somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সুলাইমান হোসেন
পাওয়ার আনন্দের চেয়ে না পাওয়ার কষ্ট আমার নিকট বেশি মূল্যাবান।ব্যাথিত এবং ভাঙা দিলের উপর আল্লাহর নূর এবং তাজাল্লী বর্ষিত হয়।জাহান্নামিদেরকে জাহান্নামে এবং জান্নাতিদেরকে জান্নাতে দেখার পরেও অন্তরে ভাবান্তর না হওয়া প্রকৃত তাওয়াক্কুল

হাকিক্বতুল মায়ারিফ পর্ব —০৫

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাকিক্বতুল মায়ারিফ:পর্ব —০৫(প্রানীকুলের বিস্ময়)

আমার স্থলভাগের প্রানী নিয়ে লিখছিলাম।এই পর্বে আলোচনা করব অতি পরিচিত একটি প্রানী পিঁপড়ে নিয়ে।

প্রানীকূলের বিস্ময় :সৃষ্টির মধ্যে বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ

পিঁপড়ে
পিঁপড়ে একটি পতঙ্গ শ্রেনির প্রানী।কিন্তু এই প্রানীটির মধ্যে কত বিস্ময়কর সব কারিগরী এবং তথ্য রয়েছে তা আমরা অনেকেই জানিনা।
পিঁপড়ে নিয়ে কুরআনে কি বলা হয়েছে?
হ্যা। পিঁপিলিকা নিয়ে কুরআনুল কারীমে আলাদা একটি সূরাই নাজীল করা হয়েছে।সূরাটির নাম"সূরা নামল"।সেখানে সুলাইমান নবী আলাইহিস সালামের কাহিনী বর্নিত হয়েছে।তবে একটি মাত্র আয়াতে পিঁপড়ের কথা বলা হয়েছে।

তবে পিঁপড়ে সম্পর্কে বিস্তারিত তেমন কিছু বলা হয়নি এবং তা আমাদের জানার কোনো প্রয়োজনও নেই।সূরা নামলের ১৮ নম্বর আয়াতে পিঁপড়ের আলোচনা করা হয়েছে।আয়াতটি হলো—

حَتّٰۤی اِذَاۤ اَتَوۡا عَلٰی وَادِ النَّمۡلِ ۙ قَالَتۡ نَمۡلَۃٌ یّٰۤاَیُّہَا النَّمۡلُ ادۡخُلُوۡا مَسٰکِنَکُمۡ ۚ لَا یَحۡطِمَنَّکُمۡ سُلَیۡمٰنُ وَجُنُوۡدُہٗ ۙ وَہُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ


যখন তারা পিপীলিকা অধ্যূষিত উপত্যকায় পৌঁছাল, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকার দল, তোমরা তোমাদের গৃহে প্রবেশ কর। অন্যথায় সুলায়মান ও তার বাহিনী অজ্ঞাতসারে তোমাদেরকে পিষ্ট করে ফেলবে।



—আন নাম্‌ল - ১৮

পিঁপড়ে নিয়ে আমার সাধারন আলোচনা:
আমরা মানুষের মতই পিঁপড়েও এক শ্রেনীর প্রানী।পিঁপড়ের রয়েছে মন এবং আরো রয়েছে খাবারের চাহিদা,সামাজিকতা,কাজকর্ম,প্রজনন ইত্যাদি।বিজ্ঞনীদের সর্বশেষ আবিষ্কৃত তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির প্রানী রয়েছে।সংখ্যাটা কিছিটা কমবেশি হতে পারে।
পিঁপিলিকার রয়েছে ছয়টি পা এবং দুইটি চোখ,এবং মস্তিস্ক।যদিও মস্তিস্ক অনেক ছোট।ছোট হলেও মস্তিস্কের কাজ অনেক বেশি।
মহা ক্ষমতাবান তিনি যিনি গর্তের পিঁপিলিকা থেকে শুরু করে বিশাল আকারের নীল তিমি পর্যন্ত খাবার বা রিযিক পৌঁছে দেন।

