somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলাপন-২

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ বিকাল ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখন বিকেল সাড়ে পাঁচটা। আদ্রিয়ান্না ইউনিভার্সিটিতেই আছে। এই মাত্র যে ক্লাসটি শুরু হোল সেই সাবজেক্টের নাম অর্গানাইজেশনাল বিহ্যাভিওর।
যিনি ক্লাস নিচ্ছেন উনি ঢাকা ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের এসোসিয়েট প্রফেসর।

যেহেতু এটা একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তাই অন্যান্য অনেক পাবলিক ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি এখানে এসে পার্ট-টাইম কিংবা কন্ট্র্যাক্টে ক্লাস নেন।
আজকের টপিকটা হচ্ছে Managing Stress and the Work-life Balance.
টিচার লেকচার দিচ্ছেন, কোন কোন কাজে বা কোন জবে সবচেয়ে বেশি স্ট্রেস থাকে সে বিষয়ে। উনি বললেন, সমীক্ষায় দেখা গেছে সব চেয়ে বেশি স্ট্রেস হচ্ছে ইউ এস প্রেসিডেন্ট এর পদে এবং এই জবের স্ট্রেস স্কোর হোল 176.6
এবং এর পরে স্ট্রেস বেশি ফায়ার ফাইটারের জবে যার স্ট্রেস স্কোর 110.9
আর তৃতীয় স্থানে আছে সিনিয়র এক্সিকিউটিভের জব এবং এক্ষেত্রে স্ট্রেস স্কোর 108.6
সবচেয়ে কম স্ট্রেসের জব হচ্ছে বুক কিপারের যার স্ট্রেস স্কোর মাত্র 21.5

আদ্রিয়ান্না লেকচার শুনতে শুনতে একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেল।
এম বি এ এর পাশাপাশি ও একটি মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানিতে এক্সিকিউটিভ পদে জয়েন করেছে। ও একদিন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হবে।

আদ্রিয়ান্না ভাবতে লাগল কি দরকার জীবনে এত স্ট্রেস নিয়ে?
৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে গাড়ি, ফ্ল্যাট এবং এক কোটি টাকা লিকুইড মানি করতে হবে এটা যেন এই সময়ের ছেলে মেয়েদের জন্য একটা ফ্যশান হয়ে উঠেছে।
অথচ আমার বাবার বয়স এখন ৬০ বছর, আমরা এখনও ভাড়া বাসায় থাকি, রিক্সায় চলাফেরা করি, বাবার এক কোটি টাকা লিকুইড মানি-তো দুরের কথা। বাবা সরকারি চাকুরী করতেন কারা-অধিদপ্তরে।
গত বছর রিটায়ার্ড করেছেন। হয়ত পেনসন স্কিমে অল্প কিছু টাকা পেয়েছেন।
তবে বাবার অনেক কলিগদের ছেলে-মেয়েদের দেখি দামী দামী গাড়িতে চড়ে, ঢাকায় ওদের অনেকের দুইটা তিনটা বাড়ি আছে। বাবার কলিগরা পারলে বাবা কেন পারল না?
আমারও কি এখন রিক্সায় না চড়ে ওদের মতো প্রাডো বা লেক্সাসে চড়ার কথা নয়? বাবার কলিগরা হয়তো চাকুরীর পাশাপাশি অন্য ব্যবসা করতেন অথবা কি করে এতো টাকা করেছিলেন বুঝি না।

কিন্তু এই যে এখনকার ছেলে-মেয়েরা দ্রুত ফ্ল্যাট-গাড়ির মালিক হচ্ছে এটা কি করে হচ্ছে?
বুঝলাম মাল্টি-ন্যাশনাল কোম্পানিতে অনেক টাকা স্যালারী কিন্তু এত দ্রুত এত কিছু করা সম্ভব কি করে?
চাকুরী করে শুধু স্যালারীর টাকা দিয়ে ঢাকায় থেকে বাসা ভাড়া দিয়ে, খেয়ে-পড়ে এত দ্রুত এতকিছু কি করে সম্ভব আমার মাথায় আসে না।
আমার এক ফ্রেন্ডকে দেখেছি ব্যাঙ্ক থেকে চল্লিশ লাখ টাকা লোণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছে। অনেক ইন্টারেস্ট সহ বিশ বছরে টাকা শোধ করতে হবে। প্রতি মাসে তাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা শুধু ইন্সটলমেন্ট দিতে হয়।
দু বছর ইন্সটলমেন্ট দেয়ার পর আর চালাতে পারল না। অবশেষে ফ্ল্যাট টি বিক্রি করে দিল।
আমি এত চাকচিক্য জীবন চাই না। সিম্পল লাইফই আমার কাছে ভাল লাগে।

-Can you tell me what is the stress score of US President?

মুহূর্তেই সজাগ হয়ে উঠল আদ্রিয়ান্না, বুঝতে পারল টিচার প্রশ্ন করেছেন। সামলে নিয়ে সে টিচারের দিকে তাকাল।
তাকানোর পর টিচার বললেন,

-Yes, please tell me Audrianna.
-Sir, this is 176.6
-Thank you.

