
পর্ব-১২
জৈনক নাস্তিকের প্রশ্নঃ- যখন আগুন আবিষ্কার হয়নি তখন নরক,দোযক বা জাহান্নাম কীভাবে ব্যাখা করা হতো বলে ধর্ম বিশারদরা মনে করেন?
উত্তরঃ-মানুষ আবার কবে আগুন আবিস্কার করল? তারপূর্বে কি আগুন ছিল না? তবে কিছু আবাল নাস্তেক ইতিহাসবিদরা যখন চারদেয়ালের মাঝে বসে চোখ বন্ধ করে কল্পনার সাগরে ডুব দিয়ে মনে মনে ভাবল- হয়ত ঝড়ের কারনে গাছের সাথে গাছ সংঘর্ষ হয়ে যে আগুন জ্বলে উঠত তা দেখে মানুষেরা কাঠ বা পাথর ঘসে আগুন আবিস্কার করেছে, এরপূর্বে মানুষ আগুনের ব্যাবহার জানত না।পাঠ্যবইয়ের এমন গাঁজাখোরী গল্প যারা সত্যিই বিশ্বাস করেছে তারাই এমন প্রশ্ন করতে পারে। আবার ভাবতে পারেন সূর্য্য ছিল কিন্তু আগুন ছিল না এটা আপনি এবং কল্পকাহিনীর ঐতিহাসিকরা জানলেন কিভাবে ? মানুষ তখন এই ভাবত, এই করত, সেই করত, তা তিনি কি করে ভাবলেন?
নাস্তিকঃ-এত অগ্রগতি কেন হয়েছে জানেন? মানুষের অসীম চাওয়ার জন্য।আগে মানুষ কাচা মাংস খাইতো,ওকান থেকে আরেকটু ভালো খাওয়ার জন্য আগুন আবিষ্কার করে মাংস পুড়িয়ে খাওয়া শিখেছে। আর ধর্ম সবসময় মানুষকে পিছনে টেনে ধরে।
আস্তিকঃ-মানুষ আগে গুহাতেই বাস করতো কাচা মাংস খাইতো,ওখান থেকে আরেকটু ভালো খাওয়ার জন্য আগুন আবিষ্কার করে মাংস পুড়িয়ে খাওয়া শিখেছে এই তথ্য আপনি জানলেন কিভাবে? এসব গাজাখুরি তথ্য কয়েকশ বছর পূর্বে নাস্তেকরা ঘরের মধ্যে বসে কল্পনা করে লিখেছে যার কোন সত্যতা নাই এবং যা বর্তমানে সিলেবাসে পড়িয়ে মানুষকে গবেট বানানো হয়। ধার্মীকরাই উন্নতি করে আর অতীত হতেই নাস্তেকরাই ছিল গোঁরা অসভ্য এবং কর্মবিমুখ এক সম্প্রদায়। এরাই মানুষকে পিছনে টানে আর আগে বাড়াবার নামে নিয়ে যায় চরম অসভ্যতার দিকে। তাছারা আদিম গুহামানব যে পাথরে পাথরে ঠুকে আগুন জ্বলে আবিস্কার করেছিল সেটা আপনি কি টাইম মেশিনে গিয়ে দেখেছিলেন বা কোন প্রমান দিতে পারবেন ? এটা বর্তমান মানুষের ধারনা যে তারা নিশ্চয় পাথরে পাথরে ঠুকে আগুন আবিস্কার করেছিল যেহেতু ঘর্ষনেও আগুন জ্বালানো সম্ভব । এটা হল কিছু মাথামোটা নাস্তেকদের কল্পনা যা পাঠ্যবইয়ে ঢুকানো হয়েছে কমলমতি শিশুদের ব্রেইন ওয়াশ করার জন্য।
নাস্তিকঃ- কাপড় আবিষ্কারের আগে ধর্ম কই ছিল। পরে ধর্ম এসে ফরজ, নফল, বেদাত এবং পর্দাপ্রথা ফতোয়া দিল।
আস্তিকঃ-তারমানে আপনি বিশ্বাস করেন যে মানুষের মত উন্নত বুদ্ধিমান প্রানী আগের যুগে উলংগ থাকত? এত ট্যাকনোলজীর যুগেও যখন কিছু আদিবাসীরা আজও উলংগ থাকে ঠিক তখনও একদল ধার্মীক সভ্য জাতীরা ঠিকই পোশাক পরিধান করত কিন্তু অধার্মীক নাস্তেক অসভ্যরা ঠিকই উলংগ থাকত । তার উদাহরন দেখা যায় আজও তারা পর্দা প্রথাকে বর্বর আখ্যা দিয়ে অর্ধ নংগ্ন থাকার জন্য প্রচারনা চালায়। তাদের আচরনে অতীত অসভ্য আদিম স্বভাবের লক্ষন আজও প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ মানুষ সর্বদাই দুইভাগে বিভক্ত ছিল। ধার্মীক বা সভ্য আর অধার্মীক নাস্তেক বা অসভ্য। তাই দুনিয়াতে মানুষ আসার পর হতেই পোশাক ব্যাবহার করত পাশাপাশি ফরজ, নফল ইবাদত করত।
নাস্তিকঃ-আমি তো খুজেই পাইনা ভাষা আবিস্কারের আগে ইব্লিশ, সাপ, আদম, হাওয়া কোন ভাষায় শলা পরামর্শ করে আকাম টা করছিলো...
