somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তারেক কাহিনী -৩: জঙ্গি পৃষ্ঠপোষকতা, ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলা, গ্রেফতার

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তারেকের সম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল এই সম্পদ, লোভ, দুর্নীতি এবং পেশিশক্তির উপর। এই সম্পদ অর্জনে রাজনৈতিক শক্তির ব্যবহারে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে এক সময় তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনে বিশ্বাসী একজন মানুষ রাতারাতি ক্ষমতালোভী হয়ে যায়।

বর্তমানে তারেক রহমান দলটির সিনিয়র জয়েণ্ট সেক্রেটারি। অর্থ ও ক্ষমতা পাওয়ার সাথে সাথে তারেক রহমান জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতার মতো জঘন্য কাজে জরিয়ে পরে।

তার অনুসারী তৎকালীন মন্ত্রী আমিনুল হক, সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফা এবং মন্ত্রী আলমগীর কবিরের ছত্র-ছায়ায় বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে তথাকথিত ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠী “জাগ্রত মুসলিম বাংলাদেশ” ধর্মের নামে উত্তরবঙ্গে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। এই জঙ্গীগোষ্টী প্রকাশ্যে ধর্মের নামে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করত। যদিও সেসময়কার সরকার এইসবে বিষয়ে মিডিয়ার রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছিল। খালেদা জিয়া তার তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফরজ্জামান বাবর ও শিল্প মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর সাথে সুর মিলিয়ে বলেছিলেন যে বাংলা ভাইয়ের কোন অস্তিত্ব নেই। মতিউর রহমান নিজমী বলেছিলেন যে বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি।

এই জঙ্গী গোষ্ঠীটি ছিল রহস্যময় কারন এটা ইসরাইলের সমর্থনপুষ্ট ছিল এবং আনেক পরে জঙ্গী গোষ্টী হুজির প্রচারক ইহুদি ধর্মালম্বি মার্কিন নাগরিক Richard L Benkin বিভ্ন্নি ধর্মালম্বীদের মধ্যে দূর করার লক্ষ্য নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে যা “ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক পার্টি” নামে পরিচিত ছিল। ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উপদেষ্টা কাজি আজিজুল হক এটা স্বীকার করেছিলেন যা পরে ২০০৮ সালে Benkin ই-মেইলের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।

বিএনপির সমর্থনে এই সন্ত্রাসি দলের রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করতে কোন সমস্যা হয়নি। এই হুজি জঙ্গী গোষ্ঠী ২০০০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গোপালগঞ্জে একটি জনসভায় ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা পুতে রেখেছিল। ২১ শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মুল আসামি হুজির নেতা মুফতি হান্নানকে এই মামলায় ফাসি দেওয়া হয়।

তাই তারেক রহমান ভেবেছিলেন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব শেষ করতে হলে হুজিই হলো সবচেয়ে ভাল মাধ্যম। ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার কয়েকদি দিন পূর্বে তারেক রহমান হাওয়া ভবনে হুজির নেতাদের সাথে দুইবার সাক্ষাত করেন এবং তাদের আস্বস্ত করেন যে এই অপরাধ সংগঠিত করার জন্য তিনি সব রকমের সমর্থন দিবেন।

সৌভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় বেচে যান তবে সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী সেই হামলায় প্রাণ হারান।

ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়। কিন্তু নাটক তখনো বাকি! তিন বছর পর সামরিক বাহিনী সমর্থনপুষ্ট তত্ত্বাবাধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসলে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হেলমেট ও বুলেট-প্রুফ পোশাক পরিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। যে মানুষ সর্বময় ক্ষমতার অধীকারী ছিল তার চোখে মুখে ভয় ও অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট ছিল । সেই দিন থেকেই দেশের রাজনীতিতে তারেকের ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়।

একসময়ের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যাক্তি যার কাছে সরকারের সর্বোচ্চ পদ পাওয়টা ডালভাতের মত ব্যাপার ছিল সেই ব্যাক্তিতে দেশে কখনও ফিরে না আসার শর্তে দেশ ত্যাগ করতে হয়। সম্প্রতি ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তাকে যাবতজীবন কারাদন্ড দেয়া হয়। বর্তমানে তারেক রহমান বিদেশে পলাতক হিসেবে জীবন অতিবাহিত করছেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৩১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ

লিখেছেন বিপ্লব০০৭, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৭



মানুষ আসলে কী?

Sophies Verden কেতাবে নরওয়েজিয়ান ইয়স্তেন গার্ডার (Jostein Gaarder) এক বিশাল বয়ান পেশ করেছেন ছোট্ট মেয়ে সোফির জীবনের গল্প বলতে বলতে। নীতি-নৈতিকতা, জীবন-জগৎ, সৃষ্টি নিয়ে সোফির ধারণা ছিলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×