বলতে পারেন অনেক ছোটো বেলা থেকেই কবিতার প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করেছি। এটা কেনো হলো তা ঠিক ভাবে বলতে পারবো না। তবে অনুমান করছি পিতামাতার প্রভাব না হলেও পূর্বপুরুষের হাত অবশ্যই আছে।
কাব্য রসের ছোঁয়া বর্তমান বাংলাদেশের ঘরে ঘরে দেখতে পাওয়া যায়। আমার আসক্তিটা তেমন হলেও পারত। কিন্তু দুর্ভাগ্য কিংবা সৌভাগ্য আমার, তা ঠিক তেমনটা নয়।
আধুনিক কবি সাহিত্যিকদের মতন ছন্দহীন কবিতা আমার দ্বারা হয় না। কিন্তু শুধু মিল বিন্যাস রেখেও কবিতা লিখতে ইচ্ছা করে না। স্বভাবত বন্ধুমহলে যাদের কবিতা লিখতে দেখেছি, কিংবা যাদের কবিতা পড়েছি, তাদের সবার মধ্যেই একটি জিনিস সব সময় লক্ষ্য করেছি; আমার মতন কবিতা তারা কেউই লেখে না।
নিজের ঢোল নিজে পিটাচ্ছি না। আমি বলছি না আমার কবিতা খুব মানসম্মত। আমি শুধু বলছি, মান যেমনই হোক; আমার কবিতা ওদের কবিতা থেকে অনেক ভিন্ন।
একবার অ্যাকাউন্টিং পড়তে কলেজের এক স্যারের বাসায় গিয়েছিলাম। এ ঘটনা বলছি স্যারের জন্য না, বরং তার বাসায় পাওয়া এক কবিতার বইয়ের জন্য। স্মৃতি আমাকে ধোকা দিচ্ছে, তাই সঠিক মনে নেই বইটি সম্পর্কে। তবে যা নজরে আসলো তা ঠিকই মনে আছে।
আমার মতামত অনুযায়ী খুবই বীভৎস প্রকৃতির কবিতা ছিলো সেটা। সেজন্যই হয়ত শুধু একটা মাত্র চরণ মনে আছে। "সেই পানিকে আমরা বৃষ্টি বলে জানি।" কবিতাটা বৃষ্টি নিয়েই ছিলো, এবং এই চরণের আগের চরণে আকাশ থেকে পানি পড়ে কিংবা এর সমমানের কিছুই লিখা ছিলো।
তো আমার কথা স্পষ্ট। আমাদের দেশে কবিতা বলতে এক সময় যা ছিলো এখন আর তা নেই। এখন কবিরা আকাশ থেকে পানি পড়া নিয়ে কবিতা লিখবে, তা আগেও অনেক কবি লিখেছেন, সেটাতে দোষ নেই। কিন্তু এরকম বীভৎস উদ্ধৃতির মাধ্যমে প্রকৃতিকে প্রদর্শন করলে প্রকৃতি নিজেও হয়ত লজ্জায় মুখ লুকাবে।
আমার ঘনিষ্ট একজন বন্ধু, বলতে পারেন আমার সর্বপ্রিয় বন্ধু (বান্ধবী নয় কিন্তু), বর্তমান সময়ের আমার দেখা ক্ষুদে কবিদের মধ্যে অন্যতম একজন। তার কবিতায় প্রাচীন কবিতার কেবল একটি মাত্র গুণ ফুটে উঠে। আর তা হলো মিলবিন্যাস।
'কখকখ' মিলবিন্যাসের একটি কবিতা যদি লিখতে বলেন, তাহলে সেটা হয়ত কিছুটা এমন হবে-
"আমি দেখেছিলাম তাকে,
থাকতে সে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে।
হয়ত কিছু না বলা কথার ফাঁকে,
ইচ্ছে ছিলো তার মাঝেই যাবো হারিয়ে।"
জানানোর জন্য বলে দেই, উপরের চরণ ৪টি কোনো স্বার্থক কবিতা নয়; বরং মিলবিন্যাসের উদাহরণ প্রদানের জন্য লিখিত মাত্র।
এইতো গেলো মিলবিন্যাস। শুধু এটুকুর প্রভাবেই অনেক প্রেমিক নিজেদের কবি পরিচয় দেবার সাহস রাখছে। বাস্তবে নিজেকে কবি বলতে আমি ভয় পাই। কারণ একজন কবি স্বার্থক কবিতা লিখতে কতটা কষ্ট করেন, সে সম্পর্কে আমার ধারণা ভালোই আছে। সামান্য মিলবিন্যাস আর তুচ্ছ ছন্দ দিয়ে আমি কখনই তাদের সমকক্ষ হতে পারবো না।
পছন্দের কবিদের মধ্যে সবার আগে নাম নিবো মাইকেলের। উনার সনেট যতবার পড়ি, ততবার যেনো মুগ্ধ হই। এরপর কবি নজরুল আর রবিন্দ্রনাথ তো আছেনই।
এখন কবিতার যে বিষয়টা তুলে ধরবো, তা মাইকেল তার সনেটের মধ্যে খুবই গাণিতিক হিসাবের প্রমাণের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। আর তা হলো অক্ষর গণনা।
কবিতা কোন ছন্দে রচিত, তা ভেদে এ অক্ষর বা মাত্রা গণনাতেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। প্রধান ৩টি ছন্দ হলো- স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত এবং অক্ষরবৃত্ত। এছাড়া আরও একটি ছন্দ বর্তমানে খুবই জনপ্রিয়, আর তা হলো গদ্য ছন্দ। আমার কাব্যিক চেতনা আমাকে গদ্য ছন্দের কবিতা হতে দূরে ঠেলে দেয়। আমি এরকম কবিতার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারি না।
প্রধান তিন ছন্দের মধ্যে স্বরবৃত্ত ছন্দে কবিতা রচনা করাই হয়ত সবচেয়ে সহজ। আর তাই আমারও অনেকগুলো কবিতা এ ছন্দেই রচিত। মুক্তক বা মুক্তাক্ষর ১ মাত্রা; যুক্তক বা যুক্তাক্ষর বা বদ্ধাক্ষরও ১ মাত্রা।
হয়ত একে একে সব ছন্দই বর্ণনা করতাম, কিন্তু অতটা শিক্ষিত হয়ে উঠিনি এখনও। তাই আপাতত স্বরবৃত্ততেই শেষ করতে হবে।
এই স্বরবৃত্ত ছন্দে অনেক ছড়া রচিত হয়েছে; আর বাস্তবে ছড়া রচনা করার জন্য এ ছন্দ খুবই সহায়ক। একটা ছড়া আমিও লিখেছিলাম...
আজ তবে এ পর্যন্তই। এই সময় নিয়ে পাঠ করে থাকলে মন থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরবর্তী পোস্টে একটি ৮ মাত্রার স্বরবৃত্ত ছন্দে আমার লেখা কবিতা তুলে ধরবো ইনশাআল্লাহ্।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


