সাবেক অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট বলেছেন, ইসলাম ধর্মে ‘বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে’ এবং এটি পুনর্গঠন প্রয়োজন। তার এই মন্তব্যে খোদ অস্ট্রেলীয়ায়ই তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আসলে এই মাহেন্দ্রক্ষনের জন্যই পশ্চিমা কুশীলবরা বছরকে বছর অপেক্ষা করে আছেন, কখন কথাটি বলার পরিবেশ আসবে। যে পরিবেশ সৃষ্টি করার বীজ অ্যাবটরা বহু আগেই বপন করেছিলেন। সর্বশেষ আইএস যা করা শুরু করেছে তার প্রেক্ষিতে এধরনের কথাতো বলাই যায়।
এ জন্যে অ্যাবটদের দোষারোপ করলে করা যেতে পারে বৈকি। তবে সর্বাগ্রে এবং মোটাদাগে দোষারোপ করতে হবে তাদের, যারা ইসলামকে উপস্থাপন করার দায়িত্বটি ইজাড়া নিয়েছেন। এই ইজাড়াদাররা মনে করেন ইসলামকে উপস্থাপনের জন্য আল্লাহ তাদের এক ধরনের মনোনয়ন দান করেছেন। তারা মনে করেন তাদের কাছে এলহাম আসে। সুতরাং তারা যেভাবে ব্যাখ্যা দান করবেন সেটাই ইসলাম।
এই ধারনাপ্রসূত উনারা না দ্ধার ধরেন বিজ্ঞানের , না দর্শনের, না সাহিত্যের, না সমাজতত্বের। মূলত উনাদের ধারণা কোরআন এবং হাদীস ছাড়া বাকী সবই মানব সৃষ্ট জ্ঞান। এগুলো চর্চা করা না করাতে কোন লাভ ক্ষতি নেই( শরীয়তের ভাষায় একে সম্ভবত মুবাহ বলা হয়)। কিন্তু আমার অবাক লাগে যেখানে সেটা হল , কোন জ্ঞানই যে মানুষ সৃষ্টি করতে পারেনা সেটাতো উনাদের সবার আগে বুঝার কথা। এমনকি দুনিয়াতে সবচে ভয়াবহ কাজের যে জ্ঞানটা সেটাওতো আল্লাহরই সৃষ্টি ( যদি ‘ মিন শাররি মা খ্বলাক্ব- এবং সে সব খারাপ জিনিস হতে মুক্তি চাই যা তিনি সৃষ্টি করেছেন’ সূরা ফালাক্বের এই আয়াতটা সত্য হয়)। এ ব্যাপারটা বুঝতে পারেন না বলে ‘তলাবুল এলমে ফারিদাতুন আলা কুল্লি মুসলিমুন’ হাদিসটার অনুবাদ- ‘জ্ঞানার্জন প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর উপর ফরজ’ করার সময় জ্ঞানার্জনের পাশে ব্রাকেটে লিখেন ‘শরিয়তের জ্ঞান’। অর্থাৎ অনুবাদটা লেখেন এই ভাবে-‘জ্ঞানার্জন (শরীয়তের)প্রত্যেক মুসলিম নর নারীর উপর ফরজ।‘মানব সৃষ্ট জ্ঞান’ কথাটি বলে যে উনারা ভয়াবহতম শিরক করেন তাও কি উনারা বুঝতে পারেন? পারেন না।
এই যখন ইজাড়াদারদের অবস্থা তখন তারা ইসলামকে কিইবা অনুধাবন করবেন আর কিইবা উপস্থাপন করবেন। এখন আপনি-ইজাড়াদার যখন এই দুটি জিনিস করতে না পারায় পশ্চাৎপদ হয়ে থাকবেন তখন আপনার শত্রুরা কি বসে থাকবে ? থাকবে না। তারা একে পুঁজি করে অনেক কিছু করতে চাইবে। আপনার যখন পর্যাপ্ত জ্ঞান নেই তখন আপনি নির্ঘাত ইসলামকে খারাপ ভাবেই উপস্থাপন করবেন। অনেক সময় দেখা যাবে অর্থ, হাতিয়ার আর বুদ্ধির অভাবে যতটুকু খারাপ ভাবে উপস্থাপন করতে চান ততটুকু খারাপ ভাবে উপস্থাপন করতে পারছেন না; তখন আপনার শত্রুরা এসব সরবরাহ করে আপনাকে সাহায্য করবে। শয়তান বলেছিল না! ‘আমি ডান দিক থেকে (বন্ধু হয়ে) আসব, বাম দিক থেকে (শত্রু হয়ে) আসব’।
তাদের লাভ? তাদের লাভ হল অ্যাবট যে কথাটি বলেছেন সেটি বলতে পারা।আর এই কথাটি বলতে পারায় লাভ হল এর সাথে জড়িয়ে আছে বৈশ্বিক ক্ষমতার রাজনীতি এবং আরো বহু কিছু (এটা বুঝানোর জন্য পৃষ্ঠার পর পৃৃষ্ঠা লেখা প্রয়োজন, সেটি আপাতত পারছি না)।
অতএব অ্যাবটদের দোষ কোথায়?! দুখানা গালি দিয়ে আপনি হয়ত পিত্তি ঠান্ডা করতে পারেন। কিন্তু আসলে হবেটা কি?
যে বিষয়টা করা জরুরী সেটা হল খোপমুক্ত চিন্তার অধিকারী হতে হবে। আপনাকে চিন্তা করতে শিখতে হবে , যা কিছু সত্য এবং সুন্দর তাই ইসলাম, যা কিছু বিবেক তাই ইসলাম। ইসলাম দিয়ে বিবেককে নয় বরং ইসলামকে বুঝতে হবে বিবেক দিয়ে। তাহলেই ইসলামের সঠিক অনুধাবন ও উপস্থাপন সম্ভব হবে বৈকি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




