োজন টা করতে পারলাম না ।তাহলে হয়ত আরো ভাল হতো ।

অনুষ্ঠানের স্থান : রুপসা ব্রিজ








নিশি র‌্যালী মাঝে শক্ত হয়ে বসে আছেন ব্রিগেডিয়ার সাহেব ।ব্রিযেডিয়াররা মনে হয় এমনই হয় !







এই কেকটাই কাইট্টা কুইট্টা ছাড়খার কইরা খাওয়া হয়






জ্বী আমরা মশা মারতে কামান দাগাই কেক কাটি চাপাতি দিয়া !






কেকটার বারো বারো বারো বাজাচ্ছেন কাকপাখি,মুসাফির রাজীব,তুরাগ হাসান আর ব্রিগেডিয়ার ।






কাউয়ারে কেক দেয় মুসাফির !







এইবার উল্টা কেস মুসাফিররে কেক দেয় কাউয়ায়







ছোটভাই কেক খাচ্ছেন না ভয় পাচ্ছেন বুঝতেছি না পাশেই যে ব্রিগেডিয়ারের অবস্থা !








সামুচাও কি চাপাতি দিয়া কাটতে হয় নাকি ? ব্রিগেডিয়ার বড় নৃশংষ !








আমার হাতের সামুচা খান এখন কোথায় বলেন তো ?







আমরা কজন ভাবিস্ট ব্লগার !হোগা মরা কাউয়ার আকাশ ফাড়া ডাক ।







ছবি তো দেখি ছবি তোলনে ওস্তাদ !








আমি নিশ্চিত এই ছেলেটা বড় হয়ে ছাগু হবে !এর ফ্রেন্ড লিস্টে টমসম বেগম আছে ।








বর্তমান আর্থ সামাজিক প্রেক্ষপটে হোগলা পাতার গুরুত্ব তাতপর্য বিষয়ক গিয়ান গর্ভের আলুচেনা ।








মিষ্টি ক্রেডিট গোজ টু টিনটিন ভাই !








সবাই মিলে একফ্রেমে !









মুসাফির রাজীব আর ভিপি সুমন








পরিশেষে ফুলগুলো চুরি করে আনার জন্য জবের কে ধন্যবাদ ।




আরো ছবি আপ করা হবে !


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১২ রাত ১২:৫১
৩৪টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×