somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

-ভালোবাসা চিরন্তন-

০৫ ই মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভালোবাসা চিরন্তন কথাটি চিরসত্য। ‘দীর্ঘ তিন যুগ ধরে মন দেয়া-নেয়া। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন প্রেমিকযুগল। এমনই সাড়া জাগানো প্রেমের পরিণতি (বিয়ে) দেখতে অসংখ্য উৎসুক মানুষ ভিড় জমায় কনের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার খড়মখালী গ্রামে। বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোন ব্যক্তি দীর্ঘ 36 বছর প্রেম করে পছন্দের কনের জন্য অপেক্ষা পর জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বিয়ে নামক শব্দটির মধ্যে দু’জনে আবদ্ধ হয়েছেন। যদিও বাংলাদেশে এর আগে রেলমন্ত্রী জনাব মজিবল হক 65 বছর বয়সে বিয়ে করেছেন তথাপি তাদের মধ্যে মন দেয়া-নেয়া এতটা সময় ছিলনা এবং কনের বয়সও ছিল প্রায় 30 বছর। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, জনাব মজিবল হক এবং শুধাংশু বৈরাগীর মধ্যে বেশকিছু মিল রয়েছে। যেমন-(১) উভয় চিরকুমার সংঘের সভাপতি ছিলেন! (২) দুজনেই রাজনীতির সাথে জড়িত হয়েছেন। যদিও মজিবল হক শেষ পর্যন্ত রেলমন্ত্রী হয়েছেন তথাপি শুধাংশু বৈরাগী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন। তবে বিশেষভাবে আশ্চর্য লাগে, এই চিরকুমার সংঘের যতজনই সভাপতি হয়েছেন মনে হয় সবাই শেষ পর্যন্ত তাদের নীতি রক্ষা করতে পারেন নি! হা হা হা।

বর একই উপজেলা শ্যামপাড়া গ্রামের মৃত লোকনাথ বৈরাগীর ছেলে বর শুধাংশু বৈরাগী, স্কুলজীবন থেকেই তার প্রেম পাশ্ববর্তী খড়মখালী গ্রামের মৃত নিরোধ বায়ের কন্যা নিভা রাণী রায়ের সাথে। পরবর্তী সময়ে কলেজে পড়তে এসে তাদের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়। এভাবে একে অপরের মন দেয়া-নেয়ার মাঝে পেরিয়ে যায় 36টি বছর। শিক্ষাজীবন শেষ করে দু’জনে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখলেও নানা সমস্যায় তা আটকে যায়। বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলেও নানা মতবিরোধে তাদের ঘর বাঁধার স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নেয়নি। আশায় বুক বেঁধে থাকেন দু’জনেই। শুধাংশু বৈরাগী বর্তমানে 55 বছরে পা দিয়েছেন। এলাকায় তার পরিচিতি চিরকুমার সংগঠনের সভাপতি হিসেবে। কয়েকবার তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন। এলাকায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার রয়েছে পদচারণা। প্রেমিকা নিভা রাণীর বয়স এখন 50 বছর। তিনি বর্তমানে একটি এনজিওর পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রেলমন্ত্রী মুজিবল হকের বিয়ের পর থেকে বয়সের কথা না ভেবে এই প্রেমিক জুটির দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের বিষয়টি একটি পরিণতিতে পৌঁছানোর জন্য এলাকার অনেকেই এগিয়ে আসেন। কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চলে দুই পরিবারকে বিয়েতে রাজি করানোর। অবশেষে সাড়া মেল দুই পক্ষের। দুই পরিবারের সম্মতিতে গত 27 ফেব্রুয়ারী রাত 11টায় হিন্দু রীতি অনুযায়ী মালা বদলের মাধ্যমে নিভার বাড়িতে ধুমধামের সাথে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় বিয়ে দেখতে দলে দলে এলাকার উৎসুক নারী-পুরুষেরা ছুটে আসেন। চার দিকে হই চই পড়ে যায়। বিয়ে বাড়িতে লোক দাঁড়ানোর তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিল না। কনের বাড়িতে রাত জেগে বিয়ে দেখেন আগতরা। পাশাপাশি এ বিয়েকে ঘিরে মিষ্টিমুখ ও রং মাখামাখি চলে রাতভর।

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র কয়েক দিন ধরে চলছে এ বিয়ের আলোচনা। প্রেমিক শুধাংশুর নিকটাত্মীয় দেবাশীষ বলেন, লাইলী-মজনু, শিরি-ফরহাদ, রজকিনী-চন্ডিদাস কিংবা শাহজাহান-তাজের মতো তাদের প্রেম কাহিনী এখন এলাকার লোকজনের মুখে মুখে। এমন প্রেমের বিয়ে আজকাল খুব একটা দেখা যায় না। শুধাংশু সময়মতো বিয়ে করলে আজ নাতি-নাতনীর মুখ দেখতেন। এত দিন ধরে কেই কারো জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে, এমন নজির খুব কম রয়েছে। শুধাংশু বৈরাগী বলেন, তাদের প্রেম সার্থক হয়েছে। নববধূকে নিয়ে বাকি জীবনটা সুখে-শান্তিতে কাটাতে চাই। সত্যিকারের প্রেম কখনো বিফলে যায় না বলেও মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, প্রেমিক-প্রেমিকারা যেন কেউ ভুল করে কখনো আত্মহত্যার পথ বেছে না নেয়।
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×