প্রথম পর্ব: তারেক কাহিনী - ১: ক্ষমতার শেখরে আসা, হাওয়া ভবন স্থাপন
তার মা খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে তারেক খুব অল্প সময়েই হাওয়া ভবন সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে ফেলে। রাষ্ট্রের সব কার্যক্রম এই হাওয়া ভবন থেকেই পরিচালনা করা হতো। সেসময় লুৎফুজ্জামান বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন যিনি ক্যাসিও ঘড়ি চোরাচালান করে কুখ্যাতি পেয়েছিলেন আর সে জন্য তিনি ক্যাসিও বাবর নামেও পরিচিত ছিলেন। হাওয়া ভবনে তারেক রহমানকে সেসময় তার তথাকথিত বিশ্বস্ত তরুন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও কিছু পরজীবি তাকে আবিষ্ট করে থাকত। তার জানত কোথায় ক্ষমতা।
পাশাপাশি আরও কিছু মানুষ তার আশে পাশে ঘুরঘুর করতে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল তার অন্তরঙ্গ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন মামুন, রহুল কদ্দুস তালুকদার, নাদিম মোস্তফা, আমিনুল হক এবং আলমগীর কবির। এসব নেতারা দেশের উত্তরাঞ্চলের ছিল যাদের ঐ এলাকায় ইসলামিক জঙ্গীদের সাথে গভীর সংযোগ থাকার অভিযোগ ছিল।
কিন্তু তারেকের কাছে মামুন আরও বিশেষকিছু ছিল। এই ধূর্ত ব্যক্তি জানত কিভাবে টাকা হাতানো যায় যেটা তারেকের অর্থ-সম্পদ অর্জনের আকাঙ্খা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। ব্যবসায়ীরাও বুঝে গিয়েছিল যে ব্যবসা করতে গেলে হাওয়া ভবন থেকে আশীর্বাদ নিতে হবে!সে বিভিন্ন ডিলের প্রধান মধ্যস্থতাকারী বনে গেল। যেকোন বড় কোন টেন্ডারের দরকষাকষি তার মাধ্যমেই হতো।
তারেক ও তার সঙ্গী সাথীদের দুর্নীতি ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব কামালুদ্দিন সিদ্দিকী মার্কিন রাষ্ট্রদুত হ্যারি কে টমাসকে বলেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অনিহা এবং তার দুর্নীতিপরায়ন ছেলেকে সমর্থন দেওয়াটা হলো তার(খালেদা জিয়ার) সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ব্যর্থতা।
তারেকের বিরুদ্ধে বহু চাঁদাবাজি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠতে থাকে এবং বিএনপির পতনের পর তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৩টি দুর্নীতির মামালা দায়ের করা হয় যার অধিকাংশ বিচারাধীন। ২০১৬ সালে তাকে একটি অর্থ পাচার মামলায় ২০ কোটি টাকা জরিমানাসহ সাত বছরের কারদন্ড দেয়া হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয় তারেক তার বন্ধু গিয়াসুদ্দিন মামুনকে রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে প্রায় আড়াই মিলিযন ডলার অর্থ পাচার করতে সাহায্য করেছিলেন। মামুন এই টাকা একটি কোম্পানিকে বিদুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য ঘুষ হিসেবে নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এফবিআই এই অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলাটি তদন্ত করে এবং দেশের ইতিহাসে প্রথম কোন এফবিআই এজেন্ট বাংলাদেশের কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছিল।
তারেকের সম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল এই সম্পদ, লোভ, দুর্নীতি এবং পেশিশক্তির উপর। এই সম্পদ অর্জনে রাজনৈতিক শক্তির ব্যবহারে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এক সময় তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে বিশ্বাসী একজন মানুষ রাতারাতি ক্ষমতালোভী হয়ে যায়।
বর্তমানে তারেক রহমান দলটির সিনিয়র জয়েণ্ট সেক্রেটারি। অর্থ ও ক্ষমতা পাওয়ার সাথে সাথে তারেক রহমান জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতার মতো জঘন্য কাজে জরিয়ে পরে।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



