
গত পরশুদিন দৈনিক “বাংলাদেশ প্রতিদিন” পত্রিকায় দেখলাম হেডিংটা ছিলো - ঘরে ঘরে ভুঁইফোড় লীগ! যার একাংশে মার্ক করে লিখা ছিলো “আল্লাহওয়ালা লীগ” “বঙ্গবন্ধু পরিবারলীগ” এবং “মিডিয়া লীগ”! আশ্চর্য হওয়ার মতো ব্যাপার হচ্ছে- গত তিন বছরে সরকার দলের নেতৃবৃন্দের প্রশ্রয়ে যে পরিমাণ দলকানা মতাদর্শে অনুগতকামী সহযোগী সংগঠন সৃষ্টি হয়েছে, অতীতে এমন অনুগত সংগঠন আর কখনো সৃষ্টি হতে দেখা যায় নি। যদিও আওয়ামীলীগের গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত সাতটি সহযোগী এবং দুইটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এর অনুমোদন রয়েছে। এর বাইরে দলে আর কোনো সহযোগী কিংবা ভ্রাতৃ্প্রতিম সংগঠন নেই। আওয়ামীলীগের ৬৮ বছরের ইতিহাস হচ্ছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও নেতৃত্ত্ব দিয়ে আসা একটি দল।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর একটি মহল তাদের নিজের চিন্তা-ভাবনার কুৎসিত শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে অবৈধ সকল সুযোগ-সুবিধা হাসিলের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করে গেছে এবং এখনো যাচ্ছে! এদের কাজই হচ্ছে, দলের কি হচ্ছে হোক; আমার পুরোটা যেনো হয় দুধে-ভাতে! আর এসব কাজের প্রত্যেক্ষ এবং পরোক্ষ সহযোগিতা করছেন ঠিক সরকার দলেরই প্রভাবশালী নেতা-নেত্রীরা। যার ফলশ্রুতিতে, অপকর্মকারী ব্যাক্তিরা খুব সহজেই অন্যায় কাজ করতে উৎসাহ পান। যেটা আমরা নারায়নগঞ্জের সাত (৭) খুন ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখতে পাই। রাজনৈতিক ব্যাক্তিরাই এক সময় তাদের প্রশ্রয়দাতা এবং সকল কাজের যোগানদাতা ছিলেন বলেই তারা প্রত্যেক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সমাজে অন্যায় কাজ করে যেতে পেরেছিলেন।
আমরা আশা করবো, এইসব ভুঁইফোড় নাম স্বর্বর্শ নামধারী ব্যাক্তিদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো হোক। কারণ এতে করে দলের সুনাম ক্ষুন্ন হয়। এদের দেয়া সাইনবোর্ড ব্যবহার করে সমাজে অন্যায় কাজ চালাবে আর তার দ্বায়ভার পড়ে স্বয়ং কেন্দ্রীয় দলের উপর। এখন যেভাবে, রাজধানীর আনাছে-কানাছে সরকার দলের সহযোগী সংগঠন নাম দিয়ে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো পাতি নেতাদের রঙ্গিন ফেস্টুন ছোখে পড়ছে, তাতে করে খুব অল্প সময়ে মূল দলের অস্তিস্ত সংকট শুরু হতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে আওয়ামীলীগের ৬৮ বছরের কঠিন পরিশ্রমে অর্জন করা ইতিহাস, এইসব ভুঁইফোড় নামধারী ব্যাক্তিদের সাইনবোর্ডের ছায়াতলে! তার সাথে সাথে এইসব নামধারী সংগঠনগুলো দিন কে দিন আরো বেশি উসৃঙ্খল হয়ে উঠবে এবং পেয়ে যাবে ঠিকানাযুক্ত নামধারী প্রতিষ্ঠানও। আমি ভাবছি এখন না জানি কেউ “ভুঁইফোড় লীগ” টাও সহযোগী সংগঠন হিসেবে পছন্দ করে নিয়ে নেয় কিনা!
আগামী দিন হয়তো সেই সাইন বোর্ডটিও চোখে পড়বে! এখন শুধু অপেক্ষা সরকার দল সেটা বন্ধ করতে পারেন কি না!?
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৫:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