আস্তিকঃ-আপনার ধারনা ভাষার আগেই মানুষ এসেছে? আপনি জন্মের পর যে ভাষায় কথা বলেন তা কি আপনি জন্মানোর পর আবিস্কার করছেন নাকি পূর্ব হতেই ছিল?
জৈনক নাস্তিকের প্রশ্নঃ- সূরা পড়ে ফুঁ দিলে করোনা ভাইরাস মারা যাচ্ছে না কেন?
উত্তরঃ- সূরা পড়ে ফুঁ দিলে করোনা ভাইরাস মারা যাবার প্রধান শর্ত হল যাকে ফু দেয়া হবে তার বিশ্বাস থাকতে হবে ১০০ভাগ যে ফু দিবে তারও নূন্যত্তম ইমানদার হতে হবে।একবার বিজ্ঞানীরা মুসলিমদের পানি পড়ায় ক্যান্সার রোগ ভাল হওয়ায় ঐ পানি পরীক্ষাগারে টেষ্ট করে দেখে ঐ পানির মধ্যে অসংখ্য এমন ব্যাকটেরিয়া আছে যাদের কাজ হল- ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে শুধু ক্যান্সারের কোষই না আপনার শক্ত দাত , হাড়কেও খেয়ে শেষ করে দিতে পারে।
নাস্তিকঃ- সহী হাদিসে আছে ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নাই। বর্তমান বিজ্ঞানের যুগে এটা কতই না হাস্যকর।
আস্তিকঃ- ইসলাম সম্পর্কে অল্প জানা কিন্তু বেশি বুঝা বা হাদিসের মর্মার্থ না বুঝা এগুলোই এখন বেশি হচ্ছে। সহী বুখারীতে এসেছে যে- ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই। সেটাও একটি সঠিক তথ্য এবং বিজ্ঞান সমর্থিত আবার অপর সহী হাদিসে আছে- প্লেগ বা মহামারি জাতীয় রোগ যদি কোন এলাকায় ছরিয়ে পরে তবে সেই এলাকার মানুষ অন্য এলাকায় যাবে না আর অন্য এলাকার লোকও মহামারি এলাকায় যাবে না। মুসলিম আক্রান্ত ব্যাক্তি যদি আল্লাহর উপর ভরসা করে মারা যায় তবে শহীদের মর্যাদা। এই হাদিসের মর্মার্থ প্রধানত দুটি - প্রথমত হল নিজের আত্মিয়-স্বজনদের অসুস্থ অবস্থায় রেখে স্বার্থপরের মত না পালিয়ে তাদের সেবা করা কেননা দেরীতে হলেও মরতে তাকেও হবেই। দ্বিতীয়ত একই এলাকায় বা পাশাপাশি থাকার ফলে তার শরীরেও উক্ত রোগের জীবানু ঢুকতে পারে, প্রাথমিকাবস্থায় সে না বুঝে অন্য এলাকায় গেলে কিন্তু তার কারনে সেসব এলাকাতেও উক্ত রোগের সংক্রামন হয়ে মহামারি আকার ধারন করতে পারে। মোটকথা এই হাদিস থেকে প্রমাণ হয় দুনিয়াতে সংক্রামক রোগের অস্থিত্ব আছে তা নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ছালামই বলে গেছেন তবে সহী বুখারীতে তিনি ছোঁয়াচে রোগ নেই বলে কি বুঝাতে চেয়েছেন ?
