নারায়নগন্জ্ঞে ৭ জন অপহরণ এবং খুনের ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর র্যাব-১১ এর প্রাক্তন অধিনায়ক ও অন্য ২জন অফিসারের বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকা ঘুষের নিনিময়ে এই অপহরণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। এই অভিযোগ তোলার আগেই নারায়নগন্জ্ঞের প্রশাসন পূনর্বিন্যাসের অংশ হিসাবে র্যাব এর অভিযুক্ত অফিসারদেরকে অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতই প্রত্যাহার করা হয় এবং র্যাব এর অফিসারদের স্ব স্ব বাহিনীতে ফেরত পাঠানো হয়। এর পরপরই নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর আলোড়ন সৃষ্টিকারী অভিযোগটি তোলেন। এরই মধ্যে গত ৫ই মে ২০১৪ তারিখে উক্ত অফিসারদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাসহ অকালীন/বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এতে মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এবার আমরা নৈর্ব্যাক্তিক দৃষ্টিকোন থেকে ব্যাপারটি পর্যালোচনা করে দেখি এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আর কি বা করার ছিলো। Manual of Bangladesh Military Law অনুসারে সামরিক বাহিনীর সদস্যগন কর্তৃক অসামরিক পরিমন্ডলে সংঘটিত হত্যা ও ধর্ষন ব্যাতীত অন্যান্য অপরাধসমূহের বিচার সামরিক আদালতে করা যাবে। হত্যা ও ধর্ষনের মামলার বিচার অসামরিক আদালতে হবে। এ বিষয়টিকে বলে Concurrent Jurisdiction. নারায়নগন্জ্ঞের ঘটনাটি একটি হত্যা মামলা। এর বিচার করার এখতিয়ার সামরিক বাহিনীর নেই। অতএব এর বিচার হতে হবে অসামরিক আদালতে।
সেনাবাহিনীতে একটি অলিখিত অনুশীলন হলো যখন কারো নামে একটি অভিযোগ আসে, তখন প্রথমে এর সত্যতা যাচাই করা হয়, আর যদি সত্যতা যাচাই করে অসত্য প্রতীয়মান তখন এর মূলে যাওয়া হয় এটা জানতে যে কেন এই অভিযোগ এসেছে। অনেকক্ষেত্রে এমনও হয়েছে কোন একটি অগ্রহনযোগ্য আচরনের ফলে কেউ কোন মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে যা মিথ্যা বলে প্রমানিত হয়েছে কিন্তু তদন্তে দেখা গেলো ঐ অগ্রহনযোগ্য আচরনের ফলে এমনটা হয়েছে, তখন অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হলেও ঐ অগ্রহনযোগ্য আচরনের জন্যই উক্ত সেনাসদস্য শাস্তি পেয়েছে। এখন, লেঃ কর্ণেল তারেক এর ক্ষেত্রে কি হয়েছে তা জানা নেই। তবে সেনাবাহিনী এখতিয়ার না থাকার কারনে তাকে বিচার করতে পারছে না। কিন্তু কোন কারনেই হোক, কর্তৃপক্ষ হয়ত তাকে সেনাবাহিনীতে রাখা সমীচীন বলে মনে করছে না। তাই তাকে এই অকালীন/বাধ্যতামূল অবসরে পাঠানো হয়েছে।
পৃথিবীর সব আইনই বড়ই নিষ্ঠুর। সব আইনই প্রথমে আসামীর সুরক্ষার ব্যাবস্থা করে। আসামীকে তার অপরাধের প্রমান হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত বলে। তার উপরেই স্বাক্ষ্য-প্রমান চলে। এখানে লেঃ কর্ণেল তারেক একজন অভিযুক্ত। যে অভিযোগের বিচার করার এখতিয়ার সেনাবাহিনীর নেই। এখন তাকে বিচার ছাড়া কিভাবে সুযোগ-সুবিধা ছাড়া অবসর দেওয়া সম্ভব? তাকে সুযোগ-সুবিধা ছাড়া বাধ্যতামূলক অবসর দিলে সেটা শাস্তি হয়ে যায়। তাকে যদি সুযোগ-সুবিধা ছাড়া বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়, সে কিন্তু আদালতে দাবী করে বসতে পারে যে এই অপরাধে তাকে আগেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে এবং এ কারণে একই অপরাধে পূণরায় তার বিরুদ্ধে বিচার চলতে পারে না। খেয়াল করুন, এটি কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হত তার বিচার থেকে রেহাই পেতে।
এখন বলুন, তাকে অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধাসহ অকালীন/বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া ছাড়া সেনাবাহিনীর আর কিই বা করার ছিলো?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৪ দুপুর ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



