somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাঙ্গাইলের সব জমিদার বাড়ি একসাথে

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: পোস্টটি অনেক বড়।)

আজকে আমি টাঙ্গাইলে, আমার জানামতে সবগুলো জমিদার বাড়ি নিয়ে কথা বলবো। কিভাবে একদিনে প্রায় সবগুলো জমিদার বাড়ি ঘুরে আসবেন সে তথ্যও জানাবো। আমি কোন জমিদার না হওয়া সত্ত্বেও জমিদার বাড়ির আলোচনায় কেন আমার ছবি টাঙ্গাইলাম সে কথাও হবে। তাহলে চলুন আমার সাথে, ঘুরে আসুন জমিদারদের রাজত্ব থেকে।

ঢাকা থেকে আসতে চাইলে প্রথমে আপনাকে মহাখালি অথবা গাবতলী বাসটার্মিনাল থেকে আসতে হবে। মহাখালি বাসটার্মিনাল থেকে প্রতি আধা ঘন্টা পরপর টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় নিরালা, ধলেশ্বরী, দ্রুতগামী, বিনিময়, হাইচয়েস নামের নন-এসি বাস। ভাড়া নিবে ১২০-১৬০ টাকার মধ্যে। এসি বাসে আসতে চাইলে আপনাকে আসতে হবে কল্যানপুর সকাল-সন্ধ্যা কিংবা সোনিয়া বাসের কাউন্টারে। ভাড়া জনপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা। খরচ বাঁচাতে চাইলে ধলেশ্বরী অথবা হাইচয়েচ বাস আপনাকে বেছে নিতে হবে। কারণ অন্য পরিবহনগুলো সরাসরি টাঙ্গাইলের ভাড়া রাখবে। কিন্তু আমাদের উদ্দেশ্য একদিনে সব জমিদার বাড়ি ঘুরে দেখা। তাই টাঙ্গাইলের আগেই আপনাকে নামতে হবে। ঢাকা থেকে সকাল ৭ টায় রওনা হলে সাড়ে ৮ টার আগেই প্রথম লোকেশনে পৌঁছে যাবেন। আপনার প্রথম লোকেশন হবে মির্জাপুর উপজেলার "পাকুল্যা জমিদার বাড়ি এবং ঐতিহাসিক মন্দির"। পাকুল্যা বাস স্ট্যান্ড নেমে সিএনজি বা অটোরিক্সা নিয়ে পাকুল্যা জমিদার বাড়ি যেতে পারবেন। এখানে একঘন্টা সময় ব্যায় করে সকাল সাড়ে নয়টার মধ্যে পাকুল্যার অদূরে "মহেরা জমিদার" বাড়িতে সিএনজি নিয়ে আসতে পারবেন। আসতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট। মহেরা জমিদার বাড়ি বর্তমানে পুলিশ ট্রেইনিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ৮০ টাকা। স্কুল-কলেজের পক্ষথেকে আগে জানিয়ে আসলে অনেক কমেও ঘুরে দেখা যায়। টাঙ্গাইলের সবচেয়ে আকর্ষনীয় জমিদার বাড়ি এটি। ১১ টার মধ্যে চলে আসবেন "করটিয়া জমিদার বাড়িতে"। এখান থেকে সিএনজি যোগে করটিয়া জমিদারবাড়ি আসতে ২৫-৩০ মিনিট সময় লাগবে। করটিয়া জমিদার বাড়িতে বর্তমানে লাইট হাউস স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ভবন আছে, ঘুরে ঘুরে দেখতে পারেন। দেখার জন্য খুব বেশি সময় নিবেন না। এক জায়গায় বেশি সময় নিলে অন্যগুলো অদেখাই থেকে যাবে। চেষ্টা করবেন দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে টাঙ্গাইল শহরে আসার জন্য।

টাঙ্গাইল শহর থেকে ২০ টাকা অটোরিক্সা ভাড়া দিয়ে চলে আসবেন "সন্তোষের জমিদার বাড়িতে"। এখানে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে বেশি জমিদার বাড়ি দেখতে পারবেন। সন্তোষের জমিদার বাড়িগুলো সবই কোন না কোন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সন্তোষ সরকারী বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চবিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন অফিস, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান হল, বিভাগীয় অফিস প্রভৃতি। এছাড়াও এই সন্তোষের কয়েকটি জমিদার মহল পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। সন্তোষেই রয়েছে বিখ্যাত সূর্য ঘড়ি এবং টি পুকুর, যা টাঙ্গাইলের আদ্যক্ষর নির্দেশ করে। টাঙ্গাইল এসে পোড়াবাড়ির চমচম না খেয়ে গেলে আপনার ভ্রমনটাই বৃথা হয়ে যাবে। সন্তোষ থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইলের পুড়াবাড়িতে এসে আসল পুরাবাড়ির মিষ্টি খেয়ে যাবার দাওয়াত রইলো। দুপুর দুইটার মধ্যে এখান থেকে চলে আসবেন সন্তোষ থেকে ১৫ টাকার অটোরিক্সা ভাড়া করে "অলোয়া জমিদার বাড়ি"। টাঙ্গাইলের অন্যান্য জমিদার বাড়ি বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হলেও এই জমিদার বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। অনন্য স্থাপত্যশৈলীর এই জমিদার বাড়ির সর্বত্র আগাছায় ছেয়ে আছে। আপনি এর ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হবে হরর মুভির শুটিং করতে এসেছেন। শুটিং শেষ করে ৩ টার মধ্যে চলে আসবেন "দেলদুয়ার জমিদার বাড়িতে"। আর হ্যাঁ, দেলদুয়ার বাড়িতে আসার পথে দেলদুয়ারের "আতিয়া মসজিদটি" দেখতে ভুলবেন না কিন্তু। আজীবন দশটাকার নোটের সেই মসজিদের ছবির কারুকার্য নিজ চোখে দেখলে আপনার মন এমনিতেই শান্ত হয়ে যাবে। চাইলে পাশে থাকা পুকুরের ঘাটে অযু করে দুই রাকাত নামাযও পড়ে আসতে পারেন। যাই হোক, এখান থেকে আপনার দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি আসতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ২৫ মিনিট। দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছবি তুলে বেশি সময় নষ্ট না করে বেড়িয়ে পরবেন নাগরপুরের "পাকুটিয়া জমিদার বাড়ির" উদ্দেশ্যে। বিকাল সাড়ে ৪ টার মধ্যে এখানে আসতে পারবেন। বর্তমানে এখানে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ পরিচালিত হচ্ছে। এখান থেকে বোনাস হিসেবে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার "বালিয়াটি প্রাসাধ" থেকে ঘুরে আসতে পারবেন। কারণ, এটি পাকুটিয়া থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দূরত্বে। আপনি যদি ঢাকা আসতে চান তাহলে আপনাকে আবার টাঙ্গাইল হয়ে আসার কোন দরকার নেই। এজন্য আপনি সাটুরিয়া থেকে সহজেই ঢাকা আরিচা মহাসড়কে আসতে পারবেন। সাটুরিয়া থেকে গাবতলীগামী একমাত্র বাস হলো এসবি লিংক।

