somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশুর কষ্ট ও প্রাণ খোলা হাসি এ দুইই আমার চোখে চল্চল্ করে পানি আনে

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মহান আল্লাহ্র কাছে হাজার শুকরিয়া জানাই বসন্ত বা ফালগুনের প্রথম সকাল এ সকল শিশুর সাথে কাটানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। যখন এ সকল শিশুর প্রাণ খোলা হাসি আমি Naturally ধরতে পারি তখন আমার জীবনের সেরা সুখ আমি পাই। সুখেই কি মানুষের চোখে পানি আসে আমি জানিনা তবে আমার চোখে চল্ ছল্ পানি আসে মন নীরবে দারুন সুখ পাই। তখন ইচ্ছে হয় এ সকল শিশুর মন খোলা হাসির জন্য শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু টাও দিয়ে দিই। পণ করেছি দিয়ে দিব। জানিনা মহান কতটুকু মন্জুর করেছে। এ সকল শিশুকে যখন অনেক কষ্টে আমাদের চারপাশে ভাসমান অবস্হায় দেখি তখন থমকে দাড়াঁয় আর চিন্তা করি আমরা কিভাবে এত হিংস্র হয়ে ভদ্রনামধারী হয়ে বাস করছি? ভদ্র ও শিক্ষিতের আসল সঃজ্ঞা আমি খুঁজে পাই না। খুঁজে পাই না কোন ধর্ম! ধর্ম কখনো এরকম হতে পারে না? ধরমীয় সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে সমাজে এ চিত্র থকতে পারে না।

কি চিত্র? উত্তরা ৪ নং সেক্টরে থাকি ১০ বছর ধরে থাকা এবং সকালে হাটার সুবাধে মুটাুমুটি এলাকার সবার সাথে ভাল সখ্যতা আছে। এ সখ্যতা থেকে গত ৮ বছর ধরে আমরা ৬০ জনে গড়ে তুলেছি একটি সকালের হাটিহাটি ক্লাব।বিজিএমই এর present president জনাব,আতিকুল ইসলাম আমাদের এই ক্লাবেরও সভাপতি। আজ তিনিও ছিলেন। সকালে হেটে হেটে সকলের পরিচয় । প্রতি শুক্রবারে সকালে হেটে আমরা সকলে মিলে সেকটেরর মাঠে নাস্তা খায়। নাস্তা বললে ভুল হবে যে কোন ধনী লোকের বিয়ের ভোজের চেয়েও বেশী আয়োজন কারণ ১ বছর ৩ মাস পর একজনের খাওয়ানোর পালা আসে। রোজার মাস ও ঈদ ছাড়া বছরের কোন Friday miss নেই। আজ ছিল আমার পালা। আমার আয়োজন একটু কম থাকে। শুধু মুরগী পোলাও.ড়িম,দই ও মিষ্টি- চা এর আয়োজন করেছিলাম। খোলা মাঠেই খায় বলে পার্কের বাইরে এরকম কিছু শিশু আসে তাদের পোশাক পরিচ্ছেদ দেখলেই ধনীপাড়ার পার্কের Guard রা বড় লাঠি দিয়ে ধাওয়া করে মাঠে ঢুকতে দেয় না । চেহারা ও পোশাক পরিচ্ছেদ দেখলে বুঝতে পারে কারা তথাকথিত সাহেবদের ছেলে মেয়ে। মাঝে মাঝে এ সকল শিশুকে এ platform এ আনি বলে আমার বন্ধুরা নাখোশ হয়। আর আমার চরম ঘৃনা হয়। আমারতঃ আনতে হয় না তারা এসে তাকিয়ে থাকে আর মাঝে মাঝে gaurd লাঠি নিয়ে ধাওয়া করে। গেইটে কড়া পাহারা দেয় যাতে ঢুকতে না পারে। এটি মনেহয় আমাদের পুরোসমাজেরই চিত্র। এক গোষ্টী পেট পুরিয়ে অনেক অনেক খাচ্ছি সমাজের আর এক বেশীরভাগ সংখ্যক লোকেরা তাদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট নিয়ে করছে কাড়া কাড়ি।

