somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতাল মানে বাতাসে পোড়া মাংসের গন্ধ

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মিদুল গার্মেন্টস এর এক জন শ্রমিক। ওর অর্থেই ওর পরিবার চলে। ওর বাবা তিন বছর যাবত সঠিক চিকিৎসার অভাবে ঘড়ে অসুস্থ হয়ে পরে আছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। রিদুল ওর ছোট ভাই টাকার অভাবে ওর লেখা পড়া ও বন্ধো। ওরা শ্যাম পুরের একটা বস্তিতে থাকে। লেখা পড়া ছাড়ার পর রিদুল বস্তির ছেলে দের সাথে চলতে চলতে
বেয়ারা হয়ে গেছে।প্রথমে মাঝে মাঝে নেশা করতো। এখন ওর নেশা ছাড়া চলেই না। এর টাকা আসে ও মাজে মাজে লেগুনা, টেম্পুর হেলপারি করে ও এলাকার বড় ভাই দের সাথে মাঝে মাঝে মিছিল মিটিং এ যায়। এ দিয়ে ওর বস্তির সস্তা নেশার কাজ চলে যায়। এসব সস্তা নেশা এখান থেকে ওখান করে ও কিছু নেশার কাজ চলে। আর মিদুলের যা আয় তা দিয়ে ওর পরিবার ই তো ভালো ভাবে চলে না, রিদুলের লেখা পরা কি ভাবে চালাবে।
ওকে ওর অসুস্থ বাবা অনেক বার বুঝিয়েছে, তুই ও তোর বড় ভাই এর সাথে গার্মেন্টস এ কাজে যোগদে। এ তে তোর একটা ভবিষৎ হবে। আর নেশা করা ও ছাড়। এ গুলা ভালা না বাবা। দেহছ না তোর ভাই একা এই সংসারটা চালাই তে পারছে না। এই কথা গুলো যতখন ওর খাবার খেতে সময় লাগে ততক্ষণ ও শোনে।কিন্তু তার পর আর ওর তা মনে থাকে না। হরতাল হলেই বস্তির ছেলেদের মধ্যে একটা ঈদ উৎসব এর মতো উৎসব ভাব চলে আসে।রিদুলের বড় ভাই এর কাছ থেকে ডাক আসলো।
-কি রিদুল মিয়া দেশের কি কোন খবর রাহো।
-কি হইছে ভাই ,কইয়া হালান,কি করন লাগবো খালি এক বার কন।
- আগামী ৭ তারিখ হরতাল, ৬তারিখ সন্ধায় তুমি দেহা করবা।
-ঠিক আছে ভাই।
-তাইলে তুমি এহন যাও, আমার অনেক কাজ আছে।

রিদুল বস্তিতে এসেই রিন্টু, মলাই, প্রেম তোরা কই তোরা সবাই এদিক আয়। ভাই কইছে আগামী ৭ তারিখ থেইকা হরতাল, আমাগো সবাইর হরতালে যাইতে হইবো। এর জন্য ভাই আমাগো সবাইরে লাল নোট দিবো। আমরা গাড়ি ভাংগুম, গাড়িতে আগুন দিমু, আবার লাল নোট ও পামু, কতো মজাই না হইবো। কি কস তোরা মজা হইব না। হ ভাই পুরাই ঈদ ঈদ লাগতাছে। ঠিক আছে ৭ তারিখ সকালে কিন্তূ সবাই থাকবা।
৬ তারিখ সন্ধ্যা
-কি রিদুল মিয়া আইছো।
-হ ভাই।
-তোমার কথাই এতখন কইছি, পোলাডার কইলজাডা অনেক বড়। তোমাগো লাইগা এই গুলা রাখছি। তোমাগো হরতাল এই বার দিনে না রাইতে করতে হইবো।
-ঠিক আছে ভাই।
-এই খানে দুই লিটার পেট্রোল আছে। আগুন ধরাইয়া খালি বাসে মারতে হইবো। পারবা না?
-পারুম মানে ভাই, অবশ্যই পারুম।
-ঠিক আছে, ঐ গুলান কাল বিকালে নিয়া যাইবা।
-ভাই গাড়ি ভাঙন লাগবো না?
-না তা লাগবো না, এই বার আগুন দিয়া মানুষ পুড়াইয়া মারন লাগবো। কি মিয়া ভঁয় পাইছো, কোন সমেস্যা নাই।
আমি আছি না।
-না ভাই আপনি কইলে সব কিছু করতে পারুম।
-আর আমরা যদি একটা মানুষ পোরাইয়া মারতে পারি।তাইলেই আমাগো হরতাল সফল হইবো। আর হরতাল সফল হলেই সরকার পতন হইবো। তহন আমগো নেতায় মন্ত্রী হইবো।
তোমাগো তহন টাঁকার অভাব হইবো না। খালি বড় লাল নোট দিমু।
আর হেইগুলান দিয়া তোমরা দিন রাইত রিলাক্স করবা। বিদেশি লাল পানি খাইয়া। তহন অনেক মজা হইবো না?
-হ ভাই, তাইলে ভাই অহন যাই।কাল বিকালে আইমু।
-ঠিক আছে যা।
৭তারিখ বিকাল
-ভাই বোতল দুইডা দেন।
-নে, কিন্তু সাবধানে নিতে হইবো।
-ঠিক আছে ভাই।
ওরা সন্ধ্যা হতে হতেই একটা বাসে পেট্রোল বোমা মারলো।
বাসের ভিতর হুড়ো হুরি শুরু হল।
অনেকে বাস থেকে নামতে পারলো না,৬/৭ মিনিটেই বাসের ভিতর যে মানুষ গুলো আটকা পরে পুরে গেল।
চার দিকে বাতাসের সাথে মিশে পোড়া মানুষের মাংসের গন্ধ ছড়িয়ে পরলো। চিৎকারে চার দিকের মানুষ দৌরে এল।
ওরা ও খান থেকে পালিয়ে বড় ভাই এর কাছে এলো।
-কি রে রিদুল পুরাই তো চমক দেহাইছস। তুই তো আসলেই একটা কইলজা অলা পোলা। কত জন মরছে জানস।
-না ভাই, ১২জন। নে তোর লাইগা একখানা লালা নোট, আর বাকী সবার জন্য ২ খান।
-ঠিক আছে ভাই তঁয় এহন যাই।
-ঠিক আছে যা, আবার ডাকমুনে।

