somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বহুত্ববাদী এই দেশের মেরুদণ্ডে হিমস্রোত এখন !!!

১৯ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উত্তরপ্রদেশের বিপুল জয় তাদের কতটা আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে, কোনও রাখঢাক না রেখেই খুব দ্রুত তার প্রমাণ দিল বিজেপি। বহুত্ববাদের চর্চার ঐতিহ্যকে পিছনে সরিয়ে, সহিষ্ণুতার প্রকাশ্য আভরণকে বর্জন করে কট্টরবাদের পথেই ফুল বিছিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহেরা। কট্টরপন্থী যোগী আদিত্যনাথকে লখনউয়ের সিংহাসনে বসিয়ে গোটা দেশে বার্তাটা স্পষ্ট করে দিল বিজেপি।


যোগী আদিত্যনাথ মানে বিতর্ক, অসহিষ্ণুতা ও মুসলিমবিদ্বেষ— এই বক্তব্যটি তিনি নিজেও কোনও দিন খারিজ করেননি। বস্তুত সযত্নে লালন করে এসেছেন এই ভাবমূর্তিটি কয়েক দশক ধরে। এমনটা নয় যে, সম্প্রতি তিনি পাল্টেছেন। এ বারের ভোটেও তাঁর কট্টর বক্তব্যের ঘোষণার ডেসিবেল বরং বাড়িয়েই গিয়েছেন এক পর্যায় থেকে আর এক পর্যায়ে। তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে পুরস্কার দিল দল।

(উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হওয়ার পরে সরকার গড়ার দাবি নিয়ে রাজ্যপাল রাম নাইকের কাছে যোগী আদিত্যনাথ। সঙ্গে রয়েছেন বিজেপির অন্য নেতারাও।)
এই পুরস্কারই যদি দেওয়ার ছিল, তবে শেষ মুহূর্তের এই গৈরিক চমক কেন? কেন পূর্ব ঘোষণা ছিল না? কেন ভোটে গেল না বিজেপি এই নামকে সামনে রেখেই? কারণ সেখানে আশঙ্কা ছিল। বহু ধর্ম বহু মত বহু জাতি বহু সম্প্রদায়ের বৃহত্ এই রাজ্য যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়? অতএব ঝোলাটি ঢাকা রাখার দরকার ছিল তখন। তখন ছিল উন্নয়ন অথবা নোটবন্দির নামে আমিরির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক বাতাবরণ।

ইঙ্গিত যে একেবারে ছিল না, তা কিন্তু নয়। ৪০৩টি আসনের একটিতেও মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করায়নি যে দল, ভোটের মুখে আদিত্যনাথরা রামমন্দির নির্মাণের সদম্ভ ঘোষণা করছিলেন দেখেও চুপ থেকেছিল যে দল, বিপুল ভাবে ক্ষমতায় এসে যোগীর মতো কট্টরপন্থীকেই তারা যে বেছে নেবে, এখন বোঝা যাচ্ছে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই।

এই বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট। বহুত্ববাদী এই দেশের মেরুদণ্ডে সেই বার্তায় হিমস্রোত এখন। এই দেশের মেরুদণ্ড অবশ্য অন্য ধাতুতে তৈরি। ইতিহাস সাক্ষী, বার বার ঋজুতার পরিচয় দিয়েছে সে। সেই দেশ, তার মেরুদণ্ড, তার এ যাবত্ কালের সাধনা, ভাবনা এখন নতুন পরীক্ষার সামনে।

কোনও সংশয় যেন না থাকে, জয় হবে শেষ পর্যন্ত মানুষেরই। যে মানুষের কারবারে মেরুকরণের মুদ্রা একেবারেই অচল।
সূঃ-- আনন্দবাজার
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×