সামারটা মনে হয় এসেই গেলো। এ বছর একদিনের জন্য বরফের দেখা পাওয়া গেলো। সপ্তাহান্তে নুরেনবার্গ ঘুরতে গিয়ে বরফ ঝড়ে বাইরেই বের হতে পারিনি। একবার বাহির হয়ে বরফ নিয়ে কিছুক্ষন ঢিলাঢিলি করেই ক্ষান্ত।ঘরে বসে ইচ্ছে মতো রান্না করে দুই দিন থেকে চলে এসেছি। প্রতি সামারেই সবার বাসার বেলকনগুলো ফুলে ফুলে সয়লাব। আমাদের বাসার কোন বারান্দা নেই। সেটা নিয়ে মায়ের মনে অনেক দু:খ। বাসা বদল ও করতে চায় না। ফ্লাটে থাকতে আমার বাসায় বারান্দা ছিল কিন্ত ওখানে কোন ফুল ফুটতো না। দুর থেকে থাকালে একমাত্র ফুল ছাড়া বারান্দা ছিল আমাদের ফ্লাট। অনেকদিন রুমমেটের সাথে আলাপ হয়েছে ফুল কেনার। কিনে ও ছিলাম। কিন্তু যন্তের অভাবে ফুল ফুটাতে পারিনি।
শীতে সাধারনত সাইকেল চালানো হয় না। সামার আসা উপলক্ষ্যে সাইকেলটাকে একটু ঠিক করতে হবে।ছোট বোনের চিল্লানো আর ভালো লাগে না। আমার সাথে নাকি সাইকেল চালাতে উনার মজা লাগে(আইসক্রিম ফ্রিতাই)।
হঠাৎ করে রুমমেট দেশে চলে গেলো। দেশে যোগাযোগের মাধ্যম টেলিফোনটাই এখন বিকল। একটা voip তে 11 ইউরো দিয়ে রেজি: করেছিলাম ফ্রি কথা বলার জন্য। পুরো ধরা
। দেশে উনার টাকার দরকার। আমি নিজেই বেশি টাকা নিতে মানা করে দিয়েছিলাম। বন্ধুকে ফোন করে বল্লাম যতো লাগে দিয়ে দিতে। যাক, সমস্যার সমাধান। বন্ধুদের ব্যাপারে আমার কপালটা অনেক অনেক ভালো। একদম জানের দোস্ত যাকে বলে।এখান থেকে যখন যা আদেশ হয় সাথে সাথে পালন ।
সামারে আমার অফিসের জনালা পর্দা দিয়ে বন্ধ থাকে। রুমটা 16 তলায়। কাছেই ফ্রাঙ্কফুট এয়ারপোর্ট। লাইন ধরে প্লেনের উঠানামা দেখা যায়। জানালা দিয়ে থাকালেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। এতো কষ্টের জীবন ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে ইচ্ছেমতো টাইমের তোয়াক্কা না করেই বাইরে বের হয়ে অনেক্ষন বসকে নিয়ে ঘুরে আসি। বস আবার আমার থেকে একটু বেশি পাগল। জার্মান কাউকে আমি এরকম ফ্রি হতে দেখিনি। ঐদিনের আলাপ ছিল সে কোন কোন pros মেয়েদের সাথে sex করেছে। ওদের ছবি ও ছিল। উনার পরবর্তি টার্গেট আমাদের অফিসের রিসিপসনের একটা মেয়ে। আমি বলি তুমি হালায় একটা লুচ্চা(ক্লোজআপহাসি)। তুমি এইডস টেস্ট করছো। বলে-হ্যা করেছি।
সেই ভোরে ঘুম থেকে উঠা।কোন মতে এক কাপ চা/কফি। দৌড়ে ট্রাম ধরা, ট্রামে থেকে ট্রেনে, ট্রেন থেকে আবার ট্রামে/বাসে অফিস। 9/10 ঘন্টা। আবার বাস,ট্রাম করে বাসায়। নামায,খাওয়া,ঘুম। একঘেয়ে জীবন
।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