পিঁপিলিকা নিয়ে আমার পূর্বের একটি লেখা এখানে কপি পেস্ট করা হলো—

পিঁপিলিকা একটি প্রানী এবং একটি জাতি।চলুন আজকে পিঁপিলিকাদের জগত ভ্রমন করি।

পিঁপিলিকাদের মধ্যে জাতের অভাব নেই।শত শত জাতের পিঁপিলিকা রয়েছে।ছোট জাতের বড় জাতের,বিভিন্ন রঙ বেরঙের পিঁপিলিকা রয়েছে।
পিঁপিলিকারা সংঘবদ্ধ বা দলগতভাবে বসবাস করে এবং বিচরন করে।পৃথিবীতে প্রচূর কর্মতৎপর প্রানীদের মধ্যে পিঁপিলিকা অন্যতম।এদের কোনো ক্লান্তি নেই, খুবই শক্তিশালী এবং দুঃসাহসীকতার দিক থেকেও পিঁপিলিকা অন্যতম।

পিঁপিলিকারা খাবারের সন্ধানে জমিনে বিচরন করে

যখন কোন পিঁপিলিকা খাবারের সন্ধান পায়,তখন সে একাই খাবারটিকে টেনে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে।যদি না পারে তখন সে তার দল বলকে ডেকে নিয়ে আসে।পিঁপিলিকাদের একজন লিডার রয়েছে।লিডারের নিকট প্রথমে সংবাদ পৌঁছানো হয়, তারপর লিডার সবার নিকট সংবাদ পৌঁছে দেয়।

বড় কোনো খাবার পেলে,সেটাকে কেটে টুকরো টুকরো করে তারপর রোদে শুকায়।
(পিঁপিলিকাদের খাবার টেনে নেওয়ার দৃশ্য আমার ভালো লাগত,এজন্য ছোটবেলায় মাছি মেরে পিঁপিঁলিকাদের সামনে দিতাম,ওরা সেটাকে টেনে নিয়ে যেত।পরে বুঝতে পেরেছি কাজটা আসলে ঠিক হয়নি।)

পিঁপিলিকার মধ্যেকার মারিফত,আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে—

দেখুন পিঁপিলিকার মধ্যেও রয়েছে রুহ,জীবন,দৃষ্টিশক্তি,অনুভুতি শক্তি,বুদ্ধি,সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষমতা,আরো কতকিছু!রয়েছে ছটি পা,নাক,কান, মাথা,চোখ,পেট আরো কত কিছু!বলুন,কোনো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া কি এমনি এমনি এত কৌশলপূর্ণ বস্তুসমূহ সুশৃঙ্খলভাবে সৃষ্টি হতে পারে?

পিঁপিলিকার সংখ্যা:

পৃথিবীতে কি পরিমান পিঁপিলিকা রয়েছে,তা গণনা করা কোন মানুষের জন্য সম্ভব নয়।রয়েছে বিভিন্ন জাত প্রজাতির পিঁপিলিকা।পূর্বে বলা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির পিঁপিলিকা রয়েছে।

পিঁপিলিকার টেকনিক:
পিঁপিলিকা অত্যান্ত টেকনিক্যাল প্রানী।এবং খুবই দুঃসাহসী।তারা গর্তে বসবাস করে, কিছু জাতের পিঁপিলিকা গাছেও বসবাস করে।বড় কোনো খাবার গর্তে নিতে না পারলে,কেটে টুকরো টুকরো করে হলেও গর্তে নিয়ে ছাড়বে।

পিঁপিলিকার খাবার:

মিষ্টি পিঁপিলিকার খুবই প্রিয় খাবার।পঁপিলিকা মৃত প্রানী ও খায়।তাদের কাজ শুধু খাবার সংগ্রহ করা।পিঁপিলিকার মধ্যেও লোভ লালসা রয়েছে,এজন্যই কয়েকদিনের খাবার তারা জমা করে রাখে।এমনকি এতদিনের খাবারও জমা করে রাখে,যতদিন পিঁপিলিকা বাঁচেওনা।

