somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যখন হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মরছে তখন শেখ কামাল এবং শেখ জামালের বিয়ে হলো সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে।( সত্য জেনে নিন ১৫ই আগস্ট কেন এসেছিলো )

১৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সদ্য স্বাধীন দেশ বছর ঘুরে তৃতীয় বছরে পা দি দিতে না দিতেই ই জনগণের প্রত্যাশার প্রদীপ ধপ করে নিভে গেলো । আমদানী আর বিতরণ প্রক্রিয়ার প্রত্যেকটি স্তরে দুর্নীতি , কালোবাজারী , চোরাচালান ইত্যাদির বদৌলতে খাদ্য সরবরাহ অবনতির দিকে ধাবিত হতে লাগলো । মানুষ খেকো বাঘের মতো দুর্ভিক্ষ সারাদেশে সদর্পে ছেয়ে গেল ।

গ্রাম গুলোতে মশা-মাছির মতো মানুষ মরতে শুরু করলো । মুজিব নিজেই সরকারী ভাবে স্বীকার করেছে ২৭,০০০ লোক মারা গিয়েছে । এই হিসাবটা যথেস্ট কম ছিল । শুধু উপোস করাই নয় তার ফলশ্রুতিতে পুষ্টিহীনতা , টিকে থাকার ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি কারনে মরেছে আরও অনেক বেশী । কিছু কুটনৈতিক অনুমান করছেন এই দুর্ভিক্ষে কমপক্ষে ১০ লক্ষ মানুষ মারা যেতে পারে

(( সেই সময়ের দুর্ভিক্ষে চিত্র ১ নং ২ নং চিত্র দেখতে পারেন ))

দুর্ভিক্ষের হাত থেকে মানুষকে বাচানোর জন্য ১৪, আগাস্ট ১৯৭৪ শেখ মুজিবর রহমান সকল দাতা দেশের কাছে ত্রানের আহ্বান জানান । এবং বিদেশি সাহায্য দিয়ে ২৩শে সেপ্টেম্বর ,৫৭০০ লঙ্গর খানা খোলা হয়েছে ।সে সমস্ত লঙ্গরখানার ইতিহাস আর এক করুণ কেলেঙ্কারীর ইতিহাস।

সারা দেশ থেকে মানুষ ছুটে চললো শহর মুখি , তাদের প্রত্যাশা ছিলো মুজিব তাদের মুখে দু মুঠো ভাত তুলে দেবে কিন্তু তাদের আশা যে আশাই রয়ে গেলো ।।

( লঙ্গর খানায় কি রকম হট্যগোল হয়েছিলো তার প্রমান নিচের ৩নং ছবিটি )

“একটি তিন বছরের শিশু এতই শুকনো যে, মনে হল সে যেন মায়ের পেটে থাকাকালীন অবস্থায় ফিরে গেছে। আমি তার হাতটা ধরলাম। মনে হল তার চামড়া আমার আঙ্গুলে মোমের মত লেগে গেছে। এই দুর্ভিক্ষের আর একটি ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান এই যে, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে ৫০ লাখ মহিলা আজ নগ্ন দেহ। পরিধেয় বস্ত্র বিক্রি করে তারা চাল কিনে খেয়েছে।”

“সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে এবং গাড়ী আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম-এর লরীর পিছনে পিছনে চলেছে। এই সমিতি ঢাকার রাস্তা থেকে দুর্ভিক্ষের শেষ শিকারটিকে কুড়িয়ে তুলে নেয়। সমিতির ডাইরেক্টর ডাঃ আব্দুল ওয়াহিদ জানালেন,“স্বাভাবিক সময়ে আমরা হয়ত কয়েক জন ভিখারীর মৃতদেহ কুড়িয়ে থাকি। কিন্তু এখন মাসে অন্ততঃ ৬০০ লাশ কুড়াচ্ছি- সবই অনাহার জনিত মৃত্যু।”

উপরের এই প্যারা দুটি প্রখ্যাত তথ্য-অনুসন্ধানী অষ্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক জন পিলজারের লিখা। লেখাটি ছাপা হয়েছিল ১৯৭৪ সালের ১৭ই ডিসেম্বর লন্ডনের ডেইলী মিরর পত্রিকায়। তার এই কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছিল ১০ই সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকে যখন কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার ডাটিয়া পাড়ার এক জেলাপাড়ার বস্ত্রহীন “বাসন্তি” মাছ ধরার জাল পড়ে লজ্জা ঢাকা ছবি ছাপা হয়েছিল। (যদিও এ ছবিকে একটি সাজানো নাটক বলে মন্তব্য করেন একশ্রেণীর বিশ্লেষক কিন্তু এইঘটনার মত ঘটনা যে ঘটেছে তা তো আর মিথ্যা নয়, এইসব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেক খুঁজে পাওয়া যাবে )

( ৪নং ছবিটি বসন্তির )