রিদুল বারিতে যেতেই দেখে ওদের ঘরে তালা দেওয়া। ওর বাসার পাশের অ্যান্টির কাছে জানতে চাইলো।
-আন্টি আমগো মায় কই গেছে?
-তোর ভাই গার্মেন্টস থেইকা আহনের পথে বাসে যেন কারা বোমা মাড়ছে। তোর ভাইরে ঐ হান দিয়া ঢাকা মেডিকেল এ নিয়া গেছে।

রিদুল তাড়া তাড়ি করে রিকশা নিয়া মেডিকেল এ গেলো।
সে খানে গিয়ে মিদুল দেখছে চার পাশে শুধু মানুষের ভির আর কান্না কাটি করছে মানুষ। এর ভিতর ওর মা বাবা কে ও দেখলো। তার সামনে একটা লাশ । সম্ভবত ও টাই ওর ভাই এর লাশ। ও সামান্য কিছু অর্থের বিনিময়ে ওর ভাই কেই হত্যা করল।



০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সমুদ্রের থেকে সুন্দর আর কিছু নেই পৃথিবীতে

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৭



ঢেউয়ের পরে ঢেউয়ে ঢেউয়ে ক্লান্ত কথা,
লোনাজলে রোদ্দুর রঙে মন রাঙে,
ডোবার আগে সূর্য যেমন একটু থামে,
এত পাওয়ার পর ও কেন হৃদয় ভাঙে।

বালির বুকে পায়ের ছাপে অস্থায়ী ঘুম,
পাথরের গায়ে লেগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন সমগ্রঃ পর্ব ২

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১০ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪



আকবর শেঠ।



'বৈঠকি খুনের জনক' আকবর শেঠ এর জন্ম ১৯৫০ এর দশকে। আকবরের প্রথমদিককার জীবন সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায়না। আকবর শেঠ প্রথম লাইমলাইটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিব হল → ওসমান হাদি হল: নতুন বাংলাদেশের শুরু ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৩


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ডাকসু নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট নাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী রেখেছো বাঙালি করে মানুষ করনি‼️রবিন্দ্র নাথ সঠিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু ভুল ছিলেন। বাঙালি আজও অমানুষ!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৮:১৩


১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের জনগন সহ সমগ্র বিশ্বের প্রতি যে নির্দেশনা। তা এই ভাষণে প্রতিটি ছত্রে ছত্রে রচিত করেছিলেন। ৭ই মার্চের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ভাষণের নির্দেশনাগুলো! কি অবলীলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মের শুভেচ্ছা হে রিদ্ধী প্রিয়া

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:০১



জন্মের শুভেচ্ছা নিও হাজার ফুলের
শৌরভে হে রিদ্ধী প্রিয়া, তোমার সময়
কাটুক আনন্দে চির।স্মৃতির সঞ্চয়
তোমার নিখাঁদ থাক সারাটা জীবন।
শোভাতে বিমুগ্ধ আমি তোমার চুলের
যখন ওগুলো দোলে চিত্তাকর্ষ হয়
তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×