somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হৃদয়ের বাগযন্ত্র নাই!

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে দু-একবার বৃষ্টি পুরোপুরি কমলেও আমি বেরুইনি। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসতে পারে! আমি চাইছিলাম গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে হাঁটবো। তারপর স্বর্দি বাঁধিয়ে নাক টানবো। খুক খুক কাশবো! স্বর্দি হলে প্রেমিকার ভালোবাসা বেড়ে যায়! নাক টানার বিশ্রী শব্দে তার রাগ হবে। ভীষণ রাগলে নাকি ঘৃনা লোপ পায়! খুক খুক কাশলে সে আদা-লেবু চা খাওয়াবে! সে চা আমি ভ্যানের ওপর পা দুলিয়ে দুলিয়ে শব্দ করে করে খাবো। সাথে এগারো টাকার ধোঁয়া ওড়াবো...!
কালো মতন একটা ছেলে দুবার ইতস্তত করে শেষে বলে ফেলল, ভাইয়া কোয়েশ্চানটা একটু দেখি।
আমি 'হুঁ' বলে তার হাতে দিলাম।
'হুঁ সহজ...এটাও..এগুলাতো পানিভাত..এটাতো এমন হবে না?..এটাও কমন..'-এমন বহু শব্দে সে তার পারদর্শিতা প্রকাশ করল।
গুঁড়ি গুঁড়ি শুরু হয়েছে। আমি পার্কের গেইট ছাউনি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। নাক টানার পূর্বপ্রস্তুতি। ছেলেটাকে বললাম, 'কোয়েশ্চানটা আপনি রেখে দিন। এক্সাম দিয়েছেন প্রমাণস্বরুপ বাবাকে দেখাতে পারবেন। বিপদ থেকে বাঁচাবে। আর সবতো আপনি পারেনই, তাও এক্সাম দেননাই কেন?'
ছেলেটা আমার চোখের দিকে না তাকিয়ে আপাদমস্তক দেখছে। অন্তর থেকে বলা কথাগুলো স্বয়ং অন্তর্যামীও টেরা কানে শোনেন! অন্বেষনের চোখে আপাদমস্তক দেখেন। এ আবার কোন পিস...!! অন্তরের কথা জেনে গেলে সমস্যা হয়। এজন্যই বোধহয় হৃদয়ের বাগযন্ত্র নেই।কিন্তু যিনি জানলে সমস্যা তিনিই জেনে যান।
যে মেয়েটা রিক্সায় চড়ে উড়ন্ত ওড়নায় টান লেগে গলায় ফাঁস পড়ে মরে গেছে সেও হয়তোবা তখন ভাবছিল,'ইশ! প্রিপারেশন কিচ্ছু নাই। পরীক্ষাটা খারাপ হলে মরা ছাড়া উপায় নাই।' কিন্তু যিনি জানলে সমস্যা তিনিই জেনে যান!
আমি হাঁটতে হাঁটতে মন্জু মামার দোকানের সামনে চলে এসেছি। বেনসন এন্ড হেজেস একটা জ্বেলে দিয়েছি। আমি আবার হাঁটা শুরু করলাম। না হয় ছেলেটা এসে পড়বে। তার মাথা খারাপের মতো হয়ে গেছে।এ লোক মাইন্ড রিডার নাকি? রাস্তার কাদা জুতা ছিটকে প্যান্ট বেয়ে উঠছে। ধোঁয়া ছেড়ে ছেড়ে চলছি। খুব সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। প্রেমিকার ভালোবাসা বাড়ার বৃষ্টি....
.
২০১৭/০৪/০৪
©ImRan AL Hasan
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×