
কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক এবং একজন আর্তমানবতার সেবক ছিলেন এই ডাক্তার এড্রিক বেকার । মিত্যু কালে মরহুমের বয়ছ ছিল ৭৪ বছর । কাল মঙ্গলবারে বেলা ২টার দিকে নিজ হাতে গড়া তার প্রাণ প্রিয় কালিয়াকুঁড়ি হাসপাতালেই অসুস্থ্য অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডাক্তার এড্রিক বেকার । ডাক্তার এড্রিক বেকার টাঙ্গাইলবাসীর কাছে একজন প্রিয় মানুষ ছিলেন । তাই তার মৃত্যুতে এলাকাসহ পুরো মধুপুরে শোকের ছায়া ঢেকে যায় ।
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরগড়ে অবস্থিত একটি ব্যতিক্রমী চিকিৎসাকেন্দ্র কাইলাকুড়ি হেলথ কেয়ার সেন্টার গড়ে তুলেছিলেন ডাক্তার এড্রিক বেকার । নিউজিল্যান্ডের অধিবাসী ৭৪ বছর বয়স্ক এই ডাক্তার এড্রিক বেকার গ্রামের সবার কাছেই ডাক্তার ভাই হিসাবে পরিচিত ছিলেন । গত ৩৫ বছর ধরে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত এই ভিনদেশি মানুষটি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন টাঙ্গাইলের মধুপুরগড়ের মানুষদের ।
এক তথ্যে জানা যায় ১৯৬৫ সালে ডাক্তার এড্রিক বেকার ডুনেডিন শহরের ওটাগো মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে সরকারের শল্য চিকিৎসক দলের সদস্য হিসাবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনাম যান, সেখানে কাজ করার সময়ই তিনি পত্র পত্রিকার মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে পারেন । যুদ্ধকালীন সময় এবং তার পরে এখানকার মানুষের দুর্ভোগের চিত্র দেখে তিনি ঠিক করেন সম্ভব হলে বাংলাদেশে আসবেন । সবশেষে ১৯৭৯ সালে তিনি বাংলাদেশেই আসেন ।
এদেশে এসে ডাক্তার এড্রিক বেকার প্রথমে কয়েক বছর কাজ করেন মেহেরপুর মিশন হাসপাতালে তার পর কুমুদিনী হাসপাতালে এবং থানারবাইদ গ্রামের একটি ক্লিনিকেও কাজ করেন ডাক্তার এড্রিক বেকার ।
কিন্তু তার সবসময় ইচ্ছা ছিল বড় হাসপাতালে কাজ না করে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে গরিবের সেবা বা কাজ করার । সেই চিন্তা থেকেই তিনি চলে আসেন মধুপুরগড় এলাকাতে গ্রামের দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতেই ২০০২ সালে তিনি মধুপুরের শোলাকুড়ি ইউনিয়নের কাইলাকুড়ি গ্রামে গড়ে তুলেন পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাকেন্দ্র কাইলাকুড়ি হেলথ কেয়ার সেন্টার । এখান থেকেই ডাক্তার এড্রিক বেকার প্রতিদিন গড়ে প্রায় দেড় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতেন ।
প্রায় চার একর জমি ওপরে ডাক্তার এড্রিক বেকারের এই চিকিৎসাকেন্দ্র ছিল । ছোট ছোট মাটির ঘরে ডায়াবেটিস বিভাগ ও যক্ষ্মা বিভাগ এবং মা ও শিশু বিভাগ প্রশিক্ষণের কক্ষ এবং মাতৃসদনসহ নানা বিভাগ আছে এইখানে । সব বিভাগ মিলিয়ে ৪০ জন রোগী ভর্তি করানোর ব্যবস্থা রয়েছে এইখানে । শুধু ক্লিনিকেই না কোনো রোগী যদি চিকিৎসাকেন্দ্রে আসতে না পারেন দুই একজন সহকর্মীসহ সাইকেল চালিয়ে ডাক্তার এড্রিক বেকার নিজেই বেরিয়ে পড়তেন তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে । এলাকাবাসী তাই ভালবেসে তাকে ডাক্তার ভাই বলে ডাকতেন ।
উল্লেখ্য আছে ২০১৪ সালের পাঁচ আগস্ট বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব দেন । মানুষের তরে সত্য কথা বলতে কি এই লেখাটা লেখার সময় ডাক্তার এড্রিক বেকারের সহাঅনুভূতির কথা ভেবে কেন যেন আমার চোখ দিয়েও পানি পড়তে শুরু করে দিল । আল্লাহু তুমি ডাক্তার এড্রিক বেকারকে বেহেস্ত নসীব কর । আমীন । গরিবের ডাক্তার এড্রিক বেকারের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি ।
তথ্য কিছু খবরের কাগজ এবং কিছু ইন্টারনেট ।
সাথে বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ ভোরের কাগজেকে ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ভোর ৫:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