তার মানে আপনার ভ্রমনটা একনজরে এরকম হবে, পাকুল্যা জমিদারবাড়ি ---< মহেড়া জমিদার বাড়ি ---< করটিয়া জমিদার বাড়ি ---< সন্তোষ জমিদার বাড়ি ---< অলোয়া জমিদার বাড়ি ---< আতিয়া মসজিদ ---< দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি ---< পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি ---< বালিয়াটি প্রাসাধ (বোনাস হিসেবে)।

আপনি চাইলে এর উলোটপথেও আসতে পারেন। মানে শেষ থেকে শুরু। ব্যক্তিগত গাড়ি যোগে কিনবা রিজার্ভ গাড়িতে আসলে আরো দেখতে পারবেন নাগরপুর উপজেলার নাগরপুর জমিদার বাড়ি, ধনবাড়ি জমিদার বাড়ি, ধনবাড়ি নবাব প্যালেস ও মসজিদ (যেখানে নামাজের ওয়াক্ত ব্যতিত ২৪ ঘন্টা কোরআন তেলাওয়াত চলে), গোপালপুর ২০১ গম্বুজ মসজিদ, মধুপুরের বঙ্গবন্ধু জাতীয় উদ্যান। পথ চিনার সুবিধার্থে পরিচিত কাউকে সাথে করে আনবেন। অবশ্য আমাকে বলবে আমিও না করবো না। আর হ্যাঁ, ঘুরতে এসে কিছু না নিয়ে গেলে কেমন দেখায়! সাথে করে টাঙ্গাইলের পুড়াবাড়ির চমচম আর তাঁতের শাড়ির নিয়ে যাবেন। বৃহ:স্পতিবার করে আসলে করটিয়ার হাট থেকে পাইকারি ধরে শাড়ি নিতে পারবেন, শো-রুমের প্রায় অর্ধেক দামে। যাই হোক, আমার জন্মস্থান টাঙ্গাইল জেলায় আপনাকে স্বাগতম। আমার বাড়ি আসার পথ দেখালাম না, কারণ আমার বাড়িটি কোন রাজবাড়ি নয়। কিন্তু আমার শৈশবমাখা গ্রামটি রাজবাড়ির চাইতে বেশি কিছু।

১) পাকূল্যা জমিদার বাড়ি ও শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দির



শ্রী শ্রী রাধা কালাচাঁদ মন্দিরটি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবী রাম মোহন সাহা ও গৌর মোহন সাহা ১১৯৫ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানে গীতাপাঠ, মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী, দোলযাত্রা ও ঝুলনযাত্রাসহ সারা বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এর আগে একতলা পাকা মন্দিরটি দুই বার সংস্কার করা হয়। সম্প্রতি এলাকার সমাজ হিতৈষী ব্যক্তিরা মন্দিরটিকে বাংলাদেশসহ দেশ-বিদেশে অন্যতম কারুকার্যসমৃদ্ধ ঐতিহাসিক মন্দির হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেন। চার বছর পূর্বে প্রায় ৬০ ফুট উঁচু মন্দিরটি নতুন রূপে নির্মাণ কাজ শুরু করেন তারা। এর আগে বাংলাদেশ ও ভারতসহ বেশকিছু দেশের মন্দির পরিদর্শন করে মন্দিরটির নক্সা তৈরি করা হয়। মন্দিরটি নির্মাণে ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে কারুশিল্পী আনা হয়। এছাড়া ঢাকা চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিল্পীরা ছাড়াও দেশের নামকরা কারুশিল্পীদের সহযোগিতা নেয়া হয়েছে এটি নির্মাণে। মন্দিরটির মধ্যে বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিকৃতি নিপুণভাবে তৈরি করা হয়েছে। পুণ্যার্থী ও দর্শণার্থীদের আকর্ষণ করার জন্য মন্দিরটিতে সোনালি রঙের প্রলেপ দেয়া হয়েছে। দূর থেকে মনে হয় এটি একটি স্বর্ণ খচিত মন্দির। অনেকে এই মন্দিরটিকে বাংলার ‘স্বর্ণ মন্দির’ হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছেন। মন্দিরটি নির্মাণ করতে এক কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে জানান এর অন্যতম উদ্যোক্তা সুরঞ্জন শেঠ তাপস।