আসলে বুখারীর উক্ত হাদিসের তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ন যা বর্তমান বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে বেশি উন্নতি করায় আরও ভালভাবে প্রমান করা যায় যে কাউকে স্পর্শ করার মাধ্যমে কোনদিনই রোগ হয় না। সত্যিকার্থে ছোঁয়াচে আর সংক্রামক এই দুটি জিনিসের সাথে অনেকে তালগোল পাঁকিয়ে ফেলে তাই এই দুটি শব্দ আগে ভালভাবে জানতে হবে। ছোঁয়াচে রোগ এর অর্থ হল কাউকে স্বাভাবিকভাবে স্পর্শ করার মাধ্যমে যে রোগ ছরায় কিন্তু না ছুলেই এই রোগ হতে বাঁচা যায় আবার সংক্রামক রোগ হল- আক্রান্ত ব্যাক্তিকে স্পর্শ না করেও এই রোগ হতে বাঁচা যায় না সুতারাং কাউকে স্পর্শ করলেই কি আর না করলেই কি এমনকি বাতাস বা অন্য কোনকিছুর মাধ্যমেও এই রোগ আশপাশে সংক্রামিত হয় অর্থাৎ কাউকে ছোঁয়া বা না ছোঁয়ার সাথে এর কোনই সম্পর্ক নাই তবে সংক্রামিত এলাকা হতে অনেক দূরে অবস্থান করলে এই রোগ সেখানে যায় না।
সংক্রামক রোগের জীবানুর নেচার আল্লাহ সুবঃ এমনই সৃষ্টি করেছেন যে তার কাজই হল আক্রমন করা , কেউ কাউকে না ছুলেও সে আক্রমন করে ঠিকই অসুস্থ করে ফেলবে , অনেকে ভাবতে পারে তাহলে মেডিক্যাল সাইন্স যে বলছে একে অপরকে ছোঁয়ার মাধ্যমেও রোগ হয়? আসলে তারা বেশিরভাগ সেসব রোগের কথাই বলছে যেসব রোগ আসলে সংক্রামক রোগ আর এগুলো স্পর্শ ছারাই ছরায় সুতারাং হাদিসের শুধুমাত্র শাব্দিক অর্থ ধরেই বুঝা গেল সংক্রামক রোগ ছোঁয়াচে নয় কেননা এটি না ছুয়েও ছরায়। যদিও হাদিসের শাব্দিক অর্থ ধরে এমন মনে হতে পারে যে তাহলে তো সত্যিই শুধু ছোঁয়ার দ্বারাই কোন জীবানু একজনের শরীর হতে অন্যজনের শরীরে একদম যায়ই না?
