ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটনের কথা ধরে যে কেউ এমন দাবি করতেই পারে।
হায়দার হোসেনের ‘ত্রিশ বছর ধরে স্বাধীনতাটাকে আমি খুঁজছি’ গানের তাফসীর করে রিটন প্রমান করতে চেয়েছেন, হায়দার জামাতি সুশীল। যদি তাই হয়, তাহলে সায়ানের ‘আমার মুক্তিযোদ্ধারা’ গানের রিটনীয় তাফসীর করলে সায়ানকে অনায়াসে মহিলা জামাতের নেত্রী বলা যেতে পারে। ষড়যন্ত্র তত্বটা যেহেতু বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয়, তাই যে কেউ যদি বলে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অংগনকে কৌশলে মওদূদীবাদিদের দখলে নেয়ার জন্য সায়ান গান করা শুরু করেছেন; সেটা অন্যায় হবে কেন? এবং এ কথাটাও জোর দিয়ে বলা যায়, সায়ান ছাত্র জীবনে গোপনে ছাত্রী সংস্থার সদস্যা ছিলেন। কেউ যেন বুঝতে না পারে তাই উপরে উপরে প্রগতিশীল আর আধুনিকতার ভেক ধরে আছেন।
বড় বড় ষড়যন্ত্রগুলোতো এভাবেই হয়ে থাকে। যেমন মোসাদের কোন সদস্য হয়ত মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন বড় কোন আলেমের পরিচয় ধারণ করে।র’ এর কোন সদস্য বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে কাজ করছে মসজিদের ইমাম হিসেবে, কেউ বুঝতে পারছে না।
রিটনীয় তাফসীরের দৃষ্টিভঙ্গিতে সায়ানের গানটাকে দেখতে চাইলে যে কারো কাছেই সেটা আপত্তিকর মনে হবে।
গানের কথা গুলো এমন-
আমার দেশের যোদ্ধা তুমি লইও আমার সেলাম,
তোমার নামে নানান খবর বাজার থেকে পেলাম।
আমার মুক্তিযোদ্ধা তুমি লইও আমার সেলাম।
যে দু হাতে অস্ত্র ধরে মরতে গিয়েছিলে
রক্ত দেবার সুযোগ পেয়ে বর্তে গিয়ে ছিলে।
স্বাধীনতার শত্রু যারা
সামনে তোমার পড়লে তারা
হাত কাঁপেনি হাঁসি মুখে খুন করেছ তুমি
তুমি নাকি সে দুহাতে
সুযোগ পেয়ে দিনে রাতে লুট করেছো.....
লুট করেছো, লুট করেছো, লুট করেছো... আমার জন্মভূমি।
শোন, আজকে যাদের নাম শুনিলেই ভক্তিতে প্রাণ কাঁপে
যেন নয় তাহারা সমান সবাই যোদ্ধা সমান মাপে
মহান তাদের ভাবছো যত
নয় সকলে অত
আহা! যার ইতিহাস ভাজবে যত বুঝবে তুমি তত
সেদিন তোমার সাহস দেখে কৃতজ্ঞ এই দেশ
অনন্ত কাল থাকবে ঋণী আমার বাংলাদেশ ।
তারপরে কি খুব গোপনে হিসেব কষ আপন মনে!
সে সাহসের মূল্য তোমায় এ দেশ দিল কত ?
তাই কি তুমি রক্ত চুষে আমার নরম মাটি চুষে,
নিজেই নিজের নাম কষিয়ে বিলাস কর অত!
শোন আজকে তবে জানাই তোমায় মীর জাফরের ছেলে,
তুমি জীবন দিতে গিয়েও কেন জ্যান্ত ফিরে এলে?
আমার মাটি সেদিন তোমায় চিনতে পেরেছিল,
সে যে রক্ত তোমার নেবে না তাই ফেরত দিয়েছিল।
আমার মুক্তিযোদ্ধা তুমি লওইয়ো আমার সেলাম।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কী জঘন্য কথা ( রিটনীয় তাফসীর অনুসারে), তাই না! হায়দার হোসেনের গানের মর্ম ভারীা গোঁফধারী গাল ফোলা রিটন বুঝতে পারেননি এমনটা ভাবার কোন সুযোগ নেই। রিটন বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছেন ( যখন আমাদের মত নাদানরা বুঝতে সক্ষম, তখন এই কথা বলাই যায়)। সাথে সাথে এটাও বুঝতে পেরেছিলেন যে, এটা নিয়ে এ মূহুর্তে একটা নাড়াচাড়া দিলে আলোচনায় আসা যাবে।লোকজন চিনবে। কয়জন এর আগে ছড়াকার রিটনকে চিনত! আমি নিজে অন্তত চিনতাম না, কিন্তু এখন চিনি।
এই সরকারের মোটামুটি নিষ্কন্টক স্থায়ীত্ব লক্ষ করে অনেক লোকই এখন চেতনার ডালি নিয়ে ব্যাবসায় নেমে পড়বেন এটাইতো স্বাভাবিক। যতসব সুবিধাভোগী! ছড়া-কবিতা আর প্রবন্ধ না ছাই!
যতটুকু জানি হায়দার হোসেন সুফিবাদী দর্শনে বিশ্বাসী একজন মানুষ। মওদূদীবাদ, ওহাবীবাদকে যারা দুচোখে দেখতে পারেনা। তারপরও রিটন হায়দার হোসনকে জামাতি সুশীল বলেছেন এবং বিডি নিউজের মত প্রভাবশালী অনলাইন পোর্টাল এই গাঁজাখুরি কথা গুলো মতামত বিশ্লেষণ বিভাগে বলার সুযোগ করে দিয়েছে। তথাপি সায়ানকে মহিলা জামাতের নেত্রী বলা কেন নয়?
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ২:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




