somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সুলাইমান হোসেন
পাওয়ার আনন্দের চেয়ে না পাওয়ার কষ্ট আমার নিকট বেশি মূল্যাবান।ব্যাথিত এবং ভাঙা দিলের উপর আল্লাহর নূর এবং তাজাল্লী বর্ষিত হয়।জাহান্নামিদেরকে জাহান্নামে এবং জান্নাতিদেরকে জান্নাতে দেখার পরেও অন্তরে ভাবান্তর না হওয়া প্রকৃত তাওয়াক্কুল

হাকিক্বতুল মায়ারিফ পর্ব —০৩

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


(এই পর্বে সমুদ্রের স্তন্যপায়ী প্রানী নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম।কিন্তু মানুষ নিয়ে আলোচনা এখোনোও পূর্ণ হয়নি।এজন্য আমরা মানুষ নিয়ে এখানে আবারও আলোচনা করব:প্রথম পর্বের পর থেকে।)

প্রানীকূলের বিস্ময়:আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন সমূহ

মানুষ

মানুষ প্রানীজগতের সর্বশ্রেষ্ঠ স্তন্যপায়ী প্রানী।জরায়ুতে ভ্রূণের বয়স যখন পরিপূর্ণ হয়,তখন পূর্ণ একটি মানব শিশুর রূপ ধারন করে।

তারপর নির্দিষ্ট সময়ে নারীর যোনিপথে শিশু ভূমিষ্ট হয়।শিশুটা ভূমিষ্ট হওয়ার পর তার জন্য নরম সহজে পরিপাকযোগ্য খাবারের প্রয়োজন হয়।এজন্য আল্লাহ তায়ালা মেয়েদের বুকে দুধ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।

একটি শিশুর জন্য প্রাথমিক সময়ে তার মায়ের বুকের দুধই শ্রেষ্ট খাবার।প্রতিটি শিশুই দুধপান করে বড় হয়।কারন প্রাথমিক সময়ে শিশুর শক্ত দাঁত গজায়না। ঐ শিশুটা ছেলে হোক মেয়ে হোক তার মায়ের বুকের দুধ পান করে বড় হতে থাকে।একসময় তার দাঁত গজায় এবং শক্ত হয়,এবং তার পরিপাকতন্ত্র শক্তিশালী হয়।সাধারনত ২-৩ বছর বয়স থেকে কিছু কিছু শক্ত প্রাকৃতিক খাবার খেতে শুরু করে।এবং এইসময় থেকেই মানব শিশু একটু একটু করে হাঁটা শিখে।তারপর চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে দৌড়াতে পারে,এবং জ্ঞান-বুদ্ধির সূচনা ঘটে।সে তার আশপাশের পরিবেশ এবং সঙ্গি সাথীদের থেকে শিখতে থাকে।এসময় মা-বাবার দায়িত্ব হলো খারাপ পরিবেশ এবং খারাপ সঙ্গ থেকে এবং মোবাইল ফোন স্মার্টফোন থেকেও শিশুটিকে দূরে রাখা।এসময় একটি শিশুর মানষিক বিকাশের সূচনা ঘটে।তারপর সাত বছর বয়সে শিশু শারীরিক মানষিক বিকাশ আরো শক্তিশালী হয়।এসময় তাকে হাত ধরে মসজিদে নিয়ে যেতে হবে এবং নামাজ শিক্ষা দিতে হবে।তবে শিশুটির কারনে যদি মসজিদে মুসল্লিদের নামাজে সমস্যা হয় তাহলে মসজিদে নিবেনা।বাসাতেই নামাজের তালীম দিবে।এবং এসময় শিশুটিকে মক্তবে অথবা নূরানী মাদরাসায় ভর্তী করে দিবে।তারপর তিন বছর নূরানী মাদরাসায় পড়ানোর পর শিশুটিকে যদি জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ইচ্ছা থাকে,তাহলে অন্য কোনো ভালো স্কুলে ভর্তি করে দিবে।আর যদি উভয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার ইচ্ছা থাকে তাহলে ভালো কোনো মাদরাসায় ভর্তি করে দিবে।সবার ভাগ্যে উভয় শিক্ষা জুটেনা,এজন্য শিশুটার মন মানষিকতার প্রতি লক্ষ রাখবে,তার মন যেই শিক্ষা গ্রহনে ইচ্ছুক এবং অধিক আগ্রহী তাকে সেই শিক্ষাই দিবে।সাধারনত ২৩/২৪ বছর বয়সে একটি শিশু তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করে,এই বয়সেই তাকে বিয়ে করিয়ে দিবে।একটি শিশু ১৬/১৭ বছর বয়সেই বিবাহের উপযুক্ত হয়ে যায়।সুতরাং ১৬/১৭ বছর বয়সে বিবাহ করানো আরো বেশি কল্যানজনক।যাতে কামপ্রবৃত্তিজনিত পাপকার্যে শিশুটি জড়িয়ে না পরে।কারন শিশুটিকে সময়মত বিবাহের ব্যাবস্তা না করলে তার পাপের দায় তার অভিভাবকদের উপরেও বর্তাবে।আমাদের দেশে দারিদ্রের কারনে সন্তানাদিকে বিবাহে দেরি করানো হয়।এমনকি ৩০+বয়সেও অনেকেই বিয়ে করে।যেটা পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতিকর।