পিঁপিলিকারা খাবারের সন্ধানে ঘোরাঘুরি করে।যখন কেউ খাবার পায়,তখন সে একাই খাবারটিকে টেনে বাসায় নেওয়ার চেষ্টা করে।পিঁপড়ে তার শরীরের ওজনের চেয়ে অনেকগুন বেশি ওজনের খাবার টেনে নিয়ে যেতে পারে।কিন্তু যদি খাবার অতিরিক্ত ভারী হওয়ার কারনে নিতে না পারে তখন তার স্বগোত্রীয় পিঁপড়ের লিডারকে বিশেষ পদ্ধতিতে সংকেত দেয়।লিডারের সাথে তখন অনেকগুলো পিঁপড়ে এসে খাবারটিকে নিয়ে যায়।

পরিশেষে পিঁপড়ে সম্পর্কে চ্যাট জিপিটির বিস্ময়কর কিছু তথ্য দিয়ে এবং বিস্ময়কর কিছু প্রশ্ন ছড়ে দিয়ে এই পর্ব শেষ করব।

পিঁপড়ে সম্পর্কে চ্যাট জিপিটির বিস্ময়কর তথ্য—


অবশ্যই ভাই।
আপনার “হাকিক্বতুল মায়ারিফ — প্রাণীকূলের বিস্ময়” অধ্যায়ের জন্য এমনভাবে ২৫টি তথ্য সাজিয়ে দিচ্ছি, যাতে আপনি তথ্যগুলো দেখে নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা ও সৃষ্টির নিদর্শন নিয়ে চিন্তা করতে পারেন।
পিঁপড়ে সম্পর্কে ২৫টি বিস্ময়কর তথ্য
১. পৃথিবীতে পিঁপড়ের ১৭,০০০-এর বেশি স্বীকৃত প্রজাতি ও উপপ্রজাতি নথিভুক্ত হয়েছে। এখনো নতুন প্রজাতি আবিষ্কৃত হচ্ছে।
২. পিঁপড়ে পৃথিবীর প্রায় সব মহাদেশেই পাওয়া যায়। অ্যান্টার্কটিকা মূল ভূখণ্ডে স্বাভাবিকভাবে বসবাসকারী পিঁপড়ে নেই।
৩. পিঁপড়ে অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী। তারা একা না থেকে সাধারণত উপনিবেশ বা colony গঠন করে বসবাস করে।
৪. একটি উপনিবেশে কয়েকশ থেকে লক্ষাধিক পিঁপড়ে থাকতে পারে। কিছু প্রজাতির বিশাল উপনিবেশে সদস্যসংখ্যা কয়েক মিলিয়ন পর্যন্ত হতে পারে।
৫. একটি পিঁপড়ের সমাজে সাধারণত রানি, শ্রমিক ও পুরুষ—এই ধরনের সদস্য দেখা যায়।
৬. রানি পিঁপড়ের প্রধান কাজ ডিম উৎপাদন। কিছু প্রজাতির রানি বহু বছর বেঁচে থাকতে পারে।
৭. কিছু পিঁপড়ের রানি ১০–২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড রয়েছে—একটি ক্ষুদ্র পতঙ্গের জন্য এটি বিস্ময়কর দীর্ঘ জীবন।
৮. শ্রমিক পিঁপড়েরা সাধারণত খাবার সংগ্রহ, বাসা নির্মাণ, লার্ভার পরিচর্যা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরক্ষার কাজ করে।
৯. অধিকাংশ শ্রমিক পিঁপড়ে স্ত্রী পিঁপড়ে, কিন্তু তারা সাধারণত প্রজনন করে না।
১০. পুরুষ পিঁপড়ের প্রধান উদ্দেশ্য প্রজননে অংশগ্রহণ করা। অনেক প্রজাতিতে প্রজননের পর পুরুষের জীবন খুব অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হয়।
১১. পিঁপড়েরা মানুষের মতো কথা বলে না, কিন্তু রাসায়নিক সংকেত বা ফেরোমোন ব্যবহার করে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
১২. কোনো পিঁপড়ে খাবার খুঁজে পেলে সে ফেরোমোনের সাহায্যে খাবারের দিকে রাসায়নিক পথ তৈরি করতে পারে। অন্য পিঁপড়েরা সেই পথ অনুসরণ করে।
১৩. তাই অনেক সময় আমরা পিঁপড়েদের একটি নির্দিষ্ট সারিতে চলতে দেখি।
১৪. পিঁপড়ের খাদ্য প্রজাতিভেদে ভিন্ন। তারা মিষ্টি রস, ফল, বীজ, ছোট পোকামাকড়, মৃত প্রাণীর দেহাবশেষ ইত্যাদি খেতে পারে।
১৫. কিছু পিঁপড়ে আশ্চর্যজনকভাবে ছত্রাক চাষ করে। পাতাকাটা পিঁপড়ে পাতা কেটে বাসায় নিয়ে যায়, কিন্তু সেই পাতা সরাসরি খাওয়ার পরিবর্তে তা ব্যবহার করে ছত্রাক উৎপাদন করে; সেই ছত্রাকই তাদের প্রধান খাদ্য।
