স্কুল থেকেই হোস্টেল জীবন শুরু। একদিকে ছিল খুব কষ্টের জীবন অন্যদিকে বেশ মজার। হোস্টেলে প্রচন্ড কড়াকড়ি ছিল। স্কুলে ক্লাসের পর আমাদের হোস্টেলবাসীদের জন্য ছিল কিছু স্পেশাল ক্লাস।সকালে এবং সন্ধ্যায় ক্লাস। শুধু বিকেলে আছর নামায পড়ার পর একটু বাইরে যাওয়ার অনুমতি মিলতো। যারা হোস্টেল থেকে পলানোর প্লান করতো ঐ সময়টাই ছিল মোক্ষম। সন্ধ্যার পর যখন নাম ডাকা হতো তখন জানা যেতো কতোজন পলাতক
। তবে সবচে কঠিন পলানোর রাস্তা ছিল পানির পাইপ বেয়ে দেয়াল টপকানো। মাঝে মাঝে ভাবতাম কতোটুকু ডেসপারেট হলে একটা ছেলে ভয়ের তোয়াক্কা না করে জীবন বাজি রেখে পলায়। প্রথম প্রথম পলানো ছাড়া কোন উপায় থাকতো না।এতো কম বয়সে হোস্টেল লাইফ কার ভালো লাগে।আমাদের অবসহা ছিল ভিন্ন। প্রত্যেক সপ্তাহেই আমাদের বাসায় অবশ্যই যেতে হতো। প্রথম প্রথম গাড়ি আসতো। পরে বলা হলো তোমরা যথেষ্ট বড়ো হয়েছো এখন থেকে নিজে নিজে আসবে যাবে। আমাদের খুশি দেখে কে
। নিজে নিজে গেলে কিছু শপিং করা যায়।বন্ধুরা ও আমাদের কাছে টাকা দিয়ে কিছু কিনার জন্য বলতো। হোস্টেলে নিজের কাছে কোন টাকা রাখা নিষেধ। মাঝে মাঝে সবাইকে মিটিং রোমে রেখে সার্চ শুরু হতো।সবার সে কি টেনশন।
স্কুলটি ছিল জামাত নিয়ন্ত্রিত। বাসা থেকে কড়া নির্দেশ ছিল। ওখানে পড়াশোনা করতে গিয়েছো,তাই কোন প্রকারের পার্টি না। ঐসময় ফুলকুড়িতে নিজেকে জড়িয়ে নিলাম। পড়ার পাশাপাশি বেশ ভালোই লাগলো। বিভিন্ন গান,নাটক। পড়াশোনাতে বেশ টান পড়লো।বাসায় রেজালেটর রেকর্ড গেলে সব বন্ধ ঘোষিত হলো
। কলেজ,ভার্সিটিতে আর সময় হয়নি।তবে নিজের কাছে গানের অনেকগুলো কালেকশন ছিল। সময়ের স্রোতে কালেকশন ও গায়েব। হঠাৎ করে নেটে পেয়ে গেলাম গানগুলো। রাতে সাউন্ড দিয়ে শুনতেছিলাম।ছোটবোন এসে বলে এগুলোতো ছোটদের গান তুমি শুনতেছো কেন?ওকে ধমক দিয়ে বল্লাম-যা ভাগ এখান থেকে। আমি চলে গেলাম আমার সেই স্কুল জীবনে। দুষ্টমি ভরা দিনগুলো। এতো কড়াকড়ির মধ্যে ও আমরা ছিলাম নিয়ম ভাঙ্গার উস্তাদ
।ধরা ও খেতাম মাঝে মাঝে। তবে গ্রামের স্কুলের মতো বেত মারা হতো না
। রাত জেগে সেবা প্রকাশনির বই পড়া।সাইমুমের সিরিজগুলো ও পড়তাম। কিন্তু ঐ সিরিজগুলো আসতো বেশ দেরী করে। সেই দিক থেকে সেবা প্রকাশনির বইগুলো ছিল বেশ সহজলভ্য।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