নবাব শায়েস্তা খানের বংশোধর নবাব হাসান আসকারী জামুর্কি ইউনিয়নের পাকুল্যা এলাকায় প্রায় ৬ দশমিক ৮৪ একর জায়গা নিয়ে জমিদার বাড়ি নির্মাণ করে জমিদারি পরিচালনা করেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জমিদারগণ বিশাল জমিদার বাড়ি ফেলে চলে যান। এখানে দৃষ্টিনন্দন সুনিপুণ হাতে গড়া পাকা ভবন, নবাবদের ঐতিহ্যবাহী দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, এতিমখানা, রং মহল, পুকুর, লেক, কাচারি বাড়ি, বাগানসহ বিভিন্ন স্থাপনা থেকে যায়। মালিক না থাকায় ও পরিচর্যার অভাবে জমিদার বাড়িটি দখল হতে থাকে।

১৯৫০ সালের শেষের দিকে সরকার এই জমিদার বাড়িটি অধিগ্রহণ করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় একটি চক্র জমিদার বাড়িটির অধিকাংশ স্থাপনা ও জমি দখলে নিয়ে নেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়। মামলায় সরকার পক্ষ রায় পান। রায় পেয়ে জমিদার বাড়িটি দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে বিনোদনের জন্য পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

২) করটিয়া জমিদার বাড়ি



“আটিয়ার চাঁদ” নামক গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, আফগান অধিপতি সোলায়মান খান পন্নী কররানির ছেলে বায়েজিদ খান পন্নী ভারতে আগমন করেন। তার পুত্র সাঈদ খান পন্নী আটিয়ায় বসতি স্থাপন এবং ১৬০৮ খ্রিঃ সম্রাট জাহাঙ্গীরের রাজত্বকালে আটিয়ার বিখ্যাত মসজিদ নির্মাণ করেন। এই বংশেরই ১১তম পুরুষ সা'দত আলী খান পন্নী টাঙ্গাইলের করটিয়ায় এসে পন্নী বংশের ভিত প্রতিষ্ঠা করেন। উনিশ শতকের প্রথম দিকে সাদত আলী খান পন্নী সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে নানা মামলায় জড়িয়ে পড়েন। ঢাকার জমিদার খাজা আলীমুল্লাহর সহায়তায় তিনি পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার করেন, কিন্তু শর্ত ভঙ্গের কারণে পাল্টা মামলা করে খাজা আলিমুল্লাহ ভোগ-স্বত্বের ডিক্রি লাভ করেন। তখন সা'দত আলী খান সম্পত্তি রক্ষার জন্য স্ত্রী জমরুদুন্নেসা খানমের নামে তা দানপত্র করে দেন। পরে অবশ্য উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষ মীমাংসা হয়। সা'দত আলী খান সম্পত্তির ৭ আনা অংশ খাজা আলিমুল্লাহকে ছেড়ে দেন। অতঃপর বাংলা ১২২৭ সনের ৯ পৌষ সা'দত আলী খান এবং তার স্ত্রী জমরুদুন্নেসা খানম যৌথভাবে একটি দলিল করেন। এতে সমস্ত সম্পত্তি দুটি ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগ পরিবারের ব্যয় ও অন্য ভাগ ওয়াকফ্ করে ধর্মীয় ও দাতব্য কাজে ব্যয় করার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। ওয়াকফ্ সম্পত্তি দেখাশুনা করার জন্য মুতাওয়াল্লী নিয়োগের বিধান রাখা হয়। সা'দত আলী খান পন্নীর মৃত্যুর পর তার পুত্র হাফেজ মাহমুদ আলী খান পন্নী মুতাওয়াল্লী ছিলেন। মাহমুদ আলী খান পন্নীর মৃত্যুর (১৮৯৬) পর মুতাওয়াল্লী কে হবেন এ নিয়ে তার পুত্র ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (চাঁদ মিয়া) এবং পিতামহী জমরুদুন্নেসা খানমের মধ্যে বিবাদ ও মামলা মোকদ্দমা সংঘটিত হয়। পরিশেষে ওয়াজেদ আলী খান পন্নী জয়ী হন এবং দক্ষতার সঙ্গে জমিদারি পরিচালনা করেন। পন্নী পরিবারের ১৩তম পুরুষ দানবীর জমিদার আটিয়ার চাঁদ হিসেবে খ্যাত ওয়াজেদ আলী খান পন্নী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার কারণে ১৯২১ সালের ১৭ ডিসেম্বর কারা অবরুদ্ধ হন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার অনমনীয় মনোভাব ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ আজও লন্ডন মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ওয়াজেদ আলী খান পন্নীর তৈলচিত্রের নিচে লেখা রয়েছে 'ওয়ান হু ডিফাইড দি ব্রিটিশ।' ১৯২২ সালে জেল থেকে মুক্ত হয়ে তিনি সমাজ ও শিক্ষা সংস্কারের কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং বাংলার আলীগড় নামে খ্যাত ১৯২৬ সালে করটিয়ায় সা'দত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজের পাশাপাশি তিনি স্থাপন করেন রোকেয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, এইচএম ইনস্টিটিউশন (স্কুল এ্যান্ড কলেজ) এবং দাতব্য চিকিৎসালয়সহ জনকল্যাণকর বহু প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল প্রকার ব্যয় নির্বাহের অভিপ্রায়ে তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি, বসতবাড়িসহ এলাহীর উদ্দেশে ১৯২৬ সালের ৯ এপ্রিল এক ওয়াকফ্ দলিলের সৃষ্টি করেন ।

