একটা চাকুরীর খুবই দরকার। কয়েকদিন আগে
পার্টটাইম জবের একটা সার্কুলার দেখে
আবেদন করেছিলাম।আজ সকালে দেখি
মেসেজ আসছে। ভাইভার জন্য ডাকছে
বিকাল ৪ টায়।
.
বিকালে গেলাম ভাইভা দিতে। waiting room
এ লোক দেখে তো চোখ ছানাবড়া ।প্রায় ১০০
জনের মতো প্রার্থী ।যেখান লোক নিচ্ছে
মাত্র ২০ জন।আসলে বর্তমানে চাকুরীর
বাজার খুবই খারাপ। চাকুরী এখন "সোনার
হরিণ" হয়ে গেছে। হরিণ ছুটছে আর আমরাও
পিছে পিছে ছুটছি ।কিন্তু সে ধরা দিচ্ছে না
। তাছাড়া দেশে দক্ষ লোকেরও অভাব
রয়েছে। আগে দেশে শুধু বেকার লোক ছিল
কিন্তু এখন "শিক্ষিত বেকার" তৈরী হচ্ছে।
.
.প্রায় দেড় ঘন্টা যাবত বসে আছি। কিন্তু
ভাইভার জন্য ডাকছে না। এর মধ্যেই আবার
শুনলাম প্রার্থী না কি আগে থেকেই
সিলেক্ট করা ছিল। এরা শুধু formality maintain
করছে। বুঝলাম টাকা ছাড়া এ যুগে পার্টটাইম
জবও পাওয়া সম্ভব নয়।
.
ভাইভা না দিয়েই বের হয়ে আসলাম।গেটের
বাইরে দেখি এক সুন্দরি মেয়ে রাগে গজ গজ
করতেছে। সুন্দরী মেয়ে দেখে একটু কথা
বলার ইচ্ছা হল। বললাম ,
-আপি কি হইছে? খুব রেগে আছেন যে? কোন
সমস্যা?
আমার কথায় মেয়ে দেখি আরও রেগে গেল।
মনে হল অন্যের রাগটা আমার উপর ঝাড়বে।
রাগত কণ্ঠেই বলল ,
- আর বলিয়েন না ভাই । ভাইভা দিতে গিয়েই
মেজাজটা খারাপ হল। আজাইরা সব প্রশ্ন
করছে। লুচ্চা একটা।
বললাম, আপি ঘটনা খুলে বলেন তো ! এর একটা
ব্যবস্থা নিচ্ছি আমি (একটু ভাব নিলাম।
সুন্দরী মেয়েদের সামনে ভাব নেয়ার মজাই
আলাদা)।
মেয়েটি যা বলল তা ঠিক এরকম--
.
মেয়েঃ may i come in, sir?
স্যারঃ ভাইভা যখন দিতে এসেছেন তখন তো
ভিতরে আসতেই হবে।
(মেয়েটি ভিতরে এসে বসল)
স্যারঃ আপনার নাম কি?
মেয়েঃ মোছাঃ নুসরাত জাহান।
স্যারঃ সুন্দর নাম। কয় ক্লাস পড়ছেন?
নুসরাতঃ স্যার অনার্স সেকেন্ড ইয়ার এ পড়ি।
কারমাইকেল কলেজে।
স্যারঃ অ ! রাধতে পারেন।
নুসরাতঃ জ্বী পারি।
স্যারঃ নাচতে পারেন?
নুসরাতঃ না স্যার।
স্যারঃ নাচ শিখে নিবেন।গান পারেন না?
নুসরাতঃ পারি স্যার একটু একটু ।
স্যারঃ একটু না বেশি করে পারতে হবে। এ
প্রতিষ্ঠানে জব করতে হলে কাজের বাইরেও
অনেক কিছু করতে হবে। আপনার চুলগুলো তো
অনেক সুন্দর ।
চুলে কি তেল মাখেন?
নুসরাতঃ প্যারাসুট তেল স্যার। (মাথা নিচু
করে বলল)
স্যারঃ মাথা নিচু করে থাকলে হবে না।
আমার চোখের দিকে তাকান।
(নুসরাত চোখের দিকে তাকাল)
স্যারঃ প্রেম করেন কয়টা?
নুসরাতঃ সরি স্যার?
স্যারঃ সরি নয়। বলেছি কয়টা প্রেম করেন?
নুসরাতঃ না মানে স্যার প্রেম কখনও করিনি।
স্যারঃ ওহ! গুড(খুশি হয়ে) ।স্যার আবার বলল
সাইজ কত?
নুসরাতঃ সরি স্যার??
স্যারঃ বলতেছি কত সাইজ ছবি এনেছেন?
নুসরাতঃ পাসপোর্ট সাইজ স্যার।
স্যারঃ এর আগে কোথাও দিয়েছেন ?
নুসরাতঃ মানে??
স্যারঃ বলতেছি এর আগে কোথাও চাকুরীর
জন্য ভাইভা দিয়েছেন?
নুসরাতঃ না স্যার।
স্যারঃ ওহ! তাহলে তো অভিজ্ঞতা
একেবারেই নাই।যাইহোক আমি ম্যানেজ
করে নিব।
একটু থেমে গিয়ে স্যার আবার বলল চলো
পাশের রুমে যাই । তোমাকে একটু
ফিজিক্যালী বোঝাই।
নুসরাতঃ মানে? আপনি এসব কি বলতেছেন?
(রেগে গিয়ে)
.
স্যার চিৎকার করে বললেন ,আজিজ এ কাকে
নিয়ে এসেছো? এ তো কিছুই বুঝে না ।
আজিজ চেঁচিয়ে বলল, স্যার বুঝিয়ে দেন।
আমি দরজা লক করতেছি।
.
একথা শোনার পর নুসরাত দৌড়ে রুম থেকে
বের হয়ে যায়।
.
.
নুসরাতের কথাগুলো শোনার পর নিজেকেই
খারাপ লাগছিল। নিজের প্রতি একরকম
ঘেন্না লাগছিল। আসলে আমরা এ রকম কেন?
আমরা কি পারিনা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গীটা
একটু পরিবর্তন করতে? হ্যাঁ পারি। এ জন্য
আমাদের সুস্থ্য মানসিকতার প্রয়োজন। নারী
ভোগ্য বস্তু নয়। তারা আমাদের বন্ধু, সহপাঠি,
আমাদেরই কারো না কারো মা ,বোন।
,
তাই জনাব, দৃষ্টিভঙ্গীটা পাল্টান।
মানসিকতার পরিবর্তন করুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


