
পর্ব-১১
জৈনক নাস্তিকঃ- নামাজের দিক পরিবর্তনই বলে দেয় নবী যে পৃথিবীর বর্ননা দিয়েছেন সেই পৃথিবী গোল নয়। পৃথিবী যে গোল এমন একটা শব্দ আমাকে কেউ কোরআন থেকে দেখান।
উত্তরঃ-আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ
" وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهَا
পৃথিবীকে এর পরে বিস্তৃত করেছেন। " (AL - QURAN - 79-30)!
এখানে আরবী শব্দ دَحَاهَا এসেছে আরবী শব্দ دحية থেকে, যার অর্থ হলো (ostrich egg) উটপাখির ডিম।
আর এখন বিজ্ঞানীদের কাছে যদি প্রশ্ন করেন, যে পৃথিবী দেখতে কেমন, তখন তারা পৃথিবীকে উটপাখির ডিমের মতই বর্ননা দিবেন।
জৈনক নাস্তিকঃ- কোরআনে আপনার দাহাহা তো প্রথম থেকেই ছিল তাই না? আপনি আমাকে দেখান তখনকার সময়ের কোন তফসির কারক এটা বলেছে , ভণ্ড জাকিরের অনুবাদ থেকে নয়।
উত্তরঃ-তখনকার সময়ের তফসির কারক হতেই ডাঃ জাকির অনুবাদ করেছে এটা উনার নিজের ব্যাখ্যা না
নাস্তিকঃ-আপনি বাংলা বোঝেন না? জাকিরের তথ্য ইনভ্যালিড।কারন সবার তো একই কথা বলার কথা তাই না?
আস্তিকঃ-জাকিরের তথ্য ইনভ্যালিড হবে কেন? সে কি মুসলিম না সে কি গবষক নয় ? আর মানুষের ভুল হতেই পারে বিশেষ করে অন্যভাষায় কুরান বুঝতে চাইলে তবে আরবী ভাষীদের কম ভুল হয় এবং তারা প্রায় সবাই একই ধরনের কথাই বলে আর তাদের থেকেই জাকির নিয়েছে তবে তারপরও একটি কথা থেকে যায় যে একটা সুত্র হতে সবারই একই ধরনের অংক হবে না কিন্তু মূল সুত্র ঠিক আছে কিনা তাই দেখতে হবে।
নাস্তিকঃ-আপনি এত পেঁচান কেন ভাই জাকিরের তথ্য কি সবার কাছে গ্রহনযোগ্য? দ্বিতীয়ত এই অনুবাদ আগে যারা করেছে তারা কি আরবি জানে না? যদি তারা আরবি জেনেই থাকে তাহলে তারা কি এটা জানে না যে দাহাহা মানে উটপাখির ডিম। যদি তারা জেনেই থাকে তাহলে তাদেরও কি একই তথ্য দেবার কথা না? তাই যদি হয় তাহলে জাকিরের আগে যারা অনুবাদ করেছে সেখান থেকে দেখান।
আস্তিকঃ-১মত সত্য একটু তিতা বলে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য হয় না । ২য়ত আপনি বেছে বেছে সেসব তাফসিরকারীদের কেন খুজছেন যারা দাহাহা মানে সরাসরি উটপাখির ডিম করেন নাই তবে যা করেছেন সেটাও ভুল নয়। কুরানের আয়াত কাব্যিক হওয়ায় একেকটা শব্দের একাধিক অর্থ হয় এবং সবগুলোই সঠিক হয় এগু্লোকে বলা হয় বহুল অ্থজ্ঞাপক, যাদের কাব্য সাহিত্য সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রয়েছে তারা বুঝবে ব্যাপারটা।৩য়ত আল কুরান সর্বকালের জন্যই পথ প্রদর্শক হওয়ায় কিছু কিছু আয়াতের অর্থ পরবর্তীগন যা বের করবে দেখা যায় পূর্ববর্তীগন তা কখনও বুঝতে পারেনি কিন্তু তারা যা করেছেন সেটাও ভুল নয়।