somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হিমন
পৃথিবীকে যেমন দেখার প্রত্যাশা করি, সে প্রত্যাশার আগে নিজেকে তেমন গড়তে চাই। বিশ্বাস ও কর্মে মিল স্থাপন করতে আজীবন যুদ্ধ করতে চাই নিজের সাথেই।

'যে কথা বলতেই হবে'

১৮ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৮:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধান ভানতে শিবের গীত গাইতে আসিনি। কারণ, যেকথা বলতে এসেছি এটি ধান ভানার মত মামুলি ঘটনা নয়। বরং এটি বহু তরুণের জীবনে প্রপঞ্চক রাষ্ট্রের সীমাহীন অন্যায় আর নