
পর্ব-৩
নাস্তিকঃ- করোনা ভাইরাসের ভয়ে ক্বাবা-ঘরসহ মসজিদ ও বিভিন্ন উপাসানালয় বন্ধ তাহলে ঈশ্বর আল্লাহও এখন অসহায়। মুসলিমদেরকে আল্লাহ আর রক্ষা করতে পারছে না। পরে দেখা যাবে বিধর্মী নাস্তিকদের তৈরী ঐষধ ভ্যাক্সিনই ধার্মীকদের শেষ ভরসা। ১মে মুসলিমরা বলছিল করোনা আল্লাহর গজব যা শুধু কাফেরদেরই ধ্বংস করবে কিন্তু এখন মুসলিমও করোনায় মারা যাচ্ছে।
আস্তিকঃ- করোনা ভাইরাসের ভয়ে ক্বাবা-ঘরসহ মসজিদ ও বিভিন্ন উপাসানালয় বন্ধ হওয়ায় ইদানিং বেশীরভাগ নাস্তেকই দাঁত কেলিয়ে ধর্ম নিয়ে আরো ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করছে। তাদের ধারনা ক্বাবা-ঘরসহ মসজিদ বন্ধ এগুলো মুসলিমরাই করেছে। আসলে এগুলো কোন মুসলিম করে নাই করেছে বিভিন্ন মুসলিম দেশের যে পশ্চিমাবাদী রাজা বা সরকার আছে তারা, যারা কিনা পশ্চিমাদের প্রভু মানে আর সাধারন মুসলিমকে ধোকা দেবার জন্য এতদিন মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যাবস্থা করে আসছিল এখনও করছে। তাছারা একথা প্রায় সবাই জানে যে ১৯২৪ সাল হতে মুসলিমদের কোন ইসলামিক রাষ্ট্র নেই তাই পশ্চিমাদের প্রভু মানা সৌদী রাজতন্ত্রসহ অন্যান্ন মুসলিম দেশের সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কথানুযায়ি ক্বাবাসহ বিভিন্ন দেশের মসজিদ বন্ধ রেখেছে যা কিনা ইসলাম সমর্থন করে না কিন্তু প্রশাষনের হাতে মিডিয়া এবং দালাল হুজুর সর্বদাই থাকে তাই তারাও মিডিয়ার মাধ্যমে মহামারীর হাদিসের ভুল অপব্যাখ্যা করে মসজিদে জামাত সাময়িক বন্ধ রাখা জায়েজ বলেছে।
এখন কথা হল এতে – আল্লাহর কি করনীয় হওয়া ছিল ? ইসলাম ধর্ম মতে শুধু ক্বাবা-ঘরসহ দুনিয়ার সমস্ত মসজিদ কেন সকলেই যদি নামাজও ত্যাগ করে তবু আল্লাহ সুবঃ এর কিচ্ছু যায় আসবে না এবং এই পৃথিবীও ধ্বংস করবেন না এবং ঠিকই রোদ বৃষ্টিও স্বাভাবিকই রাখবেন- হাদিসে আছে ভবিষ্যতে এক নিগ্রো ক্বাবা ঘরও ভেঙ্গে ফেলবে তবু আল্লাহ গজব দিয়ে দুনিয়ায় কেয়ামত কায়েম করবেন না। দুনিয়ায় ১জন মাত্র বান্দাও নামাজ বাদ দিয়ে শুধু আল্লাহ বলে ডাকার মত কেউ থাকাবস্থাতেও তিনি এমন করবেন না এমনকি কেউই তাঁর নাম না নেয়ার পরও কিছুদিন স্বাভাবিকই রাখবেন এবং এরকিছুদিন পরই কেয়ামত হবে অথচ করোনার ভয়ে মসজিদ বন্ধ হলেও নামাজীরা ঘরে ঠিকই নামাজ পড়ছে এমনকি এইসব বিপদ দেখে অনেক বেনামাজীও ঘরের মধ্যেই ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করেছে অর্থাৎ মানুষ আরো ঈশ্বরমুখী হচ্ছে।