ওয়াজেদ আলী খান পন্নী ওরফে চাঁদ মিয়া সাহেবে মৃত্যুর পর তার পুত্র মাসুদ আলী খান পন্নী এস্টেটের মোতোয়ালি নিযুক্ত হন। এস্টেটের অব্যবস্থাপনার জন্য ওয়াকফ্ প্রশাসক ১৯৪০ সালের ১০ নভেম্বর ১৩৬৭৮ নং পত্রে মাসুদ আলী খান পন্নীকে শর্তহীনভাবে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে মাসুদ আলী খান পন্নী পদত্যাগ করেন এবং ওয়াকফ্ দলিল অনুসরণে খুররম খান পন্নী মোতোয়ালি নিযুক্ত হন। ১৯৬২ সালে তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হলে ১৯৬৩ সালে তার পুত্র ওয়াজিদ আলী খান পন্নী (২য়) ওরফে বান্টিং ভারপ্রাপ্ত মোতোয়ালি নিযুক্ত হন।। উল্লেখ্য যে, পন্নী পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় হতে। ওয়াজেদ আলী খানের দৌহিত্র খুররম খান পন্নী পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের চীপ হুইপ এবং একজন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। অপর দৌহিত্র হুমায়ন খান পন্নী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ছিলেন। খুররম খান পন্নীর পুত্র ওয়াজেদ আলী খান পন্নী (দ্বিতীয়) বাংলাদেশ সরকারের উপমন্ত্রী ছিলেন।

৩) মহেরা জমিদার বাড়ি:



প্রাকৃতিক এবং নিরিবিলি পরিবেশের এই জমিদার বাড়ীটি প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ০.৫ কিলোমিটার প্রস্থ বিশিষ্ট প্রাচীরঘেরা যেখানে রয়েছে লোহার ঘর, রোকেয়া মহল, রাণীর পুকুরঘাট, ছোট তরফ দাউদ মহল এবং বাড়িসংলগ্ন মোগল স্থাপত্যের আদলে গড়া মসজিদ একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য। মোগল ও চৈনিক স্থাপত্যের মিশেলে নির্মিত জমিদার বাড়ীটি প্রথম দর্শনেই আপনার মন কেড়ে নেবে। সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে অবস্থিত মোগল স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন রোকেয়া মহল; যা প্রত্মতাত্ত্বিক নিদর্শনের মর্যাদা পাওয়ার দাবি রাখে। অথচ উহা বিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।



১৮৯০ দশকের পূর্বে স্পেনের করডোভা নগরীর আদলে জমিদার বাড়ীটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকবাহিনী মহেড়া জমিদার বাড়ীতে হামলা করে এবং জমিদার বাড়ীর কূলবধূ সহ পাঁচজন গ্রামবাসীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে (১৯৭১)। পরবর্তীতে তারা লৌহজং নদীর নৌপথে এ দেশ ত্যাগ করেন। এখানেই তখন মুক্তিবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। এ জমিদার বাড়ীটি পুলিশ ট্রেনিং স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় (১৯৭২)। এবং পুলিশ ট্রেনিং স্কুলকে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে উন্নীত করা হয় (১৯৯০)।

এই জমিদার বাড়ির সামনে প্রবেশ পথের আগেই রয়েছে ‘বিশাখা সাগর’ নামে বিশাল এক দীঘি এবং বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে ২টি সুরম্য গেট। এছাড়াও মূল ভবনে পিছনের দিকে পাসরা পুকুর ও রানী পুকুর নামে আরো দুইটি পুকুর রয়েছে এবং শোভাবর্ধনে রয়েছে সুন্দর ফুলের বাগান। বিশাখা সাগর সংলগ্ন দক্ষিণ পার্শ্বে রয়েছে বিশাল আম্র কানন ও বিশাল তিনটি প্রধান ভবনের সাথে রয়েছে নায়েব সাহেবের ঘর, কাছারি ঘর, গোমস্তাদের ঘর, দীঘিসহ ও আরো তিনটি লজ।

চৌধুরী লজঃ জমিদার বাড়ি প্রবেশের পরেই মূল ফটক দিয়ে দেখা যায় চৌধুরী লজ। এটির গোলাপি রঙের ভবনটির পিলার গুলো রোমান স্থাপত্য শৈলীতে নির্মাণ করা হয়েছে। সুন্দর নকশাখচিত এই ভবনের ভেতরে রয়েছে ঢেউ খেলানো ছাদ। দোতলা বিশিষ্ট এই ভবনটির সামনে রয়েছে সুন্দর বাগান ও সবুজ মাঠ।

মহারাজ লজঃ বাইজেনটাইন স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত মহারাজ লজ ভবনের সামনে ছয়টি (৬) টি কলাম রয়েছে। সেখানে গোলাপি রঙের মহারাজ লজের সামনে রয়েছে সিঁড়ির বাঁকানো রেলিং ও ঝুলন্ত বারান্দা যা ভবনের শোভা বৃদ্ধি করেছে। ভবনটিতে মোট কক্ষ আছে বারো (১২) টি, সামনে বাগান ও পেছনে একটি টেনিসসহ কোর্ট রয়েছে। এই ভবনটি বর্তমানে শুটিং স্পট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আনন্দ লজঃ মহেরা জমিদার বাড়ির সবচেয়ে আকর্ষণীয় ভবন হলো আনন্দ লজ। নীল ও সাদা রঙের মিশ্রনে ভরা ভবনটির সামনে আট (৮) টি সুদৃশ্য কলাম রয়েছে। তিন তলা বিশিষ্ট ঝুলন্ত বারান্দা এ ভবনকে করেছে আরো দৃষ্টিনন্দন। আনন্দ লজের সামনে হরিণ, বাঘ ও পশু-পাখির ভাস্কর্যসহ একটি চমৎকার বাগান আছে।