আজ এই উচ্ছিষ্ট নিয়ে এ সকল শিশুর কাড়াকাড়ির চিত্রই আমার চোখে পানি এনেছিল। সবাই চলে যাওয়ার পর gaurd কে বলে এ সকল শিশু কে যখন ঢুকালাম আমাদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাওয়ার জন্য যা করছিল তা শুধু বসে বাস্তবিকই দেখছিলাম। কাউকেই আমি বাধা দিই নি।ঢেকসি পাতিল, ধই এর হাঁডি ও মিষ্টির প্যাকেটে জিহ্বা ও মাথা ঢুকিয়ে যা করছিল তা দেখেছি আর কি বলব আসামীই হয়েছি। পরে একটু আদর দিতেই সবাই আমাকে অনেক কিছুই বলতে থাকল। আমি বললাম আমার বাসায় চল তোমাদের মন ভরে খাওয়াব। রাজী হল বাধ সাধল আমার গাড়ী তারা গাড়ীতে চড়ার জন্য কি যে খুশী আমি তা আর বুঝাতে পারব না। কিন্তু আশেপাশের কিছু মহিলা ভিক্ষুকের কথা কানে আসতে তারা ভয় পেয়ে যাই আবার গাড়ী থেকে নেমে যাই এ নিয়ে ১০ মিনিট গাড়ীতে উঠে আবার নামে। পরে নেমেই গেল। অতঃপর আমি বললাম ১৯নং রোড়ে আমার বাসায় হেটেও আসতে পারে। আমি অবাক হয়েছি তারা আমার গাড়ীর পিছনে দৌড়ে দৌড়ে আমার বাসায় ই চলে এসেছে। বাসার gaurd আমাকে intercom এ বলার পর নীচে গিয়ে দেখি ছবির পাঁচ শিশু গেইটে দাড়িয়ে স্যার স্যার করে ড়াকছে। পরে সকলকে বাসায় এনে খাওয়ালাম অতঃপর তাদের গল্প শুনলাম ।

বুঝলাম আমার বিষয়ে তাদের দারুন আত্মবিশ্বাস জন্মেছে। পুরানো ছেড়াঁ জামা কাপড়ের কথা বলাতে ক্রেড়িট কার্ড়টি নিয়ে তাদের নিয়ে গেলাম উত্তরা ARTISAN এ। তবে গাড়ীতে নয় তারা রিক্সায় আমি প্রিয় সাইকেলে করে গেলাম। গাড়ীতে চড়ার জন্বয খুব বলছিল আমি বললাম আজ না আজ তোমরা ভয় পেয়েছ। আগামী শুক্রবারে । ওদের কে নিয়ে ঢুকতে ARTISAN এর GUARD আমার সাথে ইংলিশে কথা বলছিল পরে সে বলল স্যার মাঝে মাঝে বিদেশীরা এ ধরণের শিশুদের নিয়ে আসেতো তাই আমি মনেকরেছি আপনিও বিদেশী। শিশুগুলোর খুশী দেখে আমি বেহুশ ২৫০০০ টাকা দামের নতুন সাইকেলে তালা না দিয়ে ARTISAN এ ঢুকে পড়েছিলাম। ভাগ্য ভাল সে যথাযথ ছিল অন্য কেউ তাকে ভালবসেনি। Artisan এর ভিতরের ঘটনা আমি আর বলতে পারব না! কি যে খুশী কি চঞ্চল কি হাসি দিচ্ছিল তাতে আমি অবিভূত! অবিভূত! ভাষা নেই। তাদের পছন্দ মত জামা কিনতে কিনতে আমি শুধু তাদের মনখোলা খুশীই অনুভব করছিলাম। ৪৬৮০ টাকার জামা কিনে দিতে গিয়ে এ সকল শিশুর যে প্রান খোলা খুশী ও হাসি অনুভব করেছি তা টাকা দিয়ে মূল্যায়ন করা যাবে বলে আমি কোনভাবেই মনে করি না। তখন মন চাই সবই দিয়ে দিই।


কেনাকেটা করে সাইকেল রিক্সা করে বাসায় এসে মিষ্টি খাওয়ায়ে তাদের বিদায় দিয়ে জুম্মার নামাজ আদায় করে Lunch করে লিখে ফেললাম আমার ফাল্গুনের প্রথম বেলা কিভাবে কাটল। দোয়া করবেন যেন এদের জন্য কিছু করে যেতে পারি জীবনের অনেক সময় যেন এ সকল শিশুর জন্য হয়।

(দয়াপূরবক সব ছবি গুলো দেখার অনুরোধ রইল তাহলে বাস্তবতা ধরতে পারবেন বলে মনে করি)

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৮:২৬
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×