এখন কথা হল বেশীরভাগ নাস্তেকদের চিন্তাধারা আসলে কেমন? তারা ভাবে স্রষ্টা যদি থাকে তবে তিনি আমাদের উপাসনার জন্য মুখাপেক্ষী এবং তার বান্দারা যদি কোন বিপদে পরে তবে তার নিজের হাত দিয়ে তাদের সর্বদাই রক্ষা করা উচিৎ নয়ত ফেরেশতা দ্বারা সরাসরি সাহায্য করা উচিৎ অর্থাৎ আল্লাহর বান্দাদের দুনিয়ায় কোন বিপদ-আপদ তো দুরের কথা কোনরকম কষ্টও হওয়া উচিত না কিন্তু মুসলিমরা জানে দুনিয়াতে আল্লাহ মুমিনদেরই বেশী কষ্ট দিবেন, বিপদ দিবেন পরীক্ষা করবেন আর পরকালে শান্তিতে রাখবেন আর কাফেরদের তার উল্টোটা করবেন। এসব মহামারী দেখা গেলে কেউ আল্লাহর কাছে দুয়া করলে তাকে আপাদত বাঁচালেও পরে ঠিকই অন্যকোন উচিলায় মৃত্যু দিবেন অথবা তাকে আপাদত না বাচিয়ে এই মহামারীতেই অসুস্থ করে মৃত্যু দিয়ে শহীদের মর্যাদাও দিতে পারেন। সুতারাং এইভাবে মহামারীতে মুসলিমরা মরলে বা অনৈসলামিক সরকার মসজিদে নামাজ-ক্বাবাতে হজ্ব বন্ধ করলে আল্লাহর কিছুই যায় আসবে না বরং এইসব ঘটনা যখন ঘটবে তখন হাদিস অনুযায়ি ইমাম মাহদীর আত্মপ্রকাশ হওয়ার কথা যিনি সকল সরকারকে পতন ঘটিয়ে ইসলামিক খিলাফা আবারও ফিরিয়ে আনবেন।
আর কোন রোগ হলে ইসলামে অতি উত্তম হল- চিকিৎসা না করে ধৈর্য্য ধরা, অমুসলিমদের মতন রোগের সাথে যুদ্ধ করা নয় তবে সুন্নাহ হিসেবে কিছু চিকিৎসা ও সেবাও নেয়া যায় কিন্তু ফরজ না, কেননা কোন না কোন রোগের মাধ্যমেই আল্লাহ বেশীরভাগ মানুষের মৃত্যু লিখে রেখেছেন তাই একজন ব্যাক্তি কতদিন আর কয়টা রোগের সাথেই বা লড়বে ? মৃত্যু তার হবেই সুতারাং সত্যিকারের মুসলিমরা কখনই বিধর্মী নাস্তিকদের তৈরী ঐষধ ভ্যাক্সিন এর জন্য চেয়ে থাকবে না শুধু তাই না কোন ঈমানদারও ঐষধ ভ্যাক্সিন আবিস্কার তো দূরের কথা বানানোর কল্পনাও করতে পারে না। এসব কাজ হল সেসব মানুষের জন্য যারা এই জীবনকেই শেষ জীবন মনে করে আর যতদিন বাঁচতে চায় ভালভাবে বাঁচতে চায় অর্থাৎ দুনিয়াই যাদের আসল আর মৃত্যুবরন মানে সবই শেষ যারা মনে করে। আর বর্তমান অনলাইনের মুক্ত তথ্য-প্রযুক্তির যুগে চীনা মুসলিমদের অনেক নির্যাতন করা হচ্ছে শুনে অনেক আবেগী মুসলিমসহ কিছু আলেম-বক্তারাও অনুমান করেছেন যে এই করোনা ভাইরাস হয়ত আল্লাহ গজব হিসেবে চাইনাদের শায়েস্তা করতে পাঠিয়েছেন তাই মুসলিমদের এই রোগ হবে না। এখন কথা হল- কিছু মুসলিম আবেগী হয়ে কিছু বললেই সেটা ইসলামের দলীল না তাছারা সাধারন মুসলিম কেন অনেক নাস্তেক মহাশয়ও জানে না যে করোনা ভাইরাস আসলে নাস্তেক বিজ্ঞানীদেরই মোডিফাইড করা একটি ভাইরাস, যাকে ইচ্ছে করেই ছেরে দেওয়া হয়েছে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন, পৃথিবীর পরিবেশ বাচান, ক্যাশলেস মুদ্রাব্যাবস্থা চালুসহ জাতিসংঘের সরাসরি তত্তাবধায়নে এজেন্ডা-২১ এর বাস্তবায়ন করে একটি নতুন বিশ্বব্যাবস্থা গড়ে তোলার জন্য আর এজন্যেই তারা সারা পৃথিবীতে মহামারীর নামে সাধারন মানুষকে হত্যা করছে আর যারা এসব গোপনে করছে তারা কিন্তু সবাই নাস্তেক এবং তারা মনে করে তারা ভালর জন্যই করছে তারা ভাবে- আগামীর দিনগুলো আরো সুখ-সমৃদ্ধিপুর্ন করতে হলে কিছুটা ত্যাগ করতেই হবে।