১৬. কিছু পিঁপড়ে এফিডের মতো ক্ষুদ্র পোকাকে রক্ষা করে এবং বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে মিষ্টি তরল সংগ্রহ করে। এটি অনেকটা পারস্পরিক সুবিধার সম্পর্ক।
১৭. পিঁপড়েরা নিজেদের শরীরের তুলনায় অত্যন্ত ভারী বস্তু বহন করতে পারে। কিছু প্রজাতির শ্রমিক নিজের ওজনের বহু গুণ ভার বহন করতে সক্ষম।
১৮. পিঁপড়ের দেহে মানুষের মতো ফুসফুস নেই। তাদের শরীরের ক্ষুদ্র ছিদ্র ও নালির মাধ্যমে অক্সিজেন শরীরে প্রবেশ করে।
১৯. পিঁপড়ের ছয়টি পা থাকে। কারণ তারা পতঙ্গ বা insect শ্রেণির প্রাণী।
২০. পিঁপড়ের শরীর সাধারণত মাথা, বক্ষ ও উদর—এই তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত।
২১. তাদের মাথায় থাকে অ্যান্টেনা বা শুঁড়, যা স্পর্শ, গন্ধ এবং পরিবেশের বিভিন্ন সংকেত বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২২. কিছু পিঁপড়ে বন্যা থেকে বাঁচতে নিজেদের শরীর দিয়ে ভাসমান “ভেলা” তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আগুন পিঁপড়ের colony-তে এমন আচরণ দেখা যায়।
২৩. কিছু পিঁপড়ে নিজেদের বাসা অত্যন্ত জটিলভাবে নির্মাণ করে। মাটির নিচে তাদের বাসায় বিভিন্ন কক্ষ, পথ ও খাদ্য সংরক্ষণের স্থান থাকতে পারে।
২৪. পিঁপড়ের উপনিবেশে কাজের বিভাজন এতটাই সুসংগঠিত যে, কেন্দ্রীয় কোনো নেতা প্রতিটি পিঁপড়েকে নির্দেশ না দিলেও পুরো colony সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে।
২৫. পৃথিবীর জীবজগতে পিঁপড়ের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো—একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্রাণী হয়েও তারা বিশাল সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, যেখানে খাদ্য সংগ্রহ, সন্তান প্রতিপালন, বাসা নির্মাণ, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ—সবকিছুই সমন্বিতভাবে চলে।
আপনার লেখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
আপনি যেহেতু হাকিক্বতুল মায়ারিফ-এ বৈজ্ঞানিক তথ্যের পাশাপাশি সৃষ্টিজগতের নিদর্শন নিয়ে ভাবতে চান, পিঁপড়ের ক্ষেত্রে একটি সুন্দর পর্যবেক্ষণ হতে পারে:
“একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়ের নিজের কোনো ভাষা নেই—তবু তারা রাসায়নিক সংকেতে পরস্পরকে সংবাদ দেয়। কোনো স্থপতি নেই—তবু তারা জটিল বাসা নির্মাণ করে। কোনো দৃশ্যমান নেতা নেই—তবু হাজার হাজার সদস্যের একটি উপনিবেশ যেন একটি সুসংগঠিত সমাজের মতো কাজ করে।”
এটি আপনার নিজস্ব চিন্তার সূচনা হতে পারে; বৈজ্ঞানিক তথ্য হিসেবে নয়, বরং তথ্য থেকে আপনার উপলব্ধি হিসেবে রাখলে লেখাটির স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে।
আর একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন—“পিঁপড়ে মানুষের মতো বুদ্ধিমান” বা “তারা মানুষের ভাষায় কথা বলে”—এ ধরনের বাক্য না লিখে “তারা রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে যোগাযোগ করে” বলা বেশি নির্ভুল।
চাইলে পরের ধাপে আমি পিঁপড়ের শরীরের গঠন, চোখ, শুঁড়, দাঁত/চোয়াল, রক্ত, শ্বাসপ্রশ্বাস, মস্তিষ্ক, ঘ্রাণশক্তি ও প্রজনন—এগুলো নিয়ে আলাদা করে তথ্য দিতে পারি। এগুলো আপনার প্রাণীকূলের বিস্ময় অধ্যায়টিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।


