somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তবেই মিলবে মুক্তি

১২ ই মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৬:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গাজী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমশ অস্থির থেকে অস্থির হয়ে উঠছে। দিন যতই যাচ্ছে পরিস্থিতি ততটাই ঘোলাটে রূপ নিচ্ছে।
সাধারণ জনগণ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের পরস্পর বিরোধী অবস্থানের কারণেই অস্থিরতার তিব্রতা ক্ষনেক্ষনে সহিংসতায় রুপ নিয়েছে।
বিশেষ করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ইস্যুতে সম্প্রতি দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
একদিকে দণ্ডাদেশে অসন্তুষ্ট হয়ে নতুন প্রজন্মের উদ্যোগে শাহবাগে চলছে গণজাগরণ মঞ্চের নানান কর্মসূচি।
অন্যদিকে রায় প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে জামাত-শিবিরের সহিংসতায় দিন দিন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
তাদের একের পর এক হরতাল, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় অগ্নিমূর্তি ধারণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটেছে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডও। এরই মাঝে আগমন ঘটে বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের।
ফলে নতুন করে শুরু হয় অস্থির বাংলাদেশে নাস্তিক-আস্তিক বিতর্ক । এমন পরিস্থিতিতে চরম আতংকিত হয়ে পড়ে দেশেরসাধারন মানুষ।
সুসংবাদের অপেক্ষায় দেশবাসী যখন চাতক পাখির মত চেয়ে আছে সে সময় আবার ঢাকার অদূরের সাভারে একটি বহুতল ভবন ধসে স্মরণকালের ভয়াবহ মানববিপর্যয় ঘটে।
অনেকে অবশ্য মনে করে ৪২ বছরের দুষ্টু রাজনীতির কারণে রানা প্লাজা ধসে পড়েছে এবং প্রান হারাতে হয়েছে হাজার খানেক খেটে খাওয়া নিরীহ মানুষকে।
মানুষের এমন বীভৎস ও করুণ মৃত্যু হতে পারে, তা ভেবে সমগ্র দেশের মানুষ স্তম্ভিত ও হতবাক।
মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় হেফাজতে ইসলামের অবরোধ ও তান্ডবলীলা।
আবারও প্রানহানির ঘটনা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবার আন্তজার্তিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে উঠে বাংলাদেশ।
দেশের বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনায় কেবল দেশের মানুষই নয় উদ্বিগ্ন বিদেশীরাও।
এছাড়াও বড় একটি সমস্যা তৈরি হয়ে আছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে।
অনেকেই মনে করেন , বর্তমান মহাজোট সরকার যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল না করত তাহলে বিরোধী জোটের আন্দোলন এত সহিংস হত না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বাংলাদেশ আবার অনিশ্চিয়তার মাঝে ডুবতে বসেছে। হরতালের সংস্কৃতি থেকে প্রায় বেরিয়ে আসা বাংলাদেশের গণতন্ত্র আবারো সহিংস রূপ ধারণ করছে।
বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া কোন সুষ্ঠু অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কেননা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরকে বিশ্বাস করতে চায় না। আর এ কারনেই দীর্ঘ আন্দোলন, ১৭৩ দিনের হরতাল আর অসংখ্য মায়ের বুক খালি করে অর্জিত হয়েছিল নির্দলীয় নিরপেক্ষ (?) তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি । সেই ইস্যুতে আজ আবার সহিংসতা, বাস-ট্রেনে আগুন, ভাঙচুর, হত্যা শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির জন্য এক অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় অপেক্ষা করছে।
তাই সবাই চলমান এই পরিস্থিতির পরিবর্তন চায়। কিন্তু কি ভাবে? আমার মনে হয়,সবার আগে যে পরিবর্তন প্রয়োজন তা হল আমাদের নিজেদের চিন্তা-ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গীতে পরিবর্তন আনা। বিবেকবান, সত্যপ্রিয় ও শান্তিবাদী হওয়া এবং মানবতা বোধ জাগ্রত করা।
সাথে সাথে রাজনৈতিক সহিংসতা নিরসন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন প্রতিহিংসা, অহঙ্কার , রাজনৈতিক অপকৌশল, ক্ষমতার মোহ, ষড়যন্ত্র, অতি মুনাফার লোভ পরিহার করে দেশ প্রেম নিয়ে সকল রাজনৈতিক দলের এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের শর্তহীন কার্যকর সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতা। চলমান সমস্যা সমাধানে সফল সংলাপের কোন বিকল্প নাই।
আর সফল সংলাপের জন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে দুইটি কাজ সম্পাদন করতে হবে। প্রথমত সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে দ্বিতীয়ত এর জন্য দলগুলোকে একে অপরের প্রতি আক্রমণাত্মক বক্তব্য কমাতে হবে। যদি এমনটা করা সম্ভব হয় তবেই মুক্তি মিলবে আমাদের। উন্নয়ন- অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে আমাদের লাল সবুজের বাংলাদেশ।
এমনটাই বলেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা। মোজেনা বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারলে বাংলাদেশ পরবর্তী এশিয়ান টাইগার হিসেকে প্রতিষ্ঠিত হবে।
[email protected]
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×