ক্লাস শেষ করে আদ্রিয়ান্না বাসায় ফিরল। হাত মুখ ধুয়ে খাওয়ার টেবিলে গেল।

কি রান্না করেছ মা? আদ্রিয়ান্না তার মাকে জিজ্ঞেস করল।
-বুটের ডালের খিচুড়ি, পটল ভাঁজি আর গরুর গোস।
- তাড়াতাড়ি দাও খুব খুধা পেয়েছে।
-একটু অপেক্ষা কর আমি দিচ্ছি।

খাবার শেষ করে আদ্রিয়ান্না ওর রুমে গেল। হাই আসছে। বিছানায় শুয়ে পড়ল। কি যেন ভাবছিল। হঠাৎ চোখ পড়ল বইয়ের শেলফে। মনে পড়ল সেই বইটির কথা। বইটির নাম “আলাপন”।
বইটি হাতে নিলো। লেখক তার নিজের কি এক ছদ্ম নাম ব্যাবহার করেছে উচ্চারণ করতে গিয়ে জিহ্বা তালু দাঁত সব ব্যথা হয়ে যায়। এর চেয়ে মাখরাজ দিয়ে আরবি উচ্চারণ অনেক সহজ।
আলাপন-১ পড়ে ভালই লেগেছিল। আজ দেখছে আলাপন-২ তে কি আছে।

আলাপন-২
একটি বালক ঘুমিয়ে আছে। হঠাৎ একটি শব্দ ভেসে এলো, কি ভাবছ হে বালক?
বালকটি হুড়মুড় করে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠল। এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল অন্ধকার। কিছু দেখা যাচ্ছে না। বালকটি বলল, কে কথা বলছে?
শব্দ: ভয় পেওনা। তুমি সবসময়য় যাকে নিয়ে ভাব সে আমাকে পাঠিয়েছে।
বালক: আমিতো স্রষ্টাকে নিয়ে ভাবি। তুমি কে?
শব্দ: ধরো তিনিই আমাকে পাঠিয়েছেন।
বালক: কেন পাঠিয়েছেন?
শব্দ: তোমার মনের ভিতর যত আজগুবি প্রশ্ন আছে তার উত্তর দিতে।
বালক: তুমি কি পারবে?
শব্দ: চেষ্টা করে দেখি
বালক: আমি স্রষ্টাকে দেখতে চাই।
শব্দ: এটা তো খুব সহজ ব্যাপার।
বালক: কেমন করে বলত?
শব্দ: তার আগে বল তুমি তাঁকে কি রূপে তাঁকে দেখতে চাও
বালক: তার মানে?
শব্দ: তুমি কি তাঁকে মানুষ রূপে দেখতে চাও নাকি আলো কিংবা অন্য কোনও রূপে দেখতে চাও।
বালক: না, আমি তাকে তাঁর নিজস্ব রূপে দেখতে চাই
শব্দ: ও হে বালক, তিনি-তো সবার স্বরূপ দিতে দিতে সকল রূপ শেষ হয়ে গেছে। তাই নিজের রূপ রাখেন নাই।
বালক: তাঁর নিজস্ব রূপ নেই?
শব্দ: না। সকল সৃষ্টির রূপ দিতে গিয়ে তাঁর নিজের আর কোনও রূপ অবশিষ্ট ছিল না। তাই তার নিজের আঁকার নাই। তিনি নিরাকার। কেমন করে তাঁকে তুমি দেখবে?
বালক: তাকে কি আজ পর্যন্ত কেউ দেখেনি?
শব্দ: অনেকেই দেখেছে যারা মন প্রাণ দিয়ে দেখতে চেয়েছে তবে প্রত্যেকেই কোনও না কোনও মাধ্যমে দেখেছে কারণ তাঁর নিজস্ব কোনও স্বরূপ বা আকার নেই।
বালক: মাধ্যম গুলো কি কি?
শব্দ: এই ধরো আলো অথবা কোনও মানুষের আঁকার ধারণ করে তিনি দেখা দিয়েছেন
বালক: ও আচ্ছা
শব্দ: এখন বল তুমি কোন রূপে দেখতে চাও।
বালক: আমি কোনও আলো বা মানুষের রূপে দেখতে চাই না
শব্দ: তাহলে কোন রূপে দেখতে চাও?
বালক: আমার নিজের রূপে। আমি আরেক জন আমাকে দেখতে চাই।
শব্দ: ঠিক আছে। তুমি অতি স্বত্বর আরেক জন তোমাকে দেখতে পাবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ১০:১৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেষ ঠিকানা সাড়ে তিন হাত মাটির খরচ সাড়ে ৪ কোটি!

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৩

শেষ ঠিকানা সাড়ে তিন হাত মাটির খরচ সাড়ে ৪ কোটি!




কবরের জমিতে বিলাসিতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক বৈষম্যের এক নির্মম চিত্র

মানুষের জীবনের শেষ ঠিকানা মাত্র সাড়ে তিন হাত মাটি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

লিখেছেন মুনতাসির, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেউ জানেনা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪২


কেউ জানেনা
আমার একটা জগৎ আছে,
খুব গহীনে, সংগোপনে,
বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা
একটা জগৎ....
নিজের জগৎ, নিজের মত
আমার একটা জগৎ লাগে।

রোজ বিকেলে কাজের পরে
একটু যখন অবসরে,
একটু সময় চায়ের কাপে
নিজের মত, নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে পর্ণ এটাকের জনককে পাওয়া গিয়েছে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৮




ব্লগার চারাগাছ সামুতে মডারেটর নেই বলে সন্দেহ করছেন। নিজের ধারণা পাকাপোক্ত করতে সামুতে পর্ণ এটাকের প্ল্যান করছেন। ইহা কি ব্লগার?

সামুতে পর্ণ এটাকের কারণে পর্ণ সাইটের ধুয়া তুলে বিগত সরকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×