কালীচরণ লজঃ জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির শেষের দিকে নির্মিত এই কালীচরণ লজ অন্য ভবন থেকে অনেকটা আলাদা। ইংরেজি ‘ইউ’ (U) অক্ষরের আদলে এই ভবনটি ইংরেজ স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত। অন্যোন্য স্থাপত্য শৈলীর জন্য বিকেল বেলা ভবনের ভেতর থেকে সুন্দর আলোর ঝলকানি দেখা যায়।

৪) সন্তোষ জমিদার বাড়ি



টাঙ্গাইল শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত মওলানা ভাসানীর স্মৃতি বিজরিত সন্তোষ একটি উজ্জ্বল নাম। সন্তোষের জমিদার এবং জমিদার বাড়িরও রয়েছে বহু স্মৃতি বহু ইতিহাস।

জানা যায় মোগল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে কাগমারী পরগনার মালিকানা পান হযরত শাহজামান (রঃ)। নবাব মুর্শীদ কুলি খাঁর সময়ে এ কামেল পীরের শিষ্য ইন্দ্র নারায়ন ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে এনায়েতুল্লাহনাম গ্রহণ করেন এবং এক সময় এ পরগনার মালিকানা লাভ করেন। বিশ্বনায়েব তিনপুত্র রঘুনাথ রায়, রামেশ্বর রায় এবং রামচন্দ্র রায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে ৩টি জমিদারী লাভ করেন। এগুলো হচ্ছে ছয়আনা, বড় পাঁচ আনা এবং ছোট পাঁচ আনা।

এ সময় থেকে কাগমারী পরগনা সন্তোষে স্থানান্তরিত হয়। সন্তোষের জমিদার ছয় আনার মালিক রঘুনাথ রায়ের বংশধর জাহ্নবী চৌধুরাণী ও দীনমনি চৌধুরাণী ছোট পাঁচ আনা জমিদারীর মালিক রামচন্দ্র রায় এর বংশধর বিন্দুবাসিনী চৌধুরাণী ও তার দুইপুত্র প্রমথনাথ রায় চৌধুরী ও মন্মথনাথ রায় চৌধুরী জমিদারী পরিচালনায় যুক্ত হয়ে বহু জনহিতকর কাজ করে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

সূর্যঘড়ি:



বাংলাদেশে সূর্য ঘড়ি কোথায় কোথায় আছে আমার জানা নেই। তবে টাঙ্গাইলের সন্তোষের জমিদার বাড়ির সামনে ( বর্তমানে সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়) একটি সুর্য ঘড়ি আছে। গত ২৯/০৫/০৯ তারিখে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদি তে ভারতের জয়পুরের রাজ প্রাসাদে তৎকালিন রাজা কর্তৃক নির্মিত একটি সূর্যঘড়ির ফিচার দেখানো হয়েছিল। ফিটারটি দেখে বুঝতে পারলাম সূর্য ঘড়ি থেকে সেই সময়ের রাজা জমিদাররা সময় দেখে থাকতেন। এখানে উল্লেখ্য সূর্য ঘড়ি থেকে যে সময় পাওয়া যায় তা একেবারে পারফ্যাক্ট। তবে মোদ্যা কথা সন্তোষের সূর্য ঘড়িটি যদিও হয়ত বিখ্যাত নয় কিন্তু ইহা অবশ্যই ভিন্ন একটি ব্যাপার। যদি কেই নিজ চোখে দেখতে চান তবে চলে আসুন টাঙ্গাইল এর সন্তোষ জাহ্নবী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

৫) অলোয়া জমিদার বাড়ি:



প্রায় ১৮০০ শতকে জমিদার সচী নাথ রায় চৌধুরী বর্তমান টাঙ্গাইল সদরের পৌরসভা এলাকায় ১৩২ শতাংশ জমির উপর এই অলোয়া জমিদার বাড়িটি স্থাপন করেন। এরপর বংশপরামপণায় জমিদার বংশধররা এখানে জমিদারী পরিচালনা করতে থাকেন। একসময় জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেলে এই জমিদার বাড়িটি পরিত্যাক্ত হয়ে যায়। অবশ্যক পরিত্যাক্ত হওয়ার দীর্ঘ কয়েক বছর পর বাড়িটির কিছু অংশে বাংলাদেশ সরকার ১৯৮০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্থানীয় ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহার করে আসতেছেন। বাকী অংশ এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে। এই জমিদার বাড়ির শেষ জমিদার ছিলেন কনক লতা রায় চৌধুরী। তিনি তার পরিবার নিয়ে ১৯৫০ সালে ভারতে চলে যান।

এই ছবিটি আমার নিজের তোলা। প্রথম ছবিটি সেখানে বেড়াতে দিয়ে ক্লীক করেছেন আমার সহধর্মীনি।

৬) আতিয়া মসজিদ:



আতিয়া মসজিদ বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিদ যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এই মসজিদটি ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে এবং এখানে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পুরাতত্ত্ব বিভাগ এ স্থাপনার তত্ত্বাবধান করছে।

