somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসম্ভব সুন্দর একটি লেখা , পড়লে ভালো লাগবেই

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যখন ছোট ছিলাম
খেলতে যেতেম মেঘের দলে,
একদিন এক মেঘবালিকা, প্রশ্ন
করলো কৌতুহলে-
"এই ছেলেটা নাম কি রে তোর??"
আমি বললেম, "ফুসমন্তর"
মেঘবালিকা রেগেই আগুন-
"মিথ্যে কথা, নাম কি ওমন হয় কখনো??"
আমি বললেম, "নিশ্চই হয়, আগে আমার গল্প
শোন!!"
সে বললো, "শুনব না যা-"
"সেই তো রাণী, সেই তো রাজা-"
"সেই তো একই ঢাল-তলোয়ার"
"সেই তো একই রাজার কুমার পক্ষীরাজে"
"শুনব না যা ওসব বাজে"
আমি বললেম, "উম্ তোমার জন্যে নতুন
করে লিখব তবে!"
সে বললো, "সত্যি লিখবি??"
"বেশ! তাহলে মস্ত করে লিখতে হবে!"
"মনে থাকবে? লিখে কিন্তু আমায় দিবি"
আমি বললেম, "তোমার জন্য লিখতে পারি এক
পৃথিবী"।
লিখতে লিখতে লেখা যখন সবে মাত্র দুচার পাতা
হঠাৎ তখন ভূত চাপলো আমার মাথায়
খুজতে খুজতে চলে গেলাম ছোটবেলার মেঘের
মাঠে
গিয়ে দেখি চেনা মুখ তো একটিও নেই এই
তল্লাটে।
একজনকে মনে হল ওরি মধ্যে অন্যরকম
এগিয়ে গিয়ে বললেম তাকে, "তুমি কি সেই??
মেঘবালিকা তুমি কি সেই??"
সে বললো, "মনে তো নেই আমার ওসব
মনে তো নেই"
আমি বললেম, "তুমি আমায় লেখার
কথা বলেছিলে"
সে বললো, "সঙ্গে আছে? ভাসিয়ে দাও গাঙের
ঝিলে-"
"আর হ্যাঁ শোন..এখন আমি মেঘ নই আর.."
"সবাই এখন বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়.."।
বলেই হঠাৎ, এক পশলায়
চুল থেকে নখ আমায় পুরো ভিজিয়ে দিয়ে
অন্য অন্য বৃষ্টি বাদল সঙ্গে নিয়ে
মিলিয়ে গেলো খরস্রোতায়, মিলিয়ে গেল
দূরে কোথায়, দূরে, দূরে..
"বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়..বৃষ্টি বলে ডাকে আমায়"
আপন মনে বলতে বলতে আমি কেবল বসেই
রইলাম
ভিজে একশা কাপড় জামায়
গাছের তলায় বসেই রইলাম,
বৃষ্টি নাকি মেঘের জন্য??
এমন সময় অন্য একটি বৃষ্টি আমায়
চিনতে পেরে বললো,
"তাতে মন খারাপের কি হয়েছে??"
"যাও ফিরে যাও, লেখো আবার"
"এখন পুরো বর্ষা চলছে"
"তাই আমরা সবাই এখন নানান দেশে ভীষণ
ব্যস্ত"
"তুমি-ও যাও মন দাও গে তোমার কাজে"
"বর্ষা থেকে ফিরে আমরা নিজেই যাবো তোমার
কাছে"।
এক পৃথিবী লিখবো আমি
এক পৃথিবী লিখবো বলে ঘর ছেড়ে সেই
বেড়িয়ে গেলাম।
ঘর ছেড়ে সেই ঘর বাধলাম গহন বনে
সঙ্গী শুধু কাগজ কলম
একাই থাকবো, একাই দুটো ফুটিয়ে খাবো
দু এক মুঠো ধুলোবালি
যখন যারা আসবে মনে তাদের লিখবো, লিখেই
যাবো
এক পৃথিবীর একশো রকম স্বপ্ন দেখার
সাধ্য থাকবে যেই রূপকথার
সেই রূপকথা
আমার একার।
ঘাড় গুঁজে দিন লিখতে লিখতে
ঘাড় গুঁজে রাত লিখতে লিখতে
মুছেছে দিন
মুছেছে রাত
যখন আমার লেখবার হাত অসাড় হলো
মনে পরলো সাল কি তারিখ
বছর কি মাস সেসব হিসেব আর ধরিনি।
লেখার দিকে তাকিয়ে দেখি
এক পৃথিবী লিখবো বলে একটা খাতাও শেষ
করিনি।
সঙ্গে সঙ্গে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এল, খাতার উপর
আজীবনের লেখার উপর
বৃষ্টি এল এই অরণ্যে।
বাইরে তখন গাছের নীচে নাচছে ময়ূর আনন্দিত
এ-গাছ ও-গাছ উড়ছে পাখি
বলছে পাখি, "এই অরণ্যে কবির জন্য
আমরা থাকি"
বলছে ওরা, "কবির জন্য, আমরা কোথাও,
আমরা কোথাও, আমরা কোথাও হার মানিনি"
কবি তখন কুটির থেকে
থাকিয়ে আছে অনেক দূরে
বনের 'পরে, মাঠের 'পরে, নদীর 'পরে
সেই যেখানে সারাজীবন বৃষ্টি পরে, বৃষ্টি পরে
সেই যেখানে কেও যায়নি
কেও যায়না কোনদিনি
আজ সে কবি দেখতে পাচ্ছে
সেই দেশে সেই ঝর্ণাতলায়
এদিক ওদিক ছুটে বেড়ায়
সোনায় মোড়া মেঘ হরিণী
কিশোর বেলার সেই হরিণী।
- "মেঘবালিকার জন্য রূপকথা" - জয় গোস্বামী
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×