
ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে প্রিয় নবী হজরত রাসুলে আকরাম (সা.) বলেছেন- ‘ঈদুল ফিতরের দিন ফেরেশতারা জমিনে নেমে আসেন এবং উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে এমনভাবে আওয়াজ দিতে থাকেন যে, মানুষ ও জীন ছাড়া আল্লাহর সব সৃষ্টি তা শুনতে পায়। ফেরেশতারা বলেন, হে উম্মতে মুহাম্মদ! তোমরা তোমাদের দয়াময় রবের উদ্দেশ্যে বের হও, তিনি আজ অতি বিরাট দান করবেন এবং বড় গোনাহ মাফ করবেন। মুসলমানরা ঈদগাহে হাজির হলে মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের লক্ষ্য করে বলেন, হে ফেরেশতারা! কাজ থেকে শ্রমিকের পারিশ্রমিকের ব্যাপারে তোমাদের রায় কী? জবাবে ফেরেশতারা বলেন, হে আমাদের মাবুদ! শ্রমিকের তার পারিশ্রমিক দিয়ে দিন। তখন মহান আল্লাহ বলেন, আমি তোমাদের স্বাক্ষী করে বলছি, আমি তাদের নামাজ ও রোজার সওয়াবকে আমার সন্তুষ্টি ও ক্ষমায় পরিণত করলাম। হে মোমিনরা! তোমরা নিষ্পাপ অবস্থায় ফিরে যাও’।
মহান রাব্বুল আলামিন কে সন্তুষ্টি ও তাঁর কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়া এবং নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসার এক মাহিদ্রক্ষণ প্রত্যেক মুসলিম বান্দা-বান্দীর নিকট উপস্থিত। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার মধ্যে দিয়ে সকল মুসলিম নর-নারী ফেলো সেই খুশির দিনটি অর্থাৎ পবিত্র ঈদ। আজ সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে কাল সারাদেশে একযোগে উদযাপন করা হবে মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। তবে আজ চাঁদ দেখা না গেলে কাল রমজান মাসের ৩০দিন পূর্ণ করে রোববার শাওয়াল মাসের প্রথম দিনেই অনুষ্ঠিত হবে এই ঈদ। দেশের ছোট-বড়, ধনী-গরিব সবার মাঝে এখন বইছে ঈদের আগাম আনন্দের জোয়ার। অনাবিল উৎসবের এ মুহুর্তকে বরণ করে নিতে সর্বত্র চলছে সাজ সাজ রব। দেশের আকাশে শাওয়াল মাস তথা ঈদের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে সবার কন্ঠে ধ্বনিত হবে কাজী নজরুল ইসলামের সেই জনপ্রিয় গান-‘ও মোর রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শোন আসমানি তাগিদ’।
ঈদের দিন সকালে ছোট-বড়, ধনী-গরিব একে অপরের সাথে ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করবেন দুই রাকাত পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ। এর মধ্যে দিয়েই মূলত মুসলমানেরা তাদের সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। যেখানে থাকেনা কোনো উঁচু-নীচুতে ভেদাভেদ। মনে হবে সব মুসলীম যেনো একে অপরে এক মায়ের পেটের ভাই। চেনা-জানা না থাকা সত্বেও একে অপরের সাথে কোলাকুলি করবে। এ যেনো মুসলমানদের মাঝে চিরচেনা ভ্রাতৃত্ত্বের বন্ধন।
বর্তমান বিশ্বের সকল মুসলিম ভাইয়েরা একে অপরের সাথে সেই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অস্বীকার করার কারণে আজকে পদে পদে বিপদগ্রস্থ হতে হচ্ছে। মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে ফরিয়াদ জানাই, আজকের এই সিয়াম সাধনার মাধ্যমে অর্জিত ভ্রাতৃত্ত্ববোধ আমরা যেনো সব সময় পালন করতে পারি। এবং সিয়ামের পরবর্তী ঈদের জামায়াত থেকে নিজেদের প্রত্যেকে নিষ্পাপ হয়ে নিজ নিজ ঘরে ফিরতে পারি, এই কামনায়। আমিন। সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাই। সাথে সাথে ঈদের আমন্ত্রণ জানাই। ঈদ মোবারক। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