কিন্তু হাদিসের মর্মার্থ কিন্তু একথাও বলছে না কারন হাদিসের প্রেক্ষাপট বলছে যে তখনকার জাহেলী যুগে সংক্রামক রোগ হলে রোগীকে সেবা না করে একঘরে করে রাখত অথবা অন্য জায়গায় ফেলে রাখত কেউই ভয়ে কাছে ঘেঁসত না অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা বা দেখতে যাওয়া তো দূরে থাক খাবার পর্যন্ত দিত না, ইসলামের শত্রু আবু লাহাবের এমন পরিনতি হয়েছিল। সেজন্য “ছোঁইয়াচে রোগ নেই” এই হাদিসেরও প্রধান দুটি মর্মার্থ পাওয়া যায় ১টি হল- রোগীর সেবা-যত্ন করলে বা তাকে ছুলেই রোগ হবে ভেবে অমানবিক আচরন না করা।
আরেকটি প্রধান মর্মার্থ হল সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ন- আর তা হল আক্রান্ত ব্যাক্তিকে ছোঁয়ার দ্বারা যদি জীবানু কারও কাছে গিয়েই থাকে তবে সেই জীবানুর দ্বারা তারও যে রোগ হবে এমন কিন্তু না । যেখানে করোনার মত ভাইরাসের জীবানু দ্বারা মৃত্যুর চেয়ে সুস্থ হবার সংখ্যাই বেশি তাছারা অনেকের ছোঁয়ার দ্বারা জীবানু হাতে এলেও সে চোখে মুখে হাত না দিয়ে হাত ধুয়ে ফেললে তো এই জীবানু ভিতরেই ঢুকল না তবে রোগ হল কিভাবে? তাছারা এমনও হয়েছে অনেকের যে ১মে গলায় গিয়ে আটকে থাকায় হালকা কাশি অনুভব করে তাই সে লেবু বা গরম পানি খেয়েছে নিজের অজান্তেই ফলে গলার মাঝেই সেই ভাইরাস মরে গেছে তাই তার শরীরে ভেতর ডুকেও রোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। তাহলে ফলাফল কি দ্বাড়াল? তাদের ছোঁয়ার মাধ্যমে রোগ হল না।
তাছারা পরীক্ষাগারে যন্ত্রের দ্বারা দেখলে দেখা যাবে দুইজন ব্যাক্তির মাঝে একজনের হাতে যদি কিছু জীবানু থাকে আর অপর ব্যাক্তির হাত স্পর্শ করে তবে সেই জীবানু কিছুটা হলেও ২য় ব্যাক্তির হাতে যেতে পারে এখানেও কিন্তু সম্ভাবনা অর্থাৎ যাবেই যে তা একশতভাগ নিশ্চিত না, এরপর যদি যায়ও তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় উক্ত জীবানু তার বাহু হতে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই সম্ভাবনাকেও যদি অতিক্রম করে শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশও করে দেহের প্রাথমিক সুরক্ষা দেয়াল ভেদ করে তবু জীবানুদের টেকা খুবই কঠিন। কারন বর্তমান বিজ্ঞানীরা দেখেছে সব মানুষের শরীর এমনভাবে অভ্যন্তরিনভাবে প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত যে তা যেকোন শক্তিশালী রাষ্টের সেনা-ব্যাবস্থার চাইতেও নিখুত।
শুধু তাই না এই রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থা আবার আপেক্ষিকও যেমন সব সময় এই ব্যাবস্থা একই রকম থাকে না অর্থাৎ অনেক দূর্বল ব্যাক্তিও যেকোন সময় অনেক বেশী রোগ প্রতিরোধকারী হয়ে উঠতে পারে আবার শুধুমাত্র মানষিক বিশ্বাসের উপর নির্ভর করেই এই রোগ প্রতিরোধ ব্যাবস্থার অর্ধেক নিয়ন্ত্রনই হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে অর্থাৎ কেউ যদি মানষিকভাবে ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস হারিয়ে মনবল হারিয়ে ফেলে তবে অনেক ছোট রোগেও অনেক ক্ষতি হতে পারে আবার কেউ যদি একজন জটিল সংক্রামক রোগীকেও ঈশ্বরের উপর বিশ্বাস রেখে সেবা- করে আর ভাবে এতে আমার কিছু হবে না তবে দেখা যায় সত্যি তার কিছু হয়নি। আবার সাধারন জীবানুর ভয়ে আস্থা হারিয়ে সু-সাস্থবান যুবকও অসুস্থ হতে পারে। তাই উপরের আলোচনা হতে খুব সহযেই বুঝা যায় যে একজনের হাত হতে জীবানু অন্যজনের দেহে যাবে অতঃপর ভিতরে ঢুকে সরাসরি রোগের সৃষ্টি করবে এটার সম্ভাবনা একদমই নাই।