অবশ্যই ভাই। এবার পিঁপড়ের শরীরের ভেতর-বাহিরের গঠন নিয়ে তথ্যগুলো দিচ্ছি। এগুলো থেকে আপনি নিজের ভাষায় হাকিক্বতুল মায়ারিফ — প্রাণীকূলের বিস্ময় অধ্যায়টি লিখতে পারবেন।
১. পিঁপড়ের শরীরের গঠন
পিঁপড়ের দেহ মূলত তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত—
১. মাথা (Head)
২. বক্ষ বা থোরাক্স (Thorax)
৩. উদর (Abdomen)
তাদের দেহের বাইরে শক্ত কাইটিনযুক্ত বহিঃকঙ্কাল (exoskeleton) থাকে। এটি দেহকে সুরক্ষা দেয় এবং পেশিগুলোর জন্য কাঠামো হিসেবে কাজ করে।
পিঁপড়ের ৬টি পা থাকে, কারণ এটি একটি পতঙ্গ।
২. পিঁপড়ের চোখ
পিঁপড়ের চোখ প্রজাতিভেদে বেশ আলাদা হতে পারে।
অনেক পিঁপড়ের যৌগিক চোখ (compound eyes) থাকে। এতে অসংখ্য ক্ষুদ্র দৃষ্টিখণ্ড বা ommatidia থাকে।
তবে সব পিঁপড়ের দৃষ্টিশক্তি সমান নয়। কিছু প্রজাতি চোখের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল, আবার মাটির নিচে বসবাসকারী কিছু পিঁপড়ের চোখ খুব ছোট বা প্রায় অকার্যকর।
অর্থাৎ, পিঁপড়ের পৃথিবী আমাদের মতো শুধু চোখের ওপর নির্ভরশীল নয়।
৩. শুঁড় বা অ্যান্টেনা
এটি পিঁপড়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি।
পিঁপড়ের মাথায় দুটি অ্যান্টেনা থাকে। এগুলোর সাহায্যে তারা—
গন্ধ শনাক্ত করে
খাবারের সন্ধান পায়
অন্য পিঁপড়েকে চিনতে পারে
রাসায়নিক সংকেত বুঝতে পারে
স্পর্শ অনুভব করে
পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে
পিঁপড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অ্যান্টেনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি পিঁপড়ে অন্য পিঁপড়ের অ্যান্টেনায় স্পর্শ করেও বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে।
৪. পিঁপড়ের দাঁত আছে কি?
মানুষের মতো পিঁপড়ের দাঁত নেই।
তবে তাদের মাথার সামনে শক্তিশালী mandible বা চোয়াল রয়েছে। এগুলো দেখতে অনেকটা দাঁতের মতো মনে হতে পারে।
এই চোয়াল দিয়ে তারা—
খাবার কাটে
খাবার বহন করে
মাটি খনন করে
বাসা তৈরি করে
শত্রুর সঙ্গে লড়াই করে
কখনো আত্মরক্ষার জন্য কামড় দেয়
কিছু প্রজাতির mandible অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বিশেষ কাজে অভিযোজিত।
৫. পিঁপড়ের রক্ত আছে কি?
আছে, তবে মানুষের রক্তের মতো নয়।
পিঁপড়ের দেহে হিমোলিম্ফ (hemolymph) নামের তরল থাকে। এটি আর্থ্রোপডদের দেহের রক্ত ও টিস্যু-তরলের মতো কাজ করে।
মানুষের রক্তে হিমোগ্লোবিন থাকে এবং রক্ত অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু পিঁপড়ের ক্ষেত্রে অক্সিজেন পরিবহনের প্রধান ব্যবস্থা আলাদা।