কারন তাদের যুগের জন্য সেই অর্থই আল্লাহ সুবহানাতায়ালা রেখে দিয়েছিলেন উক্ত শব্দের মাঝে অর্থাৎ কুরানের অনেক শব্দই এমনভাবে তিনি সংকুচিত করে নাজিল করেছেন যার প্রসারন সম্ভব আর তা বিভিন্ন যুগে যুগে বিভিন্ন তাফসিরকারীরা করেছেনও(ঈশ্বরের গ্রন্থ বলেই এটা সম্ভব) আর এই ধরনের প্রসারন বা বহুল অ্থজ্ঞাপক শব্দের সঠিক অর্থ বের করারও মুলনীতি কুরান এবং হাদিসেই রয়েছে যা কিনা সব মুসলিম স্কলাররাই অবগত, তাই কেউ কোন শব্দের ভুল অর্থ বের করলে অন্য স্কলাররা ঠিকই বুঝতে পারে যে সে ভুল করেছে কিন্তু মুসলিমদের বাধ্যতামূলক খলিফা না থাকায় তার কার্যকারীতা নেই , তাই অনেকেই বিভিন্ন ভুল তাফসির করেই যাচ্ছে আর ইসলা্মবিরোধীরা সেসব ভুল তফসিরকে হাইলাইট করছে। কিন্তু সত্যিকারের মুসলিমরা ঠিকই সঠিক তাফসির অধ্যয়ন করে এবং ভুল শুধরিয়ে দেয়। এখন আপনার দরকার সুদূর অতীতের তাফসিরকারীদের শাব্দিক অর্থ অথচ তখনকার যুগের মুসলিমরা এমন ছিল যে কিভাবে তারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতি নিবে এতেই তারা সর্বদা ব্যাস্ত থাকত, পৃথিবী গোল না লম্বা বা আকাশ চ্যাপ্টা না ভোঁতা তা ভাবতে গিয়ে নিজেদের মাথার চুল ছিরা কিন্তু ভাল মানুষ হবার ক্ষেত্রে কোনই ভুমিকা ছিল না । এখন বর্তমান যুগে অবিশ্বাসীরা যেহেতু মহাবিশ্ব নিয়ে ভুল ভাল বককানী করেই যাচ্ছে তখন স্রষ্টার গ্রন্থ কুরান থেকে তাফসিরকারীরা অবশ্যই সঠিক তথ্য বের করবে এটাই স্বাভাবিক এবং এখন আর এটা পুরোপুরি সময়ের অপচয় না হয়ে বরং দাওয়াতের অংশ হবে। তাই শুধুই পুর্বের তাফসিরকারীদের অর্থ খোজাও এক চোখা নীতি। যদিও ডাঃ জাকির নায়েক এর অর্থ বের করেননি করেছেন মোটামুটি মধ্য যুগের তাফসিরকারীরা যে যুগে মুসলিমরা ছিল বিজ্ঞানী আর ইউরোপের লোকেরা বাগদাদ এবং ইস্তাম্বুলে জড় হত জ্ঞানার্জনের জন্য।
নাস্তিকঃ-হাজরে আসওয়াদ- কাবা শরীফের অপরাপর ৩৬০টি মূর্তির মতোই একটি মূর্তি।মুসলিমরাও কাবা শরীফ এবং কাল পাথরের পুজা করে।
আস্তিকঃ-মূর্তি আর ষ্টোনের পার্থক্য বুঝেন না ? সাধারনত মূর্তিতে কারও অবয়বকে আংশিক বা পুরোপুরি আকার দেয়া হয়, সেটা হতে পারে পাথর মাটি বা অন্য যেকোন কিছুরই । পাথর দিয়ে মূর্তি তৈরী হয় বলেই পাথর আর মূর্তিকে একাকার করে আপনি ইসলামবিদ্বেসী হয়ে যে কল্পনার জাল বুনেছেন তার সঠিক জবাব অতীতেও অনেক মুসলিমই দিয়েছেন। সাধারনত মূর্তির কাছে মাথা অবনত করা হয় পূজা করা হয় কিন্তু কোন মূর্তিকে কি কোন পুজারীকে দেখেছেন চুম্বন করতে? আর কাবার ঐ জান্নাতি পাথরকে চুমা দেওয়া ঐচ্ছিক সুন্নাহ এটি না করলেও হজ্ব বা তায়াফের কোন ভুল হবে না। উমর রাঃ বলেন- এই পাথর ভাল মন্দ কোন কিছুরই ক্ষমতা রাখে না আর আর পূজনীয় মূর্তির ব্যাপারে কি মূর্তিপুজারীরা এই ধারনা পোষন করে ? আর যারা ভাবে কাবা ঘরকে পুজা করে মুসলিমরা তাদের জেনে নেয়া উচিত বেলাল রাঃ কাবা ঘরের উপর দ্বারিয়ে আযান দিয়েছিল তাছারা এখনও কাবার উপর দ্বারিয়ে পরিস্কার করা হয় । স্বাভাবিক জ্ঞানেও চিন্তা করলে বুঝা যায় যারা কাবাকে পূজা করবে তারা কি করে সেই কাবার মাথায় পা তুলে দ্বারাবে ?
