আজ দেশে থাকলে কি করতাম তা বলতে পারি না,তবে পূর্বের কর্যকরন থেকে ধারনা করতে পারি হয়তো।এমনিতেই "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো"আমার গানের খাতায় সবার উপরে।অদ্ভুত এক আবেগ ,অনুভুত হয় সেই বাচ্চা কাল থেকে।আমাদের বাড়ীর পিছন দিক দিয়ে রাস্তা গিয়েছে।সেই কাক ভোরে যখন মানুষ হাতে ফুল নিয়ে খালি পায়ে মিছিলে যেত,তখন বাড়ীর দেয়ালের উপর বসে বসে দেখতাম।সকাল যখন হাটতে শিখে তখন যেতাম স্কুলে।আরও একটু বেড়ে উঠার পর আমাকেও যেতে হতো সেই ভোরে।সারা দিন ব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে ঘরে ফিরে আসা। 21 আর বাউল বাড়ীর ফুল চুরি একাকার হয়ে আছে আমাদের আশৈশব।একুশ এর কথা বলব আর বাউলবাড়ীর কথা হবে তা হয় না।আমাদের এলাকার একমাত্র সৌখিন ফুল বাগান।বিশাল সে বাগান অনেক যত্নে করা।আগের রাত থেকেই বিশেষ পাহারা বসত।বেড়ায় যদি খেত খায় ।সে খেতের ফসল কি আর রাখা যায়!!!প্রতি বছরই তাই 21 এর সকালে পুরা বাগান সাফা হয়ে যায়।বাড়ীর মালিক ও ফুল পায় না অনেক সময়।
ঢাকায় আসার পর 21এর আগের দিন ক্যাম্পাসে গিয়েছি প্রতি বার।তখন ও ক্যাম্পাসের কেউ না,তবু ও যেতাম।আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ ঘুরে ঘুরে আল্পনা করা দেখা।সেই শাহবাগ মোড় থেকে শহীদমিনার,হেটে হেটে আল্পনা করা দেখা।মন্ত্রমুগ্ধের মতো হেটে যেতাম,অবাক হয়ে দেখতাম রং আর টানের খেলা।
সাথে আরও কাউকে পেলে সন্ধ্যার পর রাস্তায় বসে আড্ডা।
দিনের শেষে রাত আসে,12টায় সেই গান আবার শুনা যায়,নিজের ভিতরটা কেমন মুচড়ে উঠে ,গলার কাছে কি যেন দলা পাকিয়ে থাকে,বার বার বের হয়ে আসতে চায়...চোখ ভিজে উঠে।
আজ দেশে থাকলে আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়ে আল্পনা করানো দেখাতাম,ভোরে উঠে শহীদমিনারে যেতাম.............
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:৫৯