somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিন্দাবাদি শৈশব সঙ্গীত ও ষাটোর্ধ বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ।

১৬ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাকিস্তান জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ ! !!
পূরব বাংলার শ্যামলিমায় - পঞ্চ নদীর তীরে অরুনিমায়,
ধূসর সিন্ধুর মরু সাহারায়, ঝাঁন্ডাই জাগে যে আজাদ
পাকিস্তান জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ !!!! "
-কবি গোলাম মোস্তফা।

সময় ১৯৫৬ সাল, পুর্ব বাংলার মুসলমানের জীবনে এই প্রথম বাংলাভাষায় জাতীয় সঙ্গীত নামের কোন বস্তুর অভিজ্ঞতা। প্রথম আন অফিসিয়াল জাতীয় সঙ্গীত। পশ্চিম পাকিস্তানীরা "পাক সার জমিন" গাইলেও ভাষা আন্দোলনের কারনেই হয়তো পুর্ব পাকিস্তানের জন্য বাঙ্গালী পলেটিশিয়ানরা ঝুঁকি নিতে চাইলেন না । তাই তারা একটা বাংলা কওমী তারানা খুঁজলেন। যা বাংলা ভাষায় হবে আবার একই সাথে পাকিস্তানের তুস্টি বাক্যও থাকবে। যাতে পাকিস্তানবাদ নিয়ে কোন সংশয় থাকলো না আবার বাংলা ভাষাও হাজির নাজির হলো। সব মিলে পাকিস্তানের ভক্তিরসে সিক্ত বাঙ্গালীর দেশাত্মবোধক সঙ্গীত।

এরপর বেশ কিছু দিন পুর্ব পাকিস্তানের স্কুলগুলিতে বাঙ্গালী স্কুল পড়ুয়া শিশুদের সুর করে এই জাতীয় বর্জ গাইতে হতো। অবশ্যি ২ বছরের মাথায় আইয়ুব খান ক্ষমতায় এসে আধাআধি কোন কিছুর মধ্যে গেলেন না। বাংলা জিন্দাবাদি কওমী তারানা বুটের ঘায়ে উড়িয়ে দিয়ে এর বদলে পউর্ন উর্ধু তারানা এ পাকিস্তান "পাক ষাড় জমিন সাদ বাদ" কায়েম করে দিলেন।

এর পর ৫৪ বছর, তবুও কেন জানি ৬০ উর্ধ বাঙ্গালী মুসলিমের দিলের একটা অংশ জুড়ে ঐ "জিন্দাবাদ" এখনো বহাল তবিয়তে টিকে আছে। অনেকেই তাদের স্বাধীন বংশধরদের মাঝেও ঐ সঙ্গীতের বাংলাদেশ ভার্সনের জেনেটিক ট্রান্সফার সাফল্যের সাথে করতে পেরেছেন। এমনকি আজকের ষাটোর্ধ রাজনীতিবিদেরাও খোকা খুকি থাকাকালীন ঐ জিনিস সুর করে গাইতেন। শৈশবের গাওয়া জিন্দাবাদ গীতের রেশ এখনো বাংলাদেশের কিছু ৬০ উর্ধ রাজনীতিবিদের মধ্যেও প্রবল ভাবেই দেখা যায়।

তবে যখন শেখ হাসিনা আজকে শরিয়াহ আইনে বিচার চালানোর কথা বলেন তখন বেশ বিব্রতবোধ করি। ভাবতে বাধ্য হই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নিশ্চয় খুকুমনি থাকা অবস্থায় স্কুলের কোরাশে ঐ পাক(!) সঙ্গীত গাইতেন। শৈশবে গাওয়া ঐ গানের রেশ উনিও অবচেতন মনে ধরে রাখেননিতো ?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১২ রাত ১১:৩৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পুরো বিশ্বকাপ জুড়েই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তৌহিদী জনতা।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪


ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চে সারা বিশ্ব যখন মেতে ওঠে, তখন আমাদের দেশের একদল মানুষের অতি-উৎসাহ এবং অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড সমাজের একটা বড় অংশকে বিভ্রান্ত ও বিরক্ত করেছে। ফাইনাল ম্যাচের রাতেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবশেষে শেষ হলো! কিন্তু তিনি ফিরবেন কবে?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

আমি সর্ব প্রথম আগ্রহ নিয়ে ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ দেখেছিলাম ১৯৯৮ তে। তখন আমি ক্লাস ৮এর ছাত্র।



আমার বড় ভাইয়ের তখন ফ্রান্সে যাবার কথা আমার আম্মার এক আত্মীয়ার বরের ব্যবসা ছিলো ফ্রান্সে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল খেলা নিয়ে আমার সামান্য কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২৮

গতকালের FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল খেলায় মেসি অত্যন্ত নিষ্প্রভ ছিলেন। দর্শকদের তাকে মাঠে খুঁজতে হয়েছে, তিনি তার চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, মাঠের সর্বকোণে বল... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেতনা, ৭১ , পাকিস্তান ঘৃনা ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:০৫


যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনাম দুটো দেশের অর্থনৈতিক যাত্রা শুরু হয় প্রায় একই সময়ে কিন্তু তুলনামূলক ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে ভালো ছিল। বাংলাদেশে ছিল অনেক ভারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে আমার মন ভালো নেই

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



দুঃখের সময়ে নানান মানুষের কথা মনে পড়ে। খুব কাছের মানুষের কথা মনে পড়ে আবার অনেক দূরের মানুষের কথাও মনে পড়ে। রক্তের আপন মানুষের কথা তো মনে পড়েই তবু একদিন কীভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×