বিদায় হে ২০২৫,তোমার সাথে আমার দেখা হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই,
আহা!সময়গুলো কতদ্রুত ফুরিয়ে যায় জীবন থেকে।বছর এখন মনে হয়,একদিনের মতো হয়ে গিয়েছে।সময়ের বরকত নেই।হাদিসে আছে কেয়ামতে আগে সময় খুব দ্রুত যাবে,হাদিসটা মনে নেই এজন্য উল্লেখ করতে পারলামনা।কিন্তু সেখানে বলা হয়েছে।বছর মনে হবে মাসের মতো,মাস দিনের মতো,এবং দিন মনে হবে ঘন্টার মতো দ্রুত।আমার মনে হয় এখনই তেমনটা হচ্ছে।কেয়ামতের তাহলে আর বেশি দেড়ি নেই বলা যায়।
এক সাহাবী নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন,ইয়া রসূলাল্লাহ,কেয়ামত কবে হবে?
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও জানতেননা যে কেয়ামত ঠিক কবে হবে।এটা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো জ্ঞানে নাই,আর এর কোনো প্রয়োজন ও নেই।নবীজি সাহাবীকে বলেছিলেন,তুমি সেইদিনের জন্য কতটুকু প্রস্তুতি নিয়েছো শুনি।(স্মৃতি থেকে বলছি হাদিসটি আমার সামনে নেই)উক্ত সাহাবী উত্তর দিলেন,ইয়া রসূলাল্লাহ প্রস্তুতি তেমন নিতে পারিনাই,কিন্তু আমি আল্লাহ এবং তার রসূলকে ভালোবাসি।নবীজি বললেন তাহলে তুমি যাকে ভালোবাসো তার সঙ্গেই থাকবে।(মূল হাদিসটি সূত্রসহ কমেন্টে দেওয়ার চেষ্ট থাকবে)
অর্থাৎ কেয়ামতের দিন প্রত্যেকেই তার ভালোবাসার মানুষের সাথে থাকবে।এই বিষয়ে আমি আলাদা একটি পোস্ট দিবো ইনশাআল্লাহ।
হে ২০২৫! তোমার সাথে আমার আর দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই!
বছর শেষে যখন নিজের হিসাব মিলাতে বসি,নেক আমল তেমন দেখিনা,কিন্তু গুনাহের কাজই বেশি দেখি।এটা অবশ্য ভয়ের ব্যাপার!যতই চাই গুনাহ করবোনা,ততই গুনাহ হয়ে যায়।আয় আল্লাহ,গুনাহ থেকে আমাদেরকে বাঁচিয়ে দিন,নেক আমল করে রুহকে জান্নাতকে সুসজ্জিত করার তৌফিক দিন।অনেক পিছনে পরে গিয়েছি,আপনার অনুগ্রহে এবং দয়ায় আমাদেরকে সামনে এগিয়ে দিন।নিশ্চই আপনি যা চান তাই করতে পারেন।
বারটি মাসে একটি বছর হয়।এটা আমাদের হিসাব।সময়ের হিসাব একেক জায়গায় একেকরকম।যেমন আখিরাতের সময় এবং দুনিয়ার সময়ের হিসাব এক নয়।যদিও সময়ের উৎপত্তিগত হাকিকত এক এবং অভিন্ন।কিন্তু হিসাব এবং রং ভিন্ন।আখিরাতে একটি দিন দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান!ভাবতেই কেমন লাগে।কিন্তু এটাই সত্য।কেয়ামতের দিন মানে একটি দিন।কিন্তু বড় এবং লম্বা কত হবে?দুনিয়াতে পঞ্চাশ হাজার বছরে যতটুকু সময় হয় কেয়ামতের পুরো দিনটা এত বড় হবে।সেই দিন আল্লাহ তায়ালার নিকট বিভিন্ন দলে দলে ভাগ হয়ে মানুষ উপস্তিত হবে(কুরআন থেকে জানা যায়)মানুষের ভিতর বিভিন্ন শ্রেনীর মানুষ রয়েছে।এজন্য বিভিন্ন দল থাকবে।একটা পরিবার একটা দল হতে পারে।এবং পরিবারের মধ্যে সর্বাধিক পরহেজগার ব্যাক্তি পরিবারের আমির হতে পারে।পিতার থেকে যদি সন্তান বেশি পরহেজগার হয় তাহলে সন্তানই আমীর হওয়ার যোগ্য।আমীর নির্বাচন করা হয় মূলত পরহেজগারীতা,এবং জ্ঞানের ভিত্ততে,বয়সের ভিত্তিতে নয়।কেয়ামতের দিন পরহেজগারিতা অর্থাৎ তাক্বওয়ার ভিত্তিতে একজন আরেকজনের উপর মর্যাদাবান হবে।
২০২৫ সাল বিদায় নিয়ে চলে গেলো।জীবনের হিসাব মিটাতে বসে গুনাহের পাল্লা ভারী দেখতে পেলাম।নেকি একেবারেই কম।আবার অন্যের হক দিতে দিতে তাও নাই হয়ে যেতে পারে।কি বিপদ!
এই বিপদ থেকে বাঁচার একটাই পথ নেকি অর্জন করা।প্রয়োজনের থেকে বেশি অর্জন করে রাখা ভালো।কারন কাউকে এক্টা গালি দিয়েছি,এতেও নেকি দিয়ে দিতে হবে।
একটি কবিতা লিখার চেষ্টা করি বিদায়ী বছর নিয়ে,
হে ২০২৫,
তোমার সাথে আমার আর দেখা হবেনা,
দুনিয়া দেখবেনা আর তোমার মুখ,
মেহমানের মতো আমাদের নিকট এসেছিলে,
কিন্তু আমরা কত হতভাগা,
মেহমানের কদর করতে পারিনি।
কেয়ামতের দিন আমাদের বিরুদ্ধে,
কোনো গুনাহের অভিযোগ দায়ের কোরোনা,
কারন আমাদের গুনাহে বড় সাক্ষ তুমিই।।
তোমার সাথে জড়িয়ে আছে কত স্মৃতি,
যা কোনোদিনও ভুলতে পারবোনা।
গুনাহগুলো যদি মাফ হয়ে যায়,
শুধু নেকি গুলো থাকে,
তাহলে আনন্দের কোনো সীমা থাকবেনা।
এর আগেও জীবন থেকে চলে গিয়েছে,
আরো কত সময়,কত বছর।
একটা বছরকেও কাজে লাগাতে পারিনি।
শুধু গুনাহ দিয়ে পূর্ণ করেছি।
যদি গুনাহ জগতের নিকট,
প্রকাশিত হয়,তাহলে
লজ্জার কোনো সীমা খুঁজে পাওয়া যাবেনা।
হে ২০২৫,
আমি তোমাকে ভুলতে না পারলেও,,
তুমি অবশ্যই আমাকে ভুলে যেও।
কারন যত মনে করবে,
তত কষ্ট পাবে,এবং কান্না আসবে।
সময় চলে যাচ্ছে,
কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছেনা।
যতটুকু ভালো কাজ করি,
তাও রিয়া এবং নিফাক মিশ্রিত।
হে ২০২৫,
আমি তোমাকে ঠিকই কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু নফস এবং শয়তান,হস্তক্ষেপ করেছে।
সামনে ২০২৬ কে বরন করে নিচ্ছি,
এবং নতুন করে,দৃঢ়তা সহকারে নিয়ত করছি।
তোমার ক্ষতি আমি ২৬ কে
দিয়ে পুষিয়ে নিবো ইনশাআল্লাহ।
বিদায় হে ২০২৫!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