নাস্তিকঃ-আমরা ধর্মিও গন্ডির বাহিরে,ভালো লাগলে আমাদের সাথে আসুন,
মানবতাই মানুষের ধর্ম,
আস্তিকঃ-মানবতার ধর্ম মানে মানুষের মন যা চায় তাই বা বিবেক যা বলে তাই , কিন্তু মনবিজ্ঞানিরা বলে এভাবে একমাত্র পাগল অথবা ভন্ডরাই চলতে পারে তাই মানবতার ধর্ম মানেই পাগল ছাগলের ধর্ম অথবা ভন্ডদের তৈরী ধর্ম।
নাস্তিকঃ- মুসলিমরা বায়ুত্যাগে অজু করার কারন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এটা একটি অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। যদি আদৌ ব্যাখ্যা জানবার ইচ্ছে থাকে, তবে নিচে একটা লিংক দিলাম এটা পড়ুন সেখানে বলা আছে বায়ুত্যাগে ততটুকুই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকে, যতটুকু থাকে দইতে। মর্মার্থ বুঝেছেন?
আস্তিকঃ- জানিনা আপনার ব্যাকটেরিয়া সম্পর্কে ধারনা কতটুকু? তবে দই এর ভিতর থাকা যে ব্যাকটেরিয়া সেটা হল উপকারি ব্যাকটেরিয়া । সাধারনত কোন ব্যাকটেরিয়া ভাল খারাপ তা অনেকটাই বুঝা যায় গন্ধ থেকে। বায়ুত্যাগে যে ব্যাকটেরিয়া বের হয় তা এমন ক্ষতিকর নয় যে সংগে সংগে একজন অসুস্থ হয়ে পরবে তবে মুসলিমরা একটু বেশি পবিত্র থাকে তাই এগুলো থেকেও বাঁচার চেষ্টা করে অযুর দ্বারা মৌলিক অংগ-প্রত্যঙ্গ ধৌতের মাধ্যমে।অর্থাৎ কেউ গ্যাস ছারলে জীবানু ঐ জায়গায় বিরাজ না করে বেশি বিরাজ করে যেসব জায়গায় সেসব অংগই ধোয়া ইসলাম শিখিয়েছে। আপনি উপরে যে লিংক দিলেন এরকম লিংক এর খিচুরী দিয়ে প্রমান করা যায় মাদকও উপকারী শরীরের জন্য, বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে হাজার হাজার মানুষ হাজার হাজার তথ্য গবেষনা অনলাইনে প্রকাশ করে সেটা হোক সরকারি বা বেসরকারিভাবে তার সবগুলোই ঠিক একথা একজন পাগলও বলবে না। আপনি বায়ুত্যাগে যে ব্যাকটেরিয়া বের হয় তা এমন ক্ষতিকর নয় প্রমান পেয়েছেন ভাল কথা আপনি আজ থেকে আর কারও বায়ু ত্যাগে নিজের নাকে রুমাল বা হাত দিয়েন না এমনকি নিজের দমও বন্ধ করবেন না আর মনে মনে ভাববেন এটা দই এর মতই।
নাস্তিকঃ- আপনি বললেন, মানুষের বায়ুত্যাগে দুঃর্গন্ধময় খারাপ ব্যাকটেরিয়া বের হওয়ায় মুসলিমরা অযু করে আর সাধারনত কোন ব্যাকটেরিয়া ভাল খারাপ তা অনেকটাই বুঝা যায় গন্ধ থেকে।ওরে ভাই, ব্যাকটেরিয়ার গন্ধ থাকেনা। বায়ুত্যাগে যে গন্ধ হয় সেটা হয় মিথেনের কারনে; কারন তাতে থাকে মূলত হাইড্রোজেন আর মিথেন। এই গ্যাস তৈরি করে কোলনে থাকা ব্যাকটিরিয়া।আর অজু মূলত ইহুদিদের প্রথা, মুসলমানেরা সালাতের মতই এটিও ধার করেছে।আপনি না জানেন বিজ্ঞান, না জানেন ইতিহাস।
