somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্লীজ, ওদেরকে বাঁচতে দিন!

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাছ কর্তন, শতাধিক শামুকখোল পাখির মৃত্যু! এমন সংবাদে আৎকে উঠেছি আমি। শামুকখোল পাখিরা এই সময়টাতে বাসা বানায়, বাচ্চা দেয়। বর্ষার শেষটা ওদের প্রজনন মৌসুম। কিন্তু শামুকখোলদের কাঁচা ঘড়বাড়ি নিমিশেই ভেঙে দেয়া হলো। ওদের চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী হয়েছে ঠিকই কিন্তু পাষন্ড মানুষদের হৃদয়ে সে কান্নার আওয়াজ পৌঁছেনি। সবে মাত্র বাচ্চার জন্ম দিয়েছে শামুকখোলেরা। ছানাগুলো এখনো ভালো করে উড়তে শিখেনি। এখনো ওদেরকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতে হয়। উড়তে শিখলো হয়তো হতাহতের পরিমানটা কম হতো। আচমকা এক ঝড়ে সাজানো সংসার আর স্বপ্নগুলোর অপমৃত্যু মেনে নিতে হলো মা পাখিদের।

ওরা আর কতকাল নিজেদের আশ্রয় বদলাবে? প্রায় ৮ বছর আগে শামুকখোল পাখি নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের ভিতর এবং আশপাশের গাছগুলোতে বাসা বাঁধে। এখানে শামুকখোল প্রজাতির কয়েক হাজার পাখি নিরাপদেই ছিল। পরে ২০১৯ সালে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমির নির্মাণ কাজ শুরু হলে অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়। এতে পাখিগুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।

নতুন আশ্রয় হিসাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনের গাছগুলোকে খুঁজে নেয়। এখানে এসেও হারাতে হয় বাসস্থান। ২০২০ সালে হাসপাতালের গাছের ডালপালা কাটার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। দ্বিতীয়বারের মত আশ্রয় হারিয়েও রাজশাহী ত্যাগ করেনি শামুকখোলের দল। তারা দ্রুতই হাসপাতালের পূর্ব পাশের রাস্তার ধারের গাছগুলোতে আশ্রয় নেয়। সে আশ্রয়ও হারাবার পথে, ওদরে এখন বেঁচে থাকাই অনিশ্চিত!




গাছকাটার ফলে অর্ধশতাধিক পাখির ছানা প্রাণ হারায়। যারা পঙ্গুত্ব বরণ করে তাদেরও শেষ রক্ষা হয়ে উঠেনি। হাসপাতালের স্টাফরা আহত ছানাগুলোকে জবাই করে নিয়ে গেছে! এই বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক দায়সারা গুছের কথা বলেন। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, এই হাসপাতালের গাছগুলোতে বরাবরই প্রজনন মৌসুমে শামুকখোল পাখিরা এসে বাসা বেঁধে বাচ্চা ফোটায়। হাসপাতাল চত্বরের যে গাছগুলোর আশপাশে মানুষের আনাগোনা বেশি, সেগুলোতেই পাখিরা বেশি বাসা বাঁধে।

গাছ কেটে ফেলায় শামুকখোল পাখির ছানা মারা যাওয়ার ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান তিনি। অথচ এর আগে হাসপাতালের এক কর্মকর্তার গায়ে পাখির বিষ্ঠা লাগায় তিনি গাছ কেঁটে ফেলার অনুমতি দেন। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, হাসপাতাল এলাকা কখনো পাখির অভয়ারণ্য হতে পারে না। এটি হাসপাতালের কনসেপ্টের সঙ্গে যায় না। পাখির বিষ্ঠায় হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সমস্যা হচ্ছে। এ কারণেই জরুরি বিভাগ ও শৌচাগারের সামনের দুটি গাছের ডালপালা কাটার পরিকল্পনা ছিল তাদের।

সরকারী জমিতে গাছে বাসা বাঁধা পাখিদের তাড়ানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে অথচ বেসরকারী ভাবে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার বাগান ভাড়া নেয়া হচ্ছে পাখিদের বাঁচানোর জন্য। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের আমবাগানে শামুকখোল পাখির বাসা ভাড়ার জন্য পাঁচজন বাগান মালিককে তিন লাখ ১৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। আমচাষিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

বেশ কয়েক বছর ধরে বর্ষাকালের শেষে বাচ্চা ফোটানোর আগে খোর্দ্দ বাউসার এই আমবাগানে বাসা বাঁধে শামুকখোল পাখি। গত বছর বাগান মালিক বাগান পরিচর্যায় পাখিদের উচ্ছেদের উদ্যোগও নেন। তাতে বাধা দেন স্থানীয় পাখিপ্রেমীরা। পরে কেন ওই এলাকাকে পাখির অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন উচ্চ আদালত। পরে আদালতের নির্দেশেই ক্ষতিপূরণ পান বাগান মালিকরা।

তবে আশার কথা হচ্ছে আজকে বন বিভাগের এক চিঠিতে গাছ কাটা বন্ধ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয় সরকারী সংস্থাগুলো পাখিদের রক্ষায় কি পদক্ষেপ নেয়।

বিস্তারিত:

এক গাছ কেটেই শত শামুকখোল ছানা হত্যা

শামুকখোল পাখি বাঁচাতে গাছ না কাটতে পরিবেশ অধিদফতরের চিঠি


সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ১১:৫২
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মা জননী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯


তুমি আপসহীন বলে ঘুমিয়ে গেলে
শহীদ জিয়ার পাশে অশ্রুসিক্ত শুধু
বাংলার মাটিতে ধানের শীষে শীষে
তোমার নামের ধ্বনিতে গান গায়ব
আমরা শুনোবো যে দোয়েলের ঠোঁটে
তুমি চিরামলিন তোমার কর্ম আদর্শে
আমরা জাগবো লাল সবুজ পতাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

=হাঁটি, আমি হাঁটি রোজ সকালে-মনের আনন্দে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

রোজ সকালে খুব হাঁটার অভ্যাস আমার, সকালটা আমার জন্য আল্লাহর দেয়া অনন্য নিয়ামত। হাঁটা এমন অভ্যাস হয়েছে যে, না হাঁটলে মনে হয় -কী যেন করি নাই, কী যেন হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×