টাঙ্গাইল অঞ্চলে প্রাপ্ত মূল শিলালিপিগুলোর মধ্যে আতিয়া জামে মসজিদ এলাকায় প্রাপ্ত একটি আরবি এবং একটি ফার্সি শিলালিপি রয়েছে, তবে এগুলোতে মসজিদের নির্মাণকাল সম্পর্কিত তথ্যের ক্ষেত্রে কিছুটা অসংগতি পরিলক্ষিত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে রক্ষিত শিলালিপিটিতে নির্মাণকাল ১০১৯ হিজরি (১৬১০-১১ খ্রি.) দেয়া হলেও কেন্দ্রীয় প্রবেশ পথের উপর স্থাপিত অপর শিলালিপিতে এর নির্মাণকাল ১০১৮ হিজরি (১৬০৮-৯ খ্রি.) উল্লেখ করা হয়েছে।

আরবি ‘আতা’ থেকে ‘আতিয়া’ শব্দটির উৎপত্তি, যার বুৎপত্তিগত অর্থ হল ‘দান কৃত’। আলি শাহান শাহ্‌ বাবা আদম কাশ্মিরী (র.) কে সুলতান আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ টাঙ্গাইল জেলার জায়গিরদার নিয়োগ দান করলে তিনি এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করেন; সে সময় তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারের এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য আফগান নিবাসী কররানী শাসক সোলাইমান কররানীর কাছ থেকে সংলগ্ন এলাকা দান বা ওয়াকফ্ হিসাবে লাভ করেন। এবং এই এলাকাটি তাঁকে দান করায় এই অঞ্চলটির নাম হয়েছে ‘আতিয়া’।

পরবর্তীতে বাবা আদম কাশ্মিরীর পরামর্শক্রমে সাঈদ খান পন্নী নামক সুফিজির এক ভক্তকে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গির উক্ত আতিয়া পরগণার শাসন কর্তা হিসেবে নিয়োগ দান করেন। এই সাঈদ খান পন্নীই ১৬০৮ সালে বাবা আদম কাশ্মিরীর কবরের সন্নিকটে আতিয়া মসজিদ নির্মাণ করেন।

মুহাম্মদ খাঁ নামক তৎকালীন এক প্রখ্যাত স্থপতি এই মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা ও নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। রওশন খাতুন চৌধুরাণী ১৮৩৭ সালে এবং আবুল আহমেদ খান গজনবী ১৯০৯ সালে মসজিদটির সংস্কার করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার এই মসজিদটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে অধিগ্রহণ করেন।

লাল ইট দ্বারা নির্মিত এই মসজিদটি আকারে বেশ ছোট, মাত্র ১৮.২৯ মিটার (৫৯ ফুট) x ১২.১৯ মিটার (৪০ ফুট) এবং দেয়ালের পুরুত্ব ২.২৩ মিটার (সাড়ে ৭ ফুট)। এর চারকোণে ৪টি অষ্টকোণাকৃতীর মিনার রয়েছে, যার উপরের অংশটি ছোট গম্বুজের আকৃতি ধারণ করেছে।

সুলতানি ও মুঘল—এই দুই আমলেরই স্থাপত্যরীতির সুস্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে এই মসজিদের নির্মাণ শৈলীতে

৭) দেলদুয়ার জমিদার বাড়ি



দেলদুয়ার জমিদার বাড়িটি অনেকের কাছে নর্থ হাউজ নামেও পরিচিত। তবে জমিদার বাড়িটি কবে বা কখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আমরা সচারচর দেখে থাকি বা জানি যে, বেশীরভাগ জমিদাররাই ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। কিন্তু এই জমিদররা ছিলেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী। যাদের পূর্ব পুরুষরা এখানে আফগানিস্তান থেকে এসেছেন। জমিদার বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা হলেন ফতেহদাদ খান গজনবী লোহানি। জমিদার বংশধররা তাদের পূর্ব পুরুষ আফগানিস্তানের গজনী থেকে আসার কারণে তাদের নামের শেষে গজনবী লোহানি খেতাবটি ব্যবহার করতেন। জমিদার বাড়ির জমিদারদের মধ্যে দুজন ছিলেন খুবই আলোচিত সনামধন্য জমিদার। যারা ছিলেন দানবীর, উচ্চশিক্ষিত ও ব্যবসায়ী। তারা হলেন স্যার আবদুল করিম গজনভি এবং স্যার আবদুল হালিম গজনভি। আব্দুল হাকিম খান গজনবী ও করিমু নেসা খানম চৌধুরানীর সন্তান ছিলেন তারা দুইজন। তাদের মাতা করিমুন নেসা ছিলেন বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত ও কবি বেগম রোকেয়ার বোন। তখনকার সময় তারা ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত।

জমিদার স্যার আবদুল করিম গজনভি ১৮৭২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইংল্যান্ড এবং জার্মানিতে পড়ালেখা করেন। ১৮৯৪ সালে তিনি জমিদারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি ব্রিটিশ ভারত শাসনামলে ব্রিটিশ সরকারের দুইবার মন্ত্রী হয়েছিলেন এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে নাইট ও নবাব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত হন ১৯২৮ ও ১৯৩৩ সালে। তিনি ইংরাজী ভাষায় তিনটি বই লিখেন। বইগুলোর নাম হলো - Pilgrim traffic to hejaz and Palestine, Muslim education in Bengal ও The diearkiyal education in Bengla. তিনি ১৯৩৯ সালে মারা যান।

জমিদার স্যার আবদুল হালিম গজনভিও বড় ভাই জমিদার স্যার করিম গজনবীর মতই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত। তিনি ১৮৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্যবসা ও রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি ইন্ডিয়া স্টিমশিপ কোম্পানির চেয়ারম্যান ও কলকাতার মুসলিম চেম্বার অব কমার্স এবং ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি The Musolman এবং The Star of India পত্রিকার প্রকাশের সাথে জড়িত ছিলেন। স্যার আব্দুল হালিম গজনবীও বড় ভাইয়ের মত ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ১৯৩৫ সালে নাইট উপাধি পান। মৃত্যুর চার বৎসর আগে তিনি কলকাতা থেকে দেলদুয়ার জমিদার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই ১৯৫৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে এই জমিদার বাড়ির জমিদারিরও সমাপ্তি ঘটে।