নাস্তিকঃ- ইসলাম যদি স্রষ্টার ধর্ম হত তবে অবশ্যই স্রষ্টা নারীর মন বুঝত কেননা কোন নারীই চায় না তার স্বামীর ভাগ অন্য কাউকে দিতে। তাই যদি কারও খুব প্রয়োজন হয়ে পরে তখন যদি তার ১ম স্ত্রী অনুমতি দেয় তখন সে ২য় বিয়ে করলে কিছুটা কম দোষ দেয়া যেতে পারে।
আস্তিকঃ- স্ত্রী চাইবেই যেন স্বামী বহু বিবাহ না করে আর শুধু তাকে নিয়েই যাতে পরে থাকে । এমনকি স্বয়ং নবী সাঃ স্ত্রীরাও নবী সাঃ এর বহু বিবাহকে মন থেকে ভালবাসতে পারে নাই । কারও মন ব্যাক্তিগতভাবে কি চাইল তার উপর নির্ভর করে ঈশ্বর কখনই বিধান দেন না বরং ব্যাক্তিগত এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করেই তিনি বিধি-বিধান দিয়েছেন। এমনকি নবী সাঃ এরও ব্যাক্তিগত মনের ইচ্ছা আল্লাহ সুবঃ সকল ক্ষেত্রে পূরন করেননি যেমন- তিনি চেয়েছিলেন তিনি বেঁচে থাকতে পৃথিবীর কেউই যেন ঈমানহারা হয়ে না মৃত্যুবরন করে আর এর প্ররিপ্রেক্ষিতে অনেক আয়াতও নাজিল করা হয় যাইহোক তিনি নবী হওয়ায় আল্লাহর আদেশের সংগে সঙ্গে তা মন হতেই মেনে নিয়েছেন কিন্তু আমাদের মন না চাইলেও জোড় করেই মানতে হবে আল্লাহর ভয়ে আর ইসলামে একে বলা হয় মুত্তাকী বা আল্লাহভীরু। তাই নিজের কারও নিজের মনের ব্যাক্তিগত ইচ্ছার উপর ছেরে দিলে সে আযগুবি অনেক কিছুই চেয়ে বসবে তাই ইসলামে ২য় বিয়ের জন্য ১ম স্ত্রীর অনুমতিকে বাধ্যতামূলক বা সুন্নত কোনটিই করা হয় নাই তাই কারও ১ম বউ অনুমতি দিবে আর তারপর আরেকটি বিয়ে করবে এই আশায় থাকলে সে আসলে ভেড়া , তবে বর্তমানে এই আইন সরকার তৈরী করেছে, ইসলামের নয়। আর সাধারনত আমাদের দেশে একই সংসারে দুই বউ রাখে যা ইসলামে সিদ্ধ নয় ফলে সারাদিন ঝগড়া ঝাটি হৈ চৈ লেগেই থাকে এমন করলে অন্য নারীর উপকারের চেয়ে আরো ফিতনার দরজা খুলে দেয়া হবে , একাধিক বিয়ে করলে সংসার বা বাড়ি ফ্লাটও একাধিক করার সমর্থ থাকতে হবে শারীরিক সমর্থের পাশাপাশি । যাইহোক ইসলাম কেন বহুবিবাহের অনুমতি দেয় তার কারনগুলি ইসলামিষ্টদের কাছ থেকে জানলে সবাই স্বিকার করতে বাধ্য হবে যে ইসলামের বহুবিবাহ প্রথা একটি সুন্দর ভারসম্যপূর্ন ব্যাবস্থা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