০৭ থেকে ১৮ বছর বয়সের বালক বালিকাদের বৈশিষ্ট্য—

১। এসময় খেলাধুলা,উন্মাদনা র প্রতি শিশুদের আকর্ষন থাকে।সুতরাং এ সময় শিশুদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা যাবেনা,তাদেরকে খোলা মাঠে খেলতে দিতে হবে।

২।এসময়টা পড়ালেখা জ্ঞান অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময়।সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও তাদেরকে শিক্ষা দিতে হবে।পিতা মাতা এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিদিন এশার পর পরিবারের প্রধান তার পরিবারকে এক ঘন্টা সময় দিবে।
এসময় যা কিছু আলোচনা করবে এবং শিখবে তা হলো—

১। জীবনের চ্যালেঞ্জ সমূহ এবং তা মোকাবেলার কৌশল।
২।পূর্ববর্তী জ্ঞানী এবং মহা মনিষীদের জীবনি পাঠ করে শোনাবে।
৩।এবং সাধারন খোলামেলা আড্ডা দিবেন।
(এতে কমপক্ষে দুই ঘন্টা সময় ব্যায় করান উচিত)

সাধারনত ১৮-৪০ বছর বয়সী ছেলে মেয়েরা যুবক যুবতীর অন্তর্ভুক্ত।এই সময়টাই মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়।
এসময় মুসলিম যু্বক-যুবতীরা সাধারনত—
১।ইবাদত বন্দেগীতে গতিশীল হয়ে থাকে,
২।কর্মজীবনে প্রবেশ করে।
৩।জীবনযুদ্ধে জড়িয়ে পরে।
৪।জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে শুরু করে।

এসময়ের করনীয় দিকসমূহ হলো—
১।গুনাহ এবং পাপের কাজ না করা।
২।প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রনে রাখা।
৩।সবকিছুতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা
৪।বিপর্যয়ে ধৈর্যধারন করা,এবং ধৈর্যের মধ্যে সওয়াবের নিয়ত করা অথবা আশা রাখা।

এসময়ের বর্জনীয় বিষয়গুলো হলো—
১।পাপ এবং গুনাহ বর্জন করা,
২।রাগ নিয়ন্ত্রন করা।
৩।ছেলেরা দাড়ি না কামানো।
৪।মেয়েরা বেপর্দায় না চলা।

তারপর যখন একটি মানুষ ৪০ + বয়সে পৌঁছে যায় তখন তার জীবনের শেষ তৃতীয়াংশে পৌঁছে যায়।

একজন মুসলিম যুবক ৪০ বছর বয়স অতিক্রম করলে তার বুদ্ধি পরিপক্ক হয়,প্রবৃত্তি ধরাশায়ী হয়।এলমে আমলে পরিপক্ক হয়ে থাকে।মারিফতের জ্ঞান লাভ করে।
এসময় তার মধ্যে যেসকল বৈশিষ্ট পাওয়া যায়—

১।আত্মমর্যাদা শক্তিশালী হয়,চঞ্চলতা কমে গিয়ে স্থিরতা তৈরি হয়।
২।গাম্ভীর্য এবং বুযুর্গী পরিলক্ষিত হয়।
৩।কাজে কর্মে ভুল কম হয়।
৫।ইবাদত বন্দেগীতে আরো বেশি গতিশীল হয়ে থাকে।
৬।এবং তার একটি টার্গেট বা লক্ষ্য নির্ধারিত থাকে। সেখানে পৌঁছানোর জন্য তিনি প্রচুর শ্রম এবং কষ্ট শিকার করেন।

৬০+বছর বয়স

এ সময়টা একজন মানুষের শেষ দিকের বয়স।যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারে।এজন্য এসময় একজন মানুষ মৃত্যুর জন্য সদা প্রস্তুত থাকে।মালাকুল মওত ফেরেশতার আগমনের অপেক্ষা করতে থাকে।
এসময় একজন মানুষের মধ্যে যেসকল পরিবর্তন দেখা যায়—

১।শিশুসুলভ আচরন করতে পারে।মুসলিম তওবাকারী বৃদ্ধমানুষের মন বা দিল নরম হয়ে থাকে।আর কাফের বৃদ্ধ মানুষের হৃদয় রুক্ষ,রূঢ়,এবং কঠিন হয়ে থাকে।তবে কিছু ব্যাতিক্রম হতে পারে।

২।এসময় কাজ কর্ম থেকে মন উঠে যায়,অন্যের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়।

৩।এসময ইবাদত বন্দেগী কারো কারো শিথিল হয়ে পরে,আবার কারো কারো অনেকগুন বৃদ্ধি পায়।
যাদের বৃদ্ধি পায়,তারা একজন দৌড়বিদের সাথে নিজেকে তুলনা করেন।
তারা বলেন, যখন একজন দৌড়বিদ দৌড় শুরু করেন,শুরুতে তিনি আস্তে আস্তে দৌড়ান,কিন্তুু শেষ সময়ে তার দৌড়ের গতি অনেকগুন বাড়িয়ে দেন।

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×