somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের দেশে হবে সে পথ কবে? আড়াই ঘন্টার ভ্রমণ, আধা ঘন্টা হবে!

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশের বড় একটি অংশ কাজ করে বিভিন্ন কল-কারখানায়, অফিস-আদালতে, স্কুল-কলেজ, হাঁটে-বাজারে এবং রাস্তা-ঘাটে। কৃষক, কামার-কুমার, জেলে এদের কথা বাদ দিলাম। তারা কখনো-সখনো এমন রাস্তা ব্যবহার করার সুযোগ পায়। কারণ তারা বেশির অংশই থাকে গ্রামে-গঞ্জে। তাদের মধ্যে থেকে কিঞ্চিত ব্যক্তিরা প্রয়োজন হলে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করার খাতিরে হয়তো শহর কিংবা বাজারে আসতে হয়।

এখন আসি বাকী অংশের কথা নিয়ে। তাদের মধ্যে আমি একজন। প্রতিদিন আমাকে অফিসের কাজে রাস্তায় বের হতে হয়। এবং অফিসে আসার মাধ্যম হিসেবে গাড়ী ব্যবহার করতে হয়। ৮-৯ কিলোমিটার (মিরপুর পল্লবী থেকে বিজয় স্বরণী হয়ে মহাখালী, আমতলী পর্যন্ত) পথ সকালে হেঁটে এসে অফিস করা দূরহ। যদিও অফিস থেকে বের হয়ে গাড়ী না পেলে মাঝে মাঝে ক্যান্টনমেন্ট এর ভিতর দিয়ে হেঁটে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ চলে আসি অর্থাৎ মিরপুর ১৪ পর্যন্ত। তারপর পল্লবী পর্যন্ত বাকি পথ গাড়ী ব্যবহার করে আসি। সত্যিকার অর্থে নগরে সকল সুযোগ-সুবিধা থাকার পরেও আমাদেরকে কেনো এমন কষ্ট করতে হবে!? কেনো সকাল ৮টায় বের হয়ে এই ৯ কিলোমিটার পথ আসতে সাড়ে দশটা বাজবে!? এই কষ্টটার মূলে রয়েছে রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম। যদিও এর জন্য সরকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একের পর এক প্লানসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে বলে মনে হয় না।

কারণ, যাদের উদ্দেশ্যে আইন করা হয় এবং এই আইন বাস্তবায়ন যাদের হাতে; তারাই তো আইনের সঠিক প্রয়োগ করছে না। তা হলে নগর জীবনে মানুষের ভোগান্তি কমবে কেনো? বরং উল্টো বেড়েছে। আগে রাস্তায় জ্যাম থাকতো এখন রাস্তার উপর ফ্লাইওভারেও জ্যাম চলছে এক সাথে। তবে নগর জীবনের বসবাসকৃত নাগরিকদের (যারা মূলত বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত এবং প্রতিদিন সকালে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করতে হয়) সমস্য অনেকাংশে কমে আসতে পারে যদি আমাদের দেয়া নির্দেশনাগুলো পূরণ করতে পারেন। তবে এগুলো যারা বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছেন, তাদের নিম্নরুপ :

০১। শহর/নগর ট্রাফিক বিভাগ ০২। সড়ক ও যোগাযোগ বিভাগ এবং ০৩। সিটি কর্পোরেশন।

নির্দেশনাগুলো নিম্নরুপ :

✔ ০১। সকাল ৭ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত কোনো প্রাইভেট গাড়ী (কার, কাইক্রো, জীপ) শহর/নগর কেন্দ্রিক রাস্তায় বের করা যাবে না। শুধু পাবলিক গাড়ী চলবে। ঐ সকল ব্যক্তিরাও পাবলিক সার্ভিসে চড়ে অফিসে যাবেন।

✔ ০২। বামপাশের লেন কখনোই বন্ধ করা যাবে না। এবং কোনো কারণেও ট্রাফিক সিগন্যাল বলবৎ রাখা যাবে না।

✔ ০৩। যত্রতত্র লেন ক্রসিং করা যাবে না। এবং যত্রতত্র থেকে যাত্রী উঠানো যাবে না।

✔ ০৪। নির্দিষ্ট ষ্টপেজ ছাড়া কোনো পাবলিক গাড়ী (হউক সিটিং এবং লোকাল) দেড় মিনিটের বেশি দাঁড়াতে পারবে না। নির্দিষ্ট ষ্টপেজের জন্য যাত্রী সংখ্যা নির্ধারিত করে দিতে হবে।

✔ ০৫। ০১, ০২, ০৩, ০৪ নম্বর লেনের গাড়ী নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। তবে সে সকল পাবলিক গাড়ী নির্দিষ্ট পয়েন্টে এলেই কেবল তার পথে যাওয়ার জন্য গাড়ীর সিগন্যাল বাতি জ্বালিয়ে লেন ক্রসিং করতে পারবে। এবং যাত্রী উঠানো এবং নামানোর সময়ও তা করতে পারবে। এছাড়া লেন ক্রসিং অমান্য করা যাবে না।

✔ ০৬। কখনো-সখনো রাস্তায় কাজ হলে উভয় দিকের গাড়ী চলাচল উপযোগী রাস্তা রেখে অর্থাৎ বিকল্প রাস্তা রেখে কাজ করতে হবে।

✔ ০৭। রাস্তার দুই পাশ থেকে অবৈধ দখলকৃত পুটপাথ পথচারীদের জন্য উম্মুক্ত রাখতে হবে। কখনোই তা ভাসমান দোকানদারদের দখলে দেয়া চলবে না।

✔ ০৮। এবং প্রতিটি সিগন্যাল বাতি কিংবা ট্রাফিক পয়েন্টে দেড় মিনিটের বেশি সিগন্যাল সক্রিয় রাখা যাবে না। এবং প্রতিটি রোড়ের জন্য তা সমান ভাবে কার্যকর থাকতে হবে। এখানে সাধারণ কিংবা ভিআইপি রোড় যাই হোক কোনো ভাবেই তা দেড় মিনিটের বেশি/কম করা যাবে না। উদাহরণ স্বরুপ বলছি-যেমন রেঙ্কস ভবন মোড়ে ৬ টা কানেকশান পায়। সে হিসেবে সিগন্যাল পাবে ৩ টি। অর্থাৎ প্রতিটি সিগন্যালে ২টি বিপরীত দিকে গাড়ী চলবে। সেখানে আমি যদি প্রথম সিগন্যালটি পাই তবে আমার ট্রাফিক সিগন্যাল ক্লিয়ার পাবে দেড় মিনিট হিসেবে সাড়ে চার মিনিট এর সময়। কিন্তু দেখা গেলো সেখানে আমাকে ১৫-১৭ মিনিট সিগন্যালে থাকতে হয়। এটা ঠিক করতে হবে ট্রাফিক বিভাগকে।

এখন আমরা আশা করতে পারি, যদি উল্লেখিত (০৮) আটটি নির্দেশনা যথাযথ ভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে শহর/নগরের ট্রাফিক জ্যাম শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। আর আমরাও গেয়ে থাকবে-আমাদের দেশেই হয়েছে এমন পথ সবে/আড়াই ঘন্টার পথ যায় আধা ঘন্টায় তবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×