somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমালোচনা হউক যুক্তিসঙ্গত কারণে

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সমালোচনা যদি যুক্তিসঙ্গত কারণে হয় তবে তা হওয়া উচিত। সমালোচনা যদি কোন একটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে যা থেকে সমাজ বা রাষ্ট্র উপকার পাবে তবে তা হওয়াই উচিত। তবে সমালোচনা যদি প্রতিহিংসা থেকে আসে, জেলাসি থেকে আসে, ঘৃণা থেকে আসে তবে তা ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র কোন পক্ষের জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না।

ট্রল বানাতে যে মেধা লাগে সেটা দিয়ে বছরের পর বছর জাতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা করে নেয়া যায়না আবার ট্রল বানাতে যে মেধা লাগে সেই মেধা দিয়ে বছরের পর বছর পরিশ্রম করে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যায় না। বছরের পর বছর জাতীয় ক্রিকেট দলে জায়গা করে নেয়ার জন্য যে মেধা, যে পরিশ্রম, যে অধ্যবসায় লাগে; ট্রল বানাতে তা লাগে না। একই রকম ভাবে বছরের পর বছর শরীরের ঘাম ঝরিয়ে ও মেধা খাটিয়ে যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়, ট্রল বানাতে তা লাগে না।

তাই নিম্ন মেধাবৃত্তি সম্পন্ন লোকজন যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক পাবার প্রত্যাশায় গুণীজনদের নিয়ে ট্রল করে, আপাতদৃষ্টিতে সেটাকে নিষ্পাপ মনে হলেও তা আসলে দেশ সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। আর যাদের সাথে করা হয়, তাদের জন্য দুঃখজনক। স্রেফ তাদের মেধা অধ্যাবসায় এবং পরিশ্রমকে অপমান করা হয়।

সম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রল নির্মাতাদের আক্রোশের বিষয়বস্তু হয়েছেন সাকিব আল হাসান মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সালমান এফ রহমান। লক্ষ্যজনক ব্যাপার হলো এসব ট্রল নির্মাতারা কোনদিনই একজন সাকিব আল হাসান বা একজন সালমান এফ রহমান হতে পারবেন না। শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের উপস্থিতি আছে এই কারণে এরকম যোগ্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তারা
ট্রল বানিয়ে যান।

সাকিব আল হাসানের অপরাধ তিনি আওয়ামী লীগের জন্য ভোট চেয়েছেন। মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সালমান এফ রহমানের অপরাধ তারা নৌকার হয়ে আগামী নির্বাচনে লড়ছেন। সালমান এফ রহমান তার হলফনামায় কি উল্লেখ করেছেন তার আংশিক অতিরঞ্জিত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল বানানো হয়েছে, গোপন করা হয়েছে তিনি যা যা উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচনের হলফনামায় সালমান এফ রহমান উল্লেখ করেছেন ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচটি খাত থেকে তাঁর আয় হয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয় হয়েছে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানির বোনাস শেয়ার ও আইএফআইসি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার থেকে, এটার পরিমাণ ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। শেয়ারবাজার ও ব্যাংক আমানতের লভ্যাংশ থেকে আয় হয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন চাকরি থেকে সম্মানী ভাতা হিসেবে ৪১ লাখ ৯২ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ৬ লাখ টাকা, বাড়ি, দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে ৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা আয় হয়েছে। সালমান এফ রহমান একজন দক্ষ বিনিয়োগকারী। সেই হিসাবে তার বিনিয়োগের পরিমাণ ২৫০ কোটি ৮৪ লাখ টাকার বেশি। হলফনামায় সালমান এফ রহমান আরও উল্লেখ করেছেন তার নগদ টাকা রয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

যা উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই। এগুলো তাকে ট্রল নির্মাতাদের কাছে যথেষ্ট ধনী রুপে তুলে ধরতে পারছে না। সোশ্যাল মিডিয়ার নিম্নমেধা সম্পন্ন জোকারেরা সরগরম এই পয়েন্টে যে তার কোনো বাড়ি নেই। তার স্ত্রীর বাড়ি নেই। এটা শুধু তাদের মানসিক বিকলাঙ্গটাই প্রকাশ করে।

সালমান এফ রহমানের অপরাধ কি এই যে তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং ভাইস-চেয়ারম্যান? তার অপরাধ কি এই যে তিনি ধনী? নাকি তিনি নৌকায় নির্বাচন করবেন এই তার অপরাধ? ট্রল নির্মাতারা আসলে কি বিশেষ কোন গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে?

বেক্সিমকো গ্রুপে এখন প্রায় ৬০,০০০ কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। ২০১০ সালে কোম্পানিটির লভ্যাংশর পরিমান ছিল প্রায় ৮৩৪ মিলিয়ন ডলার। টেক্সটাইলস্‌, আর্থিক খাত, সিরামিকস্‌, মিডিয়া এবং ঔষধ শিল্পে বেক্সিমকো গ্রুপ শীর্ষস্থান দখল করেছেন। আর এর পেছনে রয়েছে সালমান এফ রহমানের শ্রম, প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতা। বেক্সিমকো গ্রুপ বড় হয়েছে, ব্যক্তি সালমানও বড় হয়েছেন। তার অনেক হিসেবনিকেশ হয়তো বেক্সিমকো গ্রুপের সাথে রয়েছে। এটা নতুনও নয়, অভিনবও নয়।

সোশ্যাল মিডিয়াতে যা হচ্ছে ইদানিং, তা তো সমালোচনা নয়। গুণী মানুষকে নিয়ে হাস্যকর পোস্ট দেয়া নিস্পাপ নয়; এটা অপরাধ যদি কোন ভিত্তির উপর তা দাঁড়ীয়ে না থাকে। সালমান এফ রহমানের নির্বাচনের হলফনামা নিয়ে যা হয়েছে তা হল দ্বিতীয়টি- অপরাধ। কারন ট্রলগুলো মিথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা।

সবার শুভবুদ্ধির উদয় হউক। সমালোচনা হউক যুক্তিসঙ্গত কারণে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×