তাজউদ্দীন ছিলেন শেখ মুজিবের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বিশ্বস্ত বন্ধু। দুর্ভিক্ষের ওইদিনগুলিতে ব্যাক্তিগতভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রী কে বহুবার অব্যাবস্থাপনা সম্পর্কে সতর্ক করে সংকট উত্তরণের পথে ব্যাপক পরামর্শ দিয়েছেন। মন্ত্রীসভা বৈঠকেও তিনি কয়েকবার তার মতামত তুলে ধরেন।
এতে কাজ না হওয়ায় এই সৎ ও মানবতাবাদী রাজনীতিবিদ বিদেশ সফর শেষে ঢাকায় ফিরে '৭৪ -এর ১৩ অক্টোবর বিমানবন্দরে প্রেস ব্রিফিংয়ে দুর্ভিক্ষের সত্যতা স্বীকার করে বলেছিলেন,
" বিদেশে বাংলাদেশের যে ইমেজ দেখে এসেছু তাতে আমার মন ভেঙে গেছে। বাইরে গেলে বাংলাদেশকে চেনা যায়। পত্রিকায় লেখা হয় মিঃ ফোর্ড বঙ্গবন্ধুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এতে দেশের ইমেজ নষ্ট হয়। ব্যক্তি বড় জিনিস নয়। জনগণ যদি মনে করে আমি যোগ্য নই, তাহলে গদীতে থাকার কোন অধিকারই আমার নেই। মানুষকে বাঁচাতে হবে। ভিক্ষের চাল দিয়ে পেট ভরে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ সব দেশেই হয়। কিন্তু এমন অবস্থা হয় না। এ অবস্থার জন্য আমি আপনি দায়ী। পয়সা আনাটা বড় জিনিস নয়।"

প্রধানমন্ত্রীর প্যাডে ১৯৭৪ সালের ২৬ শে অক্টোবর সকাল ১১ টায় শেখ মুজিব তার অর্থমন্ত্রীকে লিখলেন, --
" প্রিয় তাজউদ্দীন আহম্মদ,
বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে আপনার মন্ত্রীপদে অধিষ্ঠিত থাকা সমচিন নয় বলে আমি মনে করি। তাই আপনাকে আমি মন্ত্রী পদে ইস্তফা দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এই সাথে আপনার স্বাক্ষরের জন্য পদত্যাগপত্র পাঠানো হল।
ইতি
শেখ মুজিবুর রহমান "

( তাজউদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ পত্রটি ৫নং ছবিতে আছে দেখতে পারেন )

ওইদিন বেলা ১২ টা ২২ মিনিটে তাজউদ্দীন আহম্মদ প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষর করেন।শেখ মুজিবের নির্দেশে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া তাজউদ্দীন আহম্মদ বিকেল বেলা সাংবাদিকদের বলেছিলেন,
" আজকের দিনটি আমার কাছে খুবই পবিত্র। "
ক্ষমতায় থেকেও দুর্ভিক্ষ পীড়িত মানুষের মৃত্যু ঠেকাতে না পারার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েই হয়তো তার সেই দিনটিকে 'অত্যন্ত পবিত্র ' বলে মনে হয়েছে। কিংবা সংসদীয় গণতন্ত্রের ব্যবস্থার অবস্থানে তাকে আর শরিক হতে হবে না ভেবেই তার সেই উপলব্ধি তা বলা কঠিন।
শুধু বলা যায় মন্ত্রীত্ব হারানোর দিনটি তার কাছে ' অত্যন্ত পবিত্র '।

এরই মাঝে মার্চ ১৭, ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবের ৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৫৫ পাউন্ড ওজনের কেক কাটেন শেখ মুজিব নিজেই!!!

যখন হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মরছে তখন শেখ কামাল এবং শেখ জামালের বিয়ে হলো সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই বিয়ে হয়েছিল নতুন গণভবনে বিশাল আয়োজন। অগুনিত অতিথির ভীড়। মনে হচ্ছিল পুরো ঢাকা শহরটাই এসে উপস্থিত হয়েছে বিয়েতে। বর্নাঢ্য জাকজমক পরিবেশে বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। বিয়ের মন্ডপে কামাল-জামাল দুই ভাই সোনার মুকুট মাথায় দিয়ে বর সেজে বসেছিল। বিয়ের পরদিন প্রায় সবগুলো দৈনিক পত্রিকায় বড় করে ছাপানো হল প্রধানমন্ত্রীর দুই ছেলের সোনার মুকুট মাথায় পড়ে বিয়ের খবর। একই পাতায় ছাপানো হয়েছিল দুর্ভিক্ষপীড়িত, অনাহারক্লিষ্ট, হাড্ডিসার মুমুর্ষ মানুষ নামি কঙ্কালের ছবি এবং দুর্ভিক্ষের খবর। ১৯৭২ সালে কোন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবর রহমান ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, “কবে যে বাংলাদেশের মেয়েরা স্বর্নালঙ্কার বাদ দিয়ে বেলী ফুলের মালা পড়ে বিয়ে করবে!” তার এই খায়েশটাও বেশ ফলাও করে বেরিয়েছিল খবরের কাগজগুলোতে। কিন্তু রাজনীতিবিদদের কথা আর কাজের মধ্যে কত তফাৎ! বিয়ের ব্যাপারটা হয়তো বা ছোট কিন্তু এ বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়েছিল সব মহলেই। ..

( ৬নং ছবিটি শেখ কামালের বিয়ের ছবি )

ইতিহাস সত্যি বড়ো নির্মম । সারাদেশের মানুষ না খেয়ে মরছে কিন্তু তার দিকে যেন রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গবন্ধুর কোন খেয়ালই নেই । তিনি তার পরিবার নিয়ে দিব্যি শুখেই ছিলেন ।।

এখন প্রশ্ন হলো , সাড়া দেশে দুর্ভিক্ষ তার মাঝে তিনি এতো অর্থ কই পেলেন ?

যদি তার জমানো অর্থ থাকে তাহলে কেন সে টাকা ক্ষুধার্থ মানুষের মধ্যে বিলি করলেন না ?

সাড়া দেশের লোক না খেয়ে মারা যাচ্ছে তার মাঝে তিনি কি করে ৫৫ পাউন্ড কেক কেটে জন্মদিন পালন করলেন

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৫ রাত ৮:৪২
১২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×