চারদিক দিয়ে দেয়ালবেষ্টিত একতলা বিশিষ্ট জমিদার বাড়িটি ঔপনিবেশিক স্থাপত্যশৈলীর আদলে তৈরি করা। জমিদার বাড়ির সামনের দিকে রয়েছে পারিবারিক কবরস্থান। পূর্ব-দক্ষিণ কোনে রয়েছে একটি মসজিদ। পূর্ব পাশে বসার জন্য রয়েছে লোহার গার্ডেন চেয়ার, গোল টেবিল এবং পাশেই রয়েছে কৃত্রিম পানির পেয়ারা। বাড়ির পিছন দিকে রয়েছে আম বাগান এবং বাগানের মাঝখানে রয়েছে টালির দোতালা শেড। ধারণা করা হয় এটি ছিল বাড়ির মহিলাদের জন্য আড্ডাখানা।

অন্যান্য জমিদার বাড়ির মত এই জমিদার বাড়িটি পরিত্যক্ত বা অবহেলা অযত্নে নেই। জমিদার বাড়িটি দেখাশুনা করার জন্য একজন কেয়ারটেকার আছেন। তাই এখনো জমিদার বাড়িটি আগের মতই ভালো অবস্থায় আছে।


৮) পাকুটিয়া জমিদার বাড়ি



ইংরেজ আমলের শেষ দিকে এবং পাকিস্তান আমলের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তৎকালীন বৃটিশ রাজাধানী কলকাতার সাথে মেইল স্টিমারসহ মাল এবং যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিস চালু ছিল। একপর্যায়ে নাগরপুরের সাথে কলকাতার একটি বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরবর্তীতে পশ্চিম বঙ্গ কলকাতা থেকে আসেন রামকৃষ্ণ সাহা মন্ডল (ধনাঢ্য ব্যক্তি)।ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে তিনি পাকুটিয়ায় জমিদারী শুরু করেন। প্রায় ১৫ একর এলাকা জুড়ে একই নকশার পর পর তিনটি প্যালেস বা অট্টালিকা নির্মাণ করা হয় (১৯১৫)। তখন জমিদার বাড়িটি তিন মহলা বা তিন তরফ নামে পরিচিত ছিল।


প্রতিটি বাড়ীর মাঝ বরাবর মুকুট হিসাবে লতা ও ফুলের অলংকরণে কারুকার্য মন্ডিত পূর্ণাঙ্গ দুই সুন্দরী নারী মূর্তি রয়েছে। এবং প্রতিটি মহলের রয়েছে নিজস্ব সৌন্দর্য। রেলিং টপ বা কার্নিশের উপর রয়েছে বিভিন্ন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সুন্দর সুন্দর ছোট আকৃতির নারী মূর্তি। এই অট্টালিকা গুলো পাশ্চাত্য শিল্প সংস্কৃতির এক অনন্য সৃষ্টি, যার লতাপাতার চমৎকার কারুকাজ গুলো মুগ্ধ করার মতো। এছাড়া পূজা মন্ডপের শিল্পিত কারুকাজ শতবছর পর এখনও পর্যটককে মুগ্ধ করে।


তিনটি নাট মন্দির যা তিনটি বাড়ীর সামনে অবস্থিত। দ্বিতল বিশিষ্ট নাচঘরটি মাঠের মাঝখানে রয়েছে। উপেন্দ্র সরোবর নামে বিশাল একটি আট ঘাটলা পুকুর রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা

এ সম্পদ অধিগ্রহণের পর এখানে গড়ে তোলা হয় বিসিআরজি ডিগ্রী কলেজ (১৯৬৭)।

টাংগাইল সদর থেকে ৩৫কিমি. দক্ষিণে নাগরপুর উপজেলার লৌহজং নদীর তীরে পাকুটিয়া জমিদার বাড়ী অবস্থিত।

৯) নাগরপুর জমিদার বাড়ি



প্রায় ৫৪ একর জমির উপর শৈল্পিক কারুকার্যমণ্ডিত নাগরপুর চৌধুরীবাড়ী প্রতিষ্ঠা করেন যদুনাথ চৌধুরী। কথিত আছে কলকাতার আদলে নাগরপুরকে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। এখান থেকেই তিনি জমিদারি পরিচালনা করতেন। রঙ্গমহলের পাশে ছিল সুদৃশ্য চিড়িয়াখানা। সেখানে শোভা পেত- ময়ূর, কাকাতোয়া, হরিণ, ময়না ইত্যাদি।

অন্যান্য স্থাপনা: ঝুলন্ত দালান, ঘোড়ার দালান, রংমহল, পরীর দালান

কারুকার্য: অট্টালিকাটির অভ্যন্তরের কাজটি সুদৃশ্য শ্বেত পাথরের। পাশ্চত্য এবং মোঘল সংস্কৃতির মিশ্রনে এক অপূর্ব নান্দনিক সৌন্দর্যে নির্মিত এই চৌধুরীবাড়ী।

অধিগ্রহণ: দেশ বিভক্তির পর তদানিন্তন সরকার চৌধুরীবাড়ীর সকল সম্পদ অধিগ্রহণ করে (১৯৪৭)।

বর্তমান অবস্থা: নাগরপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজটি চৌধুরীবাড়ীর মুল ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।চৌধুরীবাড়ীর দক্ষিণে ১১ একর জমির ওপর একটি বিরাট দিঘি রয়েছে, এটি উপেন্দ্র সরোবর নামে পরিচিত।

