somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘আমার দেশ ছাড়ো’ বলে পরপর গুলি, আমেরিকায় হত ভারতীয় ইঞ্জিনিয়র !!!!!

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশ ছাড়ার হুমকি দিয়ে একের পর এক গুলি চালিয়ে খুন করা হল এক ভারতীয় ইঞ্জিনিয়রকে। গুরুতর আহত আরও এক ভারতীয়-সহ দু’জন। আমেরিকার কানসাসে ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে।

(শ্রীনিবাস কুচিভোতলা)
জানা গিয়েছে, বছর বত্রিশের শ্রীনিবাস কুচিভোতলা হায়দরাবাদের বাসিন্দা। কানসাসের গার্মিন ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করতেন তিনি। বুধবার রাতে অলোক মাদাসানি নামের এক বন্ধুর সঙ্গে কানসাসের ওলাথের স্থানীয় এক পানশালায় গিয়েছিলেন শ্রীনিবাস। অলোকও পেশায় ইঞ্জিনিয়র। সূত্রের খবর, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ওই পানশালায় যান শ্রীনিবাস ও অলোক। হঠাৎই এক ব্যাক্তি পানশালায় ঢুকে তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাথারি গুলি ছুড়তে শুরু করে। ‘মধ্য প্রচ্যের মানুষ আমার দেশ থেকে বেরিয়ে যাও’ বলে বারবার চিৎকার করছিলেন ওই ব্যাক্তি।

(অ্যাডাম পুরিনটন)
পুলিশ সূত্রে খবর, মার্কিন নৌবাহিনীর প্রাক্তন সদল্য অ্যাডাম পুরিনটন(৫১) নামের ওই ব্যাক্তির ছোড়া গুলিতেই মৃত্যু হয় শ্রীনিবাসের। গুরুতর জখম হন অলোকও। তাঁদের বাঁচাতে এসে গুলিবিদ্ধ হন স্থানীয় বাসিন্দা, ল্যান গ্রিলট। অলোক ও গ্রিলটকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনার পাঁচ ঘন্টা পর মিসৌরি এলাকার অন্য একটি পানশালা থেকে গ্রেফতার করা হয় অ্যাডামকে। মিসৌরির এই পানশালার এক কর্মী পুলিশকে বলেন, মধ্য প্রাচ্যের দুই ব্যাক্তিকে গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন অ্যাডাম। ভারতীয় দূতাবাসের দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের চেষ্টায় শ্রীনিবাসের দেহ ভারতে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় টুইট করে শ্রীনিবাসের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

দুইদিন আগের আর ও একটি ঘটনা --
নামের শুরুতে মহম্মদ! দেখে ঢুকতেই দিল না আমেরিকা-------নামটাই যেন খুব সন্দেহজনক!
মহম্মদ দিয়ে শুরু। পাসপোর্ট হাতে নিয়েই তাই বাঁকা চোখে তাকিয়েছিলেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক মহিলা অফিসার। তার পর টুলের উপর দাঁড়ানো অবস্থায় হাঁটু পর্যন্ত প্যান্ট নামিয়ে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালালেন অন্য দু’জন। মিলল না কিছুই। তখনকার মতো বিমানে উঠতে দিলেও একটু ক্ষণ বাদেই নিউ ইয়র্কগামী বিমান থেকেই নামিয়ে দেওয়া হল ব্রিটিশ মুসলিম শিক্ষক মহম্মদ জুহেল মিয়াকে (২৫)।
১৬ ফেব্রুয়ারি, আইসল্যান্ডের রাজধানী রেকিয়াভিকের ঘটনা। তার পরের দিনই ব্রিটেনে ফিরে গিয়েছেন স্কুলশিক্ষক জুহেল মিয়া। কিন্তু অপমানটা ভুলতে পারছেন না আজও। শুধু মুসলিম বলেই কি তাঁকে এ ভাবে হেনস্থা করা হল— কিছুতেই উত্তর পাচ্ছেন না অঙ্কের তরুণ শিক্ষক। তাঁর কথায়, ‘‘চট করে মাথা গরম করাটা আমার স্বভাব নয়। কিন্তু বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যে ভাবে বিমান-ভর্তি লোকের সামনে আমাকে নামিয়ে দেওয়া হলো, মানতে পারছি না। আমি কি অপরাধী! বিমানে আমার স্কুলের বাচ্চারাও ছিল। ভাবতে পারছেন, ওদের চোখেও কতটা ছোট হয়ে গেলাম!’’ তল্লাশির পরে জুহেলকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিমান ওড়ার কিছু ক্ষণ আগে কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষী গিয়ে তাঁকে সটান নেমে যেতে বলেন। জানানো হয়, আমেরিকায় তাঁর প্রবেশ নিষেধ। কেন? মার্কিন প্রশাসনের কাছে এর জবাবদিহি চেয়েছেন তাঁর স্কুল কর্তৃপক্ষও। উত্তর মেলেনি এখনও।
হোয়াইট হাউসে এসেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান, ইরাক-সহ সাতটি মুসলিম দেশ থেকে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিলেন। মার্কিন ফেডেরাল কোর্টের রায়ে আপাতত তা আটকে গিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি যে বদলায়নি, জুহেলের ঘটনায় তা ফের স্পষ্ট হয়ে গেল বলেই মনে করছে সোশ্যাল মিডিয়ারও একটা বড় অংশ। ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় প্রথম থেকেই মুসলিম-বিদ্বেষের স্পষ্ট গন্ধ পাচ্ছিলেন অনেকে। এ ক্ষেত্রেও ঠিক সেটাই হয়েছে বলে অভিযোগ জুহেলের। তাঁর কথায়, ‘‘আমার সাত পুরুষের কেউ ওই সাত দেশের নয়। আমি কখনও ওই সাতটি দেশের একটাতেও যায়নি। গত বছরও আমার ভাই ফ্লোরিডা থেকে ঘুরে এসেছে। বুঝতে পারছি না, কেন আমার সঙ্গে এমনটা হল।” জুহেল জন্মসূত্রে বাংলাদেশি। তবে জন্ম বার্মিংহামে। তাঁর পড়াশুনো আগাগোড়া ইংল্যান্ডেই। স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়ে তিনি শিক্ষামূলক ভ্রমণে আইসল্যান্ড গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের নিউ ইয়র্কে যাওয়ার কথা। শেষ পর্যন্ত জুহেলকে ছাড়াই বাকিদের আমেরিকা যেতে হয়। আইসল্যান্ড থেকে তাঁর ব্রিটেনে ফেরার ব্যবস্থা করে জুহেলের স্কুলই।

(ব্রিটিশ শিক্ষক জুহেল মিয়া।)
সু;-- আনন্দবাজার।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ বিকাল ৩:১৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×