وَبَیۡنَہُمَا حِجَابٌ ۚ وَعَلَی الۡاَعۡرَافِ رِجَالٌ یَّعۡرِفُوۡنَ کُلًّۢا بِسِیۡمٰہُمۡ ۚ وَنَادَوۡا اَصۡحٰبَ الۡجَنَّۃِ اَنۡ سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ ۟ لَمۡ یَدۡخُلُوۡہَا وَہُمۡ یَطۡمَعُوۡنَ
উভয়ের মাঝখানে একটি প্রাচীর থাকবে এবং আরাফের উপরে অনেক লোক থাকবে। তারা প্রত্যেককে তার চিহ্ন দ্বারা চিনে নেবে। তারা জান্নাতীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারা তখনও জান্নাতে প্রবেশ করবে না, কিন্তু প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।(মুসলিম বাংলা এপ থেকে নেওয়া)
—আল আ'রাফ - ৪৬
বি দ্র :আমি আয়াতের কোনো তাফসির করছিনা,সুধু বরকতের জন্য আয়াতটি দিলাম।কারন আমি কোনো মুফাস্সির নই, এবং তাফসির করতে পারিনা।আশ্চর্য হতে হয়,বর্তমানে অভিনব সব তাফসিরবিদ বের হয়েছে,যারা নিজেদের সীমিত জ্ঞান দিয়ে কুরআনের তাফসির করতে যায়,এবং মানুষকে দুর্বিপাকে ফেলে দেয়।কুরআনের তাফসির করার ক্ষেত্রে খবরদার এবং সাবধান থাকা উচিত।কারন আপনি তাফসির করে এমন একটি কথা বের করেছেন যা আসলে আল্লাহ তায়ালা বলেন নি অথবা উদ্দ্যেশ্য সেটা নয়, তখনই বিভ্রান্তির সম্মুখীন হতে পারে গোটা জাতি,এবং সেই দায়ভার আপনার ঘারে এসে পড়বে)
আরাফ বিষয়ে যতটুকু না জানলেই নয়-
আরাফ কি?
আরাফ একটি জায়গার নাম, যা জান্নাত নয় এবং জাহান্নামও নয়,বরং এই দুএর মধ্যবর্তী একটি জায়গা।
আরাফে কারা থাকবে?
আমাদের মনে অনেকসময় নিচের প্রশ্নগুলো আসে—
১।কাফেরদের মধ্যে অনেক পাগল আছে, অনেক শিশু আছে যারা কোনো পাপ না করেই মারা গেছে।আবার কাফেরেদর মধ্যে অনেক সাদাসিধে সরলমনা মানুষ আছে।আবার এমন মানুষ ও আছে যাদের নিকট দ্বীন ধর্মের বানী পৌঁছে নাই।আল্লাহর প্রমান দলিল অথবা নাম পৌছেনি।তারা কোনো পাপ কাজও করেনি, তারা কোথায় থাকবে।এই ধরনের লোকজনই আরাফে থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন লোকও আরাফে থাকার সম্ভাবনা আছে,যারা সৃষ্টিকর্তাকে পেতে চায়।কিন্তু কিভাবে পাওয়া যায় এই লাইনঘাট পায়নি।মনগড়া কোনো রাস্তাও তৈরি করেনি।কিন্তু সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়ার পিপাসা আছে।সারাজীবন এই পিপাসা নিয়ে থেকেছে এবং মারা গেছে,মুসলমান হতে পারেনি,এরা আরাফে যাওয়ার এমনকি নাজাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুরুপভাবে আরাফে এমন লোক থাকতে পারে,যাদের বড় ধরনের কোনো গুনাহ নেই,এবং নেকের কোনো কাজও করেনাই।সারা জীবনেও নামাজ পরেনি।কিন্তু কোনো গুনাহ করেনি।
তারপর জাহান্নাম থেকে উঠিয়ে কাউকে কাউকে আরাফে রাখা হতে পারে।
আরাফ থেকে কি জান্নাত দেখা যায়?
হ্যা।আরাফ এমন একটি জায়গা যেখান থেকে জান্নাত এবং জাহান্নাম দুটোই দেখা যায়।
জান্নাত দেখা যাওয়ার পর সেখানে না গিয়ে ধৈর্য ধারন করা কি সম্ভব?
দেখা এবং অনুভব করা দুইটা আসলে ভিন্ন।শুধু দেখার দ্বারা সেই স্বাদ হয়না,অনুভব করার দ্বারা যেই স্বাদ পাওয়া যায়।তারা শুধু দেখবে।কিন্তু বুঝতে পারবেনা অথবা জানতে পারবেনা যে তা কেমন মজার।এজন্য ধৈর্য ধরা সহজ হতে পারে।যদি কিছুক্ষনের জন্য জান্নাতের মজা অনুভব করিয়ে দেওয়া হতো,এবং কয়েক মুহুর্ত পর তা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হতো তাহলে ধৈর্য ধারন করা কঠিন হয়ে যেত।
কিন্তু আরাফবাসীদের মনে আশা থাকবে সেখানে প্রবেশ করার।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




