somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন: আরও একটি প্রশ্ন

২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম আলোতে মুনির হাসানের ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ লেখাটি পড়লাম। পাকিস্তানে Google-এর নিজস্ব অফিস চালু হওয়াকে সামনে রেখে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একসময় খুব বেশি দূরে না থাকা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আজ এত বড় ব্যবধান তৈরি হলো কীভাবে?

লেখাটিতে তথ্যপ্রযুক্তি রপ্তানি, উচ্চশিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি, সফটওয়্যার পার্ক, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং সরকারি নীতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এসেছে। এর সঙ্গে আমি আরেকটি মাত্রা যোগ করতে চাই: একটি দেশ আসলে কতটা নতুন জ্ঞান তৈরি করছে, এবং সেই জ্ঞানকে কতটা মেধাস্বত্ব, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক পণ্যে রূপান্তর করতে পারছে?

কারণ Google-ই প্রথম নয়।

পাকিস্তানে বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির ইতিহাস বেশ পুরোনো। Oracle সেখানে কাজ শুরু করে ১৯৮৯ সালে। পরে পাকিস্তান থেকেই বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপসহ এই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। Microsoft-ও পাকিস্তানে নিজস্ব কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৯–২০০০ সালের দিকে।

বাংলাদেশও খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না। ২০০৪ সালে ঢাকায় Microsoft-এর নিজস্ব অফিস চালু হয়। তখন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত, দক্ষ জনশক্তি, ই-গভর্নমেন্ট, স্থানীয় সফটওয়্যার শিল্প, এমনকি ভবিষ্যতে offshore software development নিয়েও যথেষ্ট আশার কথা বলা হয়েছিল।

তাই আমার কাছে Google-এর পাকিস্তানে অফিস খোলার চেয়েও আকর্ষণীয় প্রশ্ন হলো: দুই দশক আগে যখন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুই দেশেই Microsoft-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সরাসরি উপস্থিতি ছিল, তখন পরবর্তী ২০ বছরে দুই দেশের technology ecosystem কোন দিকে গেল?

এই প্রশ্নটির একটি উত্তর হয়তো পাওয়া যায় মেধাস্বত্ব ও উদ্ভাবনের গতিপথে।

WIPO-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তানের নিজস্ব আবেদনকারীরা ৪৮০টি patent application করেছেন। বাংলাদেশে সংখ্যাটি মাত্র ৮৭। অর্থাৎ পাকিস্তানে resident patent application বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ।

কিন্তু বর্তমান সংখ্যার চেয়েও আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ এর গতিপথ।

২০১০ সালে পাকিস্তানে resident patent application ছিল ১১৪টি, বাংলাদেশে ৬৬টি। অর্থাৎ ব্যবধান তখন খুব বড় ছিল না। ২০২৪ সালে পাকিস্তান পৌঁছেছে ৪৮০-তে, বাংলাদেশ ৮৭-তে।

প্রশ্নটা তাই শুধু কে কতগুলো patent করেছে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, একটি দেশ কেন ক্রমাগত তার জ্ঞান ও গবেষণাকে intellectual property-তে রূপান্তর করার সক্ষমতা বাড়াল, আর অন্য দেশটি প্রায় একই জায়গায় পড়ে থাকল?

অবশ্যই patent-এর সংখ্যা দিয়ে একটি দেশের পুরো উদ্ভাবনী সক্ষমতা বিচার করা যায় না। সব innovation patent হয় না, আবার বেশি patent মানেই সব patent গুরুত্বপূর্ণ, এমনও নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের trend উপেক্ষা করাও কঠিন।

WIPO-এর Global Innovation Index 2025-এ পাকিস্তানের অবস্থান ৯৯তম, বাংলাদেশের ১০৬তম। Innovation output-এ ব্যবধান আরও বড়: পাকিস্তান ৭৫তম, বাংলাদেশ ৯৫তম।

আমার কাছে এখানেই Google, Microsoft বা Oracle-এর উপস্থিতির চেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে আসে।

একটি দেশ কতটা নতুন জ্ঞান তৈরি করছে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে কতটা industry-র সঙ্গে যুক্ত করতে পারছে?

সেই গবেষণা থেকে কতটা product, process বা technology তৈরি হচ্ছে?

সেগুলোর কতটা intellectual property হিসেবে সুরক্ষিত হচ্ছে?

এবং শেষ পর্যন্ত সেই ecosystem কি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে দেশটিকে শুধু বাজার হিসেবে নয়, কাজ, গবেষণা ও উদ্ভাবনের জায়গা হিসেবেও দেখতে বাধ্য করছে?

আমরা প্রায়ই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলাকে উন্নতির সূচক হিসেবে দেখি। কিন্তু সম্ভবত অফিসটি কারণ নয়, ফলাফল।

Google কোথায় অফিস খুলল, Microsoft কোথায় ছিল, Oracle কোথা থেকে আঞ্চলিক কার্যক্রম পরিচালনা করল, এগুলো গল্পের দৃশ্যমান অংশ।

এর নিচের গল্পটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সেটি হলো একটি দেশের knowledge creation থেকে innovation, innovation থেকে intellectual property, এবং intellectual property থেকে economic value তৈরির সক্ষমতা।

তাই মুনির হাসানের তোলা ‘পাকিস্তান পারল, বাংলাদেশ পারল না কেন’ প্রশ্নটির সঙ্গে আমি আরেকটি প্রশ্ন যোগ করতে চাই:

একসময় কাছাকাছি জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা দুটি দেশের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ecosystem-এর মধ্যে এই ব্যবধান তৈরি হলো কীভাবে?

সম্ভবত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পারলেই Google-এর অফিস কোথায় গেল, তার উত্তরও অনেকটা পাওয়া যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫১
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×