চট্টগ্রামে গভীর রাতে থানায় জিডি করলেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী। গত বুধবার একটি অনুষ্ঠান শেষে গাড়িতে ওঠার সময় তার কাছে যুবলীগের এক নেতা চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদা না পেয়ে ওই নেতা তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে জিডিতে এই সংগীত তারকা উল্লেখ করেছেন।
তবে এই ঘটনার সঙ্গে নগর আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের কোন নেতার সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন দলটির নেতারা। অন্যদিকে যে নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সেই যুবলীগ নেতা মামুনুর রশীদ মামুন এই ঘটনাকে নিছক ‘দুষ্টামি’ বলে মন্তব্য করেছেন।
গতকাল দুপুরে নগরীর কোতোয়ালি থানায় গিয়ে জিডির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এতে কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন রাতে তিনি চট্টগ্রাম ক্লাবে একটি অনুষ্ঠান শেষে বের হয়ে বাইরে আসেন। রাত আনুমানিক একটার সময় তিনি অপেক্ষমাণ প্রাইভেটকারে উঠতে গেলে তার গতিরোধ করা হয়। একটু দূরে যুবলীগ নেতা মামুনুর রশীদ মামুন তাকে নাম ধরে ডাক দিলে তিনি দাঁড়িয়ে যান। কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকার পর মামুন নিজেই তার কাছে এসে তার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তার পকেটে হাত দিয়ে বলেন, ‘কত টাকা আছে দেখি।
জবাবে রবি চৌধুরী কোন টাকা নেই বলে জানালে খানিক রেগে যায় মামুন। পরে মামুন তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে তিনি আপত্তি তোলেন। ওই সময় যুবলীগের এ নেতা তাকে গালিগালাজ করতে করতে গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু রবি চৌধুরী সরে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করলে মামুনের রাগ বেড়ে যায়। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম ক্লাবের অনুষ্ঠানের আয়োজকরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে রবি চৌধুরী জিডিতে উল্লেখ করেছেন। জানতে চাইলে গতকাল বিকালে মানবজমিন-এর কাছে কণ্ঠশিল্পী রবি চৌধুরী জিডির সত্যতা নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে এসে এই প্রথবারের মতো এমন একটা ঘটনা ঘটবে তা আমার স্বপ্নেও ছিল না। মামুনের সঙ্গে আমার পূর্বে পরিচয় হয়েছিল। বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তবে এবার সে কেন এমন করলো ঠিক বুঝতে পারলাম না।’ এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মামুন ক্ষমতা দেখিয়ে আমাকে টাকা না দিলে গুলি করবে বলে হুমকি দিয়েছে। এই সময় সে মাতাল ছিল বলে লোকজন আমাকে জানিয়েছে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গভীর রাতে তাই থানায় জিডি করতে বাধ্য হয়েছি।’ এ অভিযোগ হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন যুবলীগ নেতা মামুনুর রশীদ মামুন। এ বিষয়ে তিনি মানবজমিনকে বলেন, ‘রবি চৌধুরী আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তার সঙ্গে এর আগে অনেকবার আমার কথা হয়েছে। আড্ডা হয়েছে। যে ঘটনাটি ঘটেছে তা বন্ধুত্বের আচরণ বলতে পারেন। সে অনেক বড় শিল্পী।’ এই বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তার সঙ্গে নিছক মজা করে এসব কথা বলেছিলাম। কিন্তু সে ব্যাপারটা এভাবে নেবে তা জানা ছিল না। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।’ এদিকে এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত ঘটনা বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক দানু বলেন, ‘ঘটনাটি আমার কানে এসেছে। শুনেছি। তবে এটি মনে হয় তাদের দু’জনের ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে আওয়ামী লীগ কিংবা যুবলীগকে জড়ানো ঠিক হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মামুন এক সময় আমাদের দলের সঙ্গে ছিল। এখন নেই। তাই তার ঘটনা নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।’

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



