



কি চিত্র? উত্তরা ৪ নং সেক্টরে থাকি ১০ বছর ধরে থাকা এবং সকালে হাটার সুবাধে মুটাুমুটি এলাকার সবার সাথে ভাল সখ্যতা আছে। এ সখ্যতা থেকে গত ৮ বছর ধরে আমরা ৬০ জনে গড়ে তুলেছি একটি সকালের হাটিহাটি ক্লাব।বিজিএমই এর present president জনাব,আতিকুল ইসলাম আমাদের এই ক্লাবেরও সভাপতি। আজ তিনিও ছিলেন। সকালে হেটে হেটে সকলের পরিচয় । প্রতি শুক্রবারে সকালে হেটে আমরা সকলে মিলে সেকটেরর মাঠে নাস্তা খায়। নাস্তা বললে ভুল হবে যে কোন ধনী লোকের বিয়ের ভোজের চেয়েও বেশী আয়োজন কারণ ১ বছর ৩ মাস পর একজনের খাওয়ানোর পালা আসে। রোজার মাস ও ঈদ ছাড়া বছরের কোন Friday miss নেই। আজ ছিল আমার পালা। আমার আয়োজন একটু কম থাকে। শুধু মুরগী পোলাও.ড়িম,দই ও মিষ্টি- চা এর আয়োজন করেছিলাম। খোলা মাঠেই খায় বলে পার্কের বাইরে এরকম কিছু শিশু আসে তাদের পোশাক পরিচ্ছেদ দেখলেই ধনীপাড়ার পার্কের Guard রা বড় লাঠি দিয়ে ধাওয়া করে মাঠে ঢুকতে দেয় না । চেহারা ও পোশাক পরিচ্ছেদ দেখলে বুঝতে পারে কারা তথাকথিত সাহেবদের ছেলে মেয়ে। মাঝে মাঝে এ সকল শিশুকে এ platform এ আনি বলে আমার বন্ধুরা নাখোশ হয়। আর আমার চরম ঘৃনা হয়। আমারতঃ আনতে হয় না তারা এসে তাকিয়ে থাকে আর মাঝে মাঝে gaurd লাঠি নিয়ে ধাওয়া করে। গেইটে কড়া পাহারা দেয় যাতে ঢুকতে না পারে। এটি মনেহয় আমাদের পুরোসমাজেরই চিত্র। এক গোষ্টী পেট পুরিয়ে অনেক অনেক খাচ্ছি সমাজের আর এক বেশীরভাগ সংখ্যক লোকেরা তাদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট নিয়ে করছে কাড়া কাড়ি।
আজ এই উচ্ছিষ্ট নিয়ে এ সকল শিশুর কাড়াকাড়ির চিত্রই আমার চোখে পানি এনেছিল। সবাই চলে যাওয়ার পর gaurd কে বলে এ সকল শিশু কে যখন ঢুকালাম আমাদের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাওয়ার জন্য যা করছিল তা শুধু বসে বাস্তবিকই দেখছিলাম। কাউকেই আমি বাধা দিই নি।ঢেকসি পাতিল, ধই এর হাঁডি ও মিষ্টির প্যাকেটে জিহ্বা ও মাথা ঢুকিয়ে যা করছিল তা দেখেছি আর কি বলব আসামীই হয়েছি। পরে একটু আদর দিতেই সবাই আমাকে অনেক কিছুই বলতে থাকল। আমি বললাম আমার বাসায় চল তোমাদের মন ভরে খাওয়াব। রাজী হল বাধ সাধল আমার গাড়ী তারা গাড়ীতে চড়ার জন্য কি যে খুশী আমি তা আর বুঝাতে পারব না। কিন্তু আশেপাশের কিছু মহিলা ভিক্ষুকের কথা কানে আসতে তারা ভয় পেয়ে যাই আবার গাড়ী থেকে নেমে যাই এ নিয়ে ১০ মিনিট গাড়ীতে উঠে আবার নামে। পরে নেমেই গেল। অতঃপর আমি বললাম ১৯নং রোড়ে আমার বাসায় হেটেও আসতে পারে। আমি অবাক হয়েছি তারা আমার গাড়ীর পিছনে দৌড়ে দৌড়ে আমার বাসায় ই চলে এসেছে। বাসার gaurd আমাকে intercom এ বলার পর নীচে গিয়ে দেখি ছবির পাঁচ শিশু গেইটে দাড়িয়ে স্যার স্যার করে ড়াকছে। পরে সকলকে বাসায় এনে খাওয়ালাম অতঃপর তাদের গল্প শুনলাম ।






কেনাকেটা করে সাইকেল রিক্সা করে বাসায় এসে মিষ্টি খাওয়ায়ে তাদের বিদায় দিয়ে জুম্মার নামাজ আদায় করে Lunch করে লিখে ফেললাম আমার ফাল্গুনের প্রথম বেলা কিভাবে কাটল। দোয়া করবেন যেন এদের জন্য কিছু করে যেতে পারি জীবনের অনেক সময় যেন এ সকল শিশুর জন্য হয়।
(দয়াপূরবক সব ছবি গুলো দেখার অনুরোধ রইল তাহলে বাস্তবতা ধরতে পারবেন বলে মনে করি)



সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৮:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