১০) বালিয়াটি প্রাসাধ:



“গোবিন্দ রাম সাহা” বালিয়াটি জমিদার পরিবারের গোড়াপত্তন করেন। ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি লবণের বণিক ছিলেন। জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকারের মধ্যে “কিশোরিলাল রায় চৌধুরী, রায়বাহাদুর হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী তৎকালীন শিক্ষাখাতে উন্নয়নের জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কিশোরিলাল রায় চৌধুরীর পিতা এবং যার নামানুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত, এই প্রাসাদ চত্বরটি প্রায় ১৬,৫৫৪ বর্গমিটার জমির উপর ছড়িয়ে থাকা ৭টি দক্ষিণমুখী দালানের সমাবেশ। এই দালানগুলো খ্রিষ্টীয় মধ্য ঊনবিংশ শতক থেকে বিংশ শতকের প্রথমভাগের বিভিন্ন সময়ে জমিদার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। সামনের চারটি প্রসাদ ব্যবহৃত হত ব্যবসায়িক কাজে। এই প্রসাদের পেছনের প্রাসাদকে বলা হয় অন্দর মহল যেখানে বসবাস করত তারা।

বালিয়াটি প্রাসাধের সব ছবি একত্রে: বালিয়াটি প্রাসাধ: একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ফটো ব্লগ এবং একটি বিজ্ঞাপন

১১) নবাব প্যালেস



প্রায় ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই জমিদার বংশ বা জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রিটিশদের কাছ থেকে বাহাদুর, নওয়াব, সি.আই.ই খেতাবপ্রাপ্ত জমিদার খান বাহাদুর সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরী। যিনি ব্রিটিশ শাসনামলে প্রথম মুসলিম হিসেবে ব্রিটিশ সরকারের মন্ত্রীত্বের পদ লাভ করেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তির মধ্যে তিনি একজন এবং বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম প্রস্তাবক ছিলেন তিনি। তবে একটি সূত্রমতে মোঘল শাসনামলে সেনাপতি ইস্পিঞ্জর খাঁ ও মোনোয়ার খাঁ সিংহ নামের একজনকে পরাজিত করে উক্ত জমিদারীর সূচনা করেন। তবে এই জমিদার বাড়ির প্রসিদ্ধ প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সৈয়দ নবাব আলী চৌধুরীকেই ধরা হয়। যদিও তারা বাবা এখানে এসে প্রথমে বসতি স্থাপন করেন। তিনি বেশ সুনামের সাথে উক্ত জমিদারী পরিচালনা করতে থাকেন। এরপর জমিদারী আমল থেকে এখন পর্যন্ত তার বংশধররা উক্ত জমিদারীর আওতায় থাকায় সবকিছু দেখভাল করতেছেন। এই জমিদার বংশের একজন মোহাম্মদ আলী বগুড়া পাকিস্তানের তৃতীয় নম্বর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এবং আরেকজন সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প মন্ত্রী ও বাংলাদেশ গঠনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল বি.এন.পি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

চাইলে দেখতে পারেন:

১) একদিনের ভ্রমন টাঙ্গাইলে ...
২) একদিনে টাঙ্গাইলের পাঁচ জমিদার বাড়ী ভ্রমণ
৩) টাঙ্গাইলের বাস ও কিছু হোটেলের ফোন নাম্বার।


সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৫
৩০টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রম্যরচনা : ইয়ে

লিখেছেন গেছো দাদা, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:১৪

এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক সহজাত হাসি দিয়ে বললেন - আজ্ঞে আমার ইয়েতে একটু সমস্যা আছে!!
বাঙ্গালী এখনো এঁটো আর যৌনতা নিয়ে পুরোপুরি সাবলীল হয় নি। তবু বিশদে জানতে জিজ্ঞেস করলাম -... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জাপান ভ্রমণের শতবর্ষ পর নীলসাধু জাপান পৌঁছলেন

লিখেছেন নীলসাধু, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪২











কিছুক্ষণ আগে আমার প্রকাশিতব্য বই নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছি। এই বইমেলায় আমি ব্লগে কম আসছি। তাই ভাবলাম স্ট্যাটাস নিয়েই সহ ব্লগারদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমলা শ্রেণীকে গাড়ি, বাড়ি, মোটা বেতনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে জনগণকে আরো কঠিন অবস্থার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১:১৯

সঞ্চয় পত্রের সুদের হার কমানোর অর্থ হচ্ছে, মানুষকে সঞ্চয়ে নিরুৎসাহিত করে সঞ্চয়পত্র কেনা টাকাগুলোকে বাজারে নিয়ে আসা । ইতিমধ্যে নানা অকার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়পত্র কেনা থেকে নিরুৎসাহিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বীনের ক্ষমতা- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৬



খিলগাঁও, বাগিচা এলাকায় আমরা আড্ডা দিতাম।
বাগিচা মসজিদের ঠিক উলটো পাশেই চুন্নুর চায়ের দোকান। এই চায়ের দোকানে একসময় রোজ আড্ডা দিতাম, আমরা চার পাচজন বন্ধু মিলে। বিকাল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেগম জিয়াকে ছেড়ে দেয়ার কথা উঠলে, মনটা খারাপ হয়ে যায়

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:১৮



বেগম জিয়ার বয়স বেশী হয়েছে, এই বয়সে আত্মীয়স্বজন থেকে দুরে, জেলে বাস করা সহজ নয়, এটা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়; এবং সেটার সমাধানও আছে; উনাকে উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×