আজ যদি রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকত; ইচ্ছে হত
তার পদ্মায় বজরায় ঘুরে বেড়াবার- প্রকৃতির রূপে
অবগাহনে, গাইবার সেই প্রেমের গান অথবা
ছবি আঁকার; তাহলে ফারাক্কার ভাটিতে এসে
ধুধু বালুচরে গরুর গাড়ী কিংবা পালকি চড়ে
কি করে মেটাতো তার সেই সাধ ?
আজ যদি মধুসুধন বেঁচে থাকত; ইচ্ছে হত
তার কপোতাক্ষে সাঁতার কাঁটার; তা’হলে
হাঁটুজলে কাদায় গড়াগড়ি করে সেকি তার
দেহটারে মাটিতে লুটায়ে; বর্ষায় বঙ্গের রূপে
অবঙ্গীয় কায়দায় হাসিতে লুটোপুটি খেত?
আজ যদি নজরুল বেঁচে থাকত; ইচ্ছে হত
তার বিদ্রোহী কবিতার পংক্তিগুলো আওড়াতে
যেখানে প্রতিদিন বিদ্রোহীরা আত্মহননে মরিয়া;
পিতার বিরুদ্ধে পুত্রের দ্রোহ,পুত্রের বিরুদ্ধে পিতার;
যেখানে মানুষের ভীড়ে অমানুষেরা রাজত্ব করে;
যেখানে ঠিকাদার রাজনীতির আসনে,
রাজনীতিকরা ঠিকাদার;ধর্মের নামে চলে অধর্ম।
যেখানে সন্ত্রাস তাড়াকরে ফিরে দিনে ও রাতে;
সেখানে কি করে আওড়াত তাঁর বিদ্রোহি কবিতা?
আজ যদি লালন শাহ বেঁচে থাকত; ইচ্ছে হত
তার মরমী গানের সুরে উজার করে গাইতে
মানবতার সম্মিলনি গান; জাত-পাতের ভেদ
ভুলে জেগে ওঠত মানুষের প্রাণ। তা’হলে
গাঁজার আসরে বুঁদ হয়ে চেঁওড়িয়াতে কিসের
সুরে সুর মেলাত একতারাতে?
তা’হলে কবিরা কেন কবিতা লেখে?
যেখানে কবিরা শাব্দিক বাণে আহত; বর্ণেরা
ক্রন্দন করে; দ্রোহের দহনে কবিরা হারানো
দিনের সুখানুভব করে; তবু মৃত কবিরাই
আজও প্রেরনা দেয়; জীবন্তরাই মৃত।
পুরানো
কবিরাই- আগামীর গান গায়-
ধন্য হে বাংলা মা
তোমার কূলজুড়ে কবিরা জন্মেছিল
দ্রোহ, শুদ্ধপ্রেম আর ভালবাসার রঙ ছড়াতে
মানুষের মনে? প্রীতি ও মমতায় জড়াতে
মানুষে মানুষে। পরাধীনাতার গ্লানি এড়াতে।
আজও তাদের কবিতাই শুধু পড়তে ইচ্ছে করে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




