somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটুখানি পদ্য

১০ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক রাত্তির দুটো। কতদিন কতরাত আমি একাকী জেগে থাকি। টেবিলে কফিমগ. বাইরে তুষার তখনো ঝুরঝুর। যেন ছোটবেলার বায়না ধরা সাদামেঘ. হাওয়াই মিঠাই; চারআনাতে কেনা আমার একচিলতে ছোটবেলা- হারিকেনের মিহি আলোয় দুলতো মাথা, লেপের আদর, চিকন বাতাস, ঝাপসা হতো বইয়ের সব পাতা। তখন চারিদিক ভাসতো আজানের সুরে। বড় পবিত্র দশদিক। শুদ্ধ হতাম, সেই সাথে পৃথিবী। আমার পৃথিবী, আমার ভুবন। সেই দিগন্ত যেখানে শেষ সেখানে নীল আকাশ, ফসলের মাঠ, কচি টিয়া রঙ ধানক্ষেতের বুকটা জুড়ে। হাওয়ায় দোলা শনশন। যতদূর চোখ যায় সবুজের মাখামাখি- তারই মধ্যখানে সিঁথির মতো পায়ে চলা পথ। ঐ দূরে বহেড়তলীর হাট, বয়েসী অশ্বত্থতলা। কাঁচা বাঁশ, মাটির ছোট গৃহ, পসরা হরেক। পায়ে পায়ে কৃষ্ণচুড়ার লাল ডালের ছায়া মিশতো আমার বংশাই নদীর জলে। কত আপন তার ঘোলা গভীর জল। দু'কূল ছায়ায় ছলাৎ ছলাৎ অপূর্ব কোলাহল। ছেঁড়া পালে মাঝি চলে দূর দেশ। সরে যায় গ্রাম-জনপদ, কত খালবিল। ছইয়ের তলায় নতুন রাঙাবউ। সিক্ত তার চোখের তারা। মলিন হয় কাজল। বাপের বাড়ি আর কতদূর? কোথায় এমন তালের সারি বাবুই পাখির বাসা? ঘন বাঁশঝাড় ছাড়িয়ে গেলে পুরনো দিনের দালানকোঠা, আম কাঁঠালের বন পেরিয়ে ভাঙা খেয়াঘাট, সর্ষে ফুলের মন মাতাল ঘ্রাণে পাগল করা গাঁও।

ছিল চৈত্র দুপুর, বোশেখ মাসের ঝড়, আম কুড়ানোর দল। কেমন করে ভুলতে পারি মাটির হাঁড়ি ভরা খেজুর রস, পাটালী গুড়ের ক্ষীর, মায়ের হাতের ভাপা পুলি। বাবার ফেরার গুনছি প্রহর। কখন খাবো ঠোঙা ভরা গরম জিলাপীর রস।

তারপর পেছন ফেলে কতটা বছর........... দুরন্ত শৈশব, অদক্ষ কৈশোর। কখন যেন বুকের কোনে রঙধনুরই রঙ। চেনা মফস্বল কেমন যেন অচেনা হয়ে যায়। গোধূলী রাঙা ভালবাসা ধূসর কেবল ময়ূরকন্ঠী নীল। তবুও আমার সবটা জুড়ে তারই বসবাস। "প্রিয়" কেমন তোমার বেলী তলার ফুল, চিলেকোঠার একলা ঘরে ঝুম বৃষ্টিভেজা ছাদ? হয়না জানি প্রথম বরষায় তোমার কোন স্নান। ছোঁওনা তুমি নাওনা তুমি কদম ফুলের ঘ্রাণ। এখনো কি জানালায় তোমার চড়ুই পাখিটা খেলে। প্রজাপতির পেছন পেছন ফড়িং লেজে সুতা বেঁধে তুমি এখনো ছুটতে পারো? ধবল জোসনার অমন রোদে পুড়তে একা কেমন লাগে, কেমন করে গোনো তুমি আকাশ জোড়া তারা। অচেনা মেয়ের নাটাই ঘুড়ি আসে কি তোমার কবিতা পড়ার ঘরে? প্রিয়, তুমি এখনো কবিতা পড়? কেমন তোমার কবিতাবিহীন সকাল সন্ধ্যেরাত?

যখন কেবল তুমি ছাড়া অন্য কেউনা-
মায়াবী কাজল চোখে না বলা সব ভাষা,
জানোনা কি কাশফুল, সবুজ দুর্বা ঘাস,
এ........ই...... পদ্য; .............................
৮টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বমিনং করোনং ইচ্ছং

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১১


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী
১৫০।(১) এই সংবিধানের অন্য কোন বিধান সত্ত্বেও ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে এই সংবিধান প্রবর্তনকালে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত বিধানাবলী ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ স্বাধীনতা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:১২


বাবা পাখিটি গাইছে গান
আমড়া গাছের ডালে।
ছানাগুলো নিশ্চিন্তে
মায়ের বুকের তলে।

রীনা বসে বীনা বাজায়
মীনা গায় গান।
দীনা বলে পুষবো পাখি
একটা ধরে আন।

মা শুনে কয় বনের পাখি
বনেতেই মানায়।
বন্দী পাখি হয় যে দুঃখী
উচিত কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×