আস্তিকঃ- ব্যাকটেরিয়া নিজেই তো আর গন্ধ না।ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির কারনেই এমনটা হয়, যেমন- এই গ্যাস তৈরি করে কোলনে থাকা ব্যাকটিরিয়া।আসলে আপনার এখনে ভুল ধরার ব্যাপারটা এমন হয়েছে যে- আমি যদি বলতাম গন্ধটা হয় মিথেনের কারনে তখন আপনি লাফ দিয়ে উঠে বলতেন আসলে মিথেনও এই গন্ধ এর জন্য দায়ী না অর্থাৎ যখন এক অনু কার্বনের সাথে ৪ অনু হাইড্রোজেন যৌগ গঠন করে তখনই মিথেন তৈরী হয় বলে মুলত এরজন্য দায়ী কার্বন আর হাইড্রোজেন।হে হে হে। আমি পূর্বেও বলেছি এখনও বলছি যেখানেই দেখবেন দূর্গন্ধ সেখানে যেসব ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যাবে সেসব ব্যাকটেরিয়াই ক্ষতিকর সেটা হোক খুবই সামান্য পরিমানেই হোক না কেন। তবে আপনি এবার অনলাইনে এটার পেছনে সময় ব্যয় করতে থাকুন কিভাবে দূঃর্গন্ধময় স্থানের ব্যাকটেরিয়াকে উপকারী দই এর মত প্রমান করা যায়।আমি জানি না যে আপনি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কিনা ? তবে আপনার কথাবার্তায় আমার কাছে আপনাকে কেন জানি কলাবিজ্ঞানী মনে হয় । কলাবিজ্ঞানী মিনস- কলাবিভাগে লেখাপড়া করেও যারা বিজ্ঞান নিয়ে বেশি কাউ কাউ করে এবং মাঝে মাঝে তর্কে জড়ায় বিজ্ঞান বিভাগেরই ছাত্রদের সাথে। আবার শেষে বলেছেন অজু ইহুদীদের হতে ধার করা । সেটা যে ধার করা আপনি কিভাবে বুঝলেন, আপনাদের আরেক দোষ মুখস্তবিদ্যা আর যা পড়েন তাই অকোপটে বিশ্বাস করেন। ইহুদীদের ধর্মও যে ঈশ্বর পাঠিয়েছিলেন সেই একই ঈশ্বরই ইসলাম ধর্মও পাঠিয়েছেন তাই মূল রীতি নীতিতে মিল থাকবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু ইসলাম ধর্ম আল্লাহ কর্তৃক সর্বশেষ আপগ্রেড করা তাই মুসলিমদের অযু ও সলাত আর ইহুদিদের অযু ও সলাতের মাঝে কিছুটা পার্থক্যও রয়েছে তাহলে ধার করলে বা কপি করলে পুরোটাই করত তাহলে কিছুটা পার্থক্য আবার কে রাখল ? যাইহোক আপনি সবসময়ই এক লাইন বেশি বুঝেন আর ধরাও খান, কারন কি জানেন? যে শত্রুকে সবসময় দূর্বল ভাববে সে সর্বদাই ধরা খাবে একথা ঐতিহাসিক সত্য। আর আপনি মনে প্রানে বিশ্বাস করেন আস্তিক বা ধার্মিকরা বিজ্ঞান কম জানে আর জানলেও কম বুঝে কেননা আপনার ধারনা বিজ্ঞান বেশী বুঝলেই সে আপনাদের মতন নাস্তেক হতে বাধ্য। কিন্তু চার্লস বেকন তো বলেন অন্য কথা যেমন তিনি বলেন- তুমি যদি বিজ্ঞান সম্পর্কে কম জানো তবে সেই কম জানা তোমাকে নাস্তিক বানিয়ে তুলবে। আর আমিসহ অনেকেই জানেন- নাস্তেকরা না ভালভাবে বুঝে বিজ্ঞান আর না ভালভাবে বুঝে ধর্ম অর্থাৎ দুটোতেই অপরিপক্ক আর সেটার বড় প্রমান হল- তারা নিজেদের বেশী জ্ঞানী ভাবে কিন্তু জ্ঞানীরা তো বলে এর উল্টোটা।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ৯:৫৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