এ কারণে তাদের হিমোলিম্ফ সাধারণত মানুষের রক্তের মতো লাল নয়।
৬. পিঁপড়ে কীভাবে শ্বাস নেয়?
এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর।
পিঁপড়ের ফুসফুস নেই।
তাদের শরীরের পাশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যেগুলোকে spiracle বলা হয়।
এই ছিদ্র দিয়ে বাতাস শরীরে প্রবেশ করে এবং tracheal system নামের সূক্ষ্ম নালির জালের মাধ্যমে অক্সিজেন সরাসরি শরীরের বিভিন্ন টিস্যুতে পৌঁছে যায়।
অর্থাৎ—
বাতাস → spiracle → trachea → শরীরের কোষ
এই ব্যবস্থায় মানুষের মতো রক্তকে অক্সিজেন বহন করার জন্য প্রধান বাহক হিসেবে ব্যবহার করতে হয় না।
৭. পিঁপড়ের মস্তিষ্ক
পিঁপড়ের মস্তিষ্ক অত্যন্ত ছোট। তবুও এটি তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
খাবার খোঁজা, চলাফেরা, পরিবেশের সংকেত গ্রহণ, রাসায়নিক সংকেতের প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য আচরণের সমন্বয়ে মস্তিষ্ক কাজ করে।
তবে একটি বিশেষ বিষয় হলো—একটি colony-র আচরণ শুধু একটি পিঁপড়ের মস্তিষ্ক দিয়ে বোঝা যায় না।
হাজার হাজার পিঁপড়ের পারস্পরিক যোগাযোগের ফলে এমন কিছু সমষ্টিগত আচরণ দেখা যায়, যাকে বিজ্ঞানীরা “swarm intelligence” বা সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তার ধারণা দিয়ে ব্যাখ্যা করেন।
৮. ঘ্রাণশক্তি
পিঁপড়ের ঘ্রাণশক্তি তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়।
তারা বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ শনাক্ত করতে পারে এবং pheromone ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদান করে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি শ্রমিক পিঁপড়ে খাবার পেলে রাসায়নিক পথ তৈরি করতে পারে। অন্য শ্রমিকরা সেই সংকেত অনুসরণ করে খাবারের কাছে পৌঁছাতে পারে।
এ কারণেই একটি পিঁপড়ের পেছনে অল্প সময়ের মধ্যে অনেক পিঁপড়েকে সারিবদ্ধভাবে চলতে দেখা যায়।
৯. পিঁপড়ের প্রজনন
পিঁপড়ের জীবনচক্রও অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
সাধারণভাবে চারটি ধাপ রয়েছে—
ডিম → লার্ভা → পিউপা → পূর্ণাঙ্গ পিঁপড়ে
অর্থাৎ পিঁপড়ে সম্পূর্ণ রূপান্তর (complete metamorphosis)-এর মধ্য দিয়ে যায়।
রানির ভূমিকা
প্রজননক্ষম স্ত্রী পিঁপড়েকে সাধারণত রানি বলা হয়। প্রজননের পর রানি ডিম পাড়ে এবং সেখান থেকে নতুন প্রজন্মের জন্ম হয়।
কিছু প্রজাতির রানিরা অত্যন্ত বিপুল সংখ্যক ডিম উৎপাদন করতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×