তবে এরপরেও যেসবে রোগ সৃষ্টি হয় সেগুলো খুবই শক্তিশালী আর এসব জীবানু বেশী শক্তিশালী বলেই কাউকে শুধুমাত্র স্পর্শ করার দ্বারাই এরা আসে না বরং ছোঁয়া ব্যাতীতই এরা আক্রমন করে তাই এদের বলা হয় সংক্রামক রোগ আর এক্ষেত্রে নবী সাঃ বলেছেন অন্য এলাকাতেও না যেতে কারন এসব শক্তিশালী সংক্রামক রোগ ছোঁয়া তো দূরের কথা আশেপাশে অবস্থান করলেও হতে পারে কিন্তু হবেই যে এমন বিশ্বাসও করা যাবে না অর্থাৎ সম্ভাবনা বেশী বিধায় সাবধানতা অবলম্বন করতে হাদিসে এমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে ।
তাই হাদিসের মর্মার্থ অনেকটাই এরকম যে-“ ঔষধ খেয়েই যে রোগী সুস্থ হবে এমন না বরং আল্লাহ সুবঃ যখন উক্ত ঐষধকে কার্যকরি করবেন তখনি সুস্থতা আসবে অর্থাৎ আরোগ্যদাতা হিসেবে বিশ্বাস তাঁকেই করতে হবে ঐষধকে নয় কেননা অনেকেই পাওয়ারফুল ঐষধেও ভাল হয় না।
ঠিক একইভাবে ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছু নেই মানে জীবানুর অস্তিত্ব নেই তা নয় বরং ঐসব জীবানুর কোন ক্ষমতা নেই রোগ সৃষ্টি করার বরং রোগসৃষ্টিকারীও একমাত্র তিনিই । তাই এই বিশ্বাস মনে রেখে সাবধনতা অবলম্বন করা গেলেও নিজের আত্মীয় রোগীর ক্ষেত্রে জীবানুকে বেশী ভয় পেয়ে সেবা বাদ দেয়া যাবে না আর অন্যত্র তো যাওয়াই যাবে না।
আর এমন শক্তিশালী সংক্রামক জীবানুর দ্বারা মহামারী এলাকাতেও যদি কেউ ভাবে যে সরাসরি রোগীকে ছুলেই সে আক্রান্ত হবে নিশ্চিত তবে সে ভাইরাসের ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিল বলে শিরক করল। আল্লাহর ক্ষমতাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে যদি সে আক্রান্ত হয়ে মারাও যায় তবে সে শিরকহীন অবস্থায় মৃত্যু হলে তাকে পুরস্কার-স্বরুপ শহীদদের মর্যাদা দেয়া হবে।
তবে এমন নয় যে কেউ ভাইরাসের কোন ক্ষমতা নেই এই কথা ভেবে সংক্রামক রোগীর সেবা করবে আর আল্লাহর ক্ষমতায় বিশ্বাসি থাকায় তাকে কিছুতেই ভাইরাস সংক্রামন করবে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহ সুস্থ করলেও তিনি বাধ্য নন এমন করতে আর করেনও না কেননা এসবের উচিলাতেই তো তিনি বেশীরভাগ মানুষের মৃত্যু দেন । মুমিনদের বড় পাওয়া এটাই যে- ভাইরাসের কোন ক্ষমতা নেই এই বিশ্বাস করেও আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার জন্য বড় পুরস্কার আছে।
যাইহোক ছোঁয়াচে রোগের ১ম হাদিসটির বানী মুসলিমদের অন্তরের বিশ্বাসমূলক আর ২য় হাদিস(মহামারীর স্থানে না যাওয়া) হল- কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগমূলক কিন্তু মুসলিমরা দেখা যায় বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ২য় হাদিস মানে আর বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অসচেতনভাবে ১ম হাদিস অনুসরন করার চেষ্টা করে অনেকে। বেশিরভাগ মুমিনরা এগুলো পূর্ব হতেই জানে এবং মানেও কিন্তু নাস্তেকরা জানে না আর সর্বশেষ কথা এটাই যে – রোগীকে ছুলেই রোগ হবে বা কারও ছোঁয়াচে রোগ আছে এটা হল আগের যুগের কুসংস্কার যা কিনা বর্তমান বিজ্ঞানীরাও নবসংস্করন করে মানুষকে বিশ্বাস করাচ্ছে। তাই মুসলিমদের উচিৎ এই নব্য কিন্তু অত্যান্ত সূক্ষ কুসংস্কার হতেও নিজে বাঁচা এবং অন্যদেরও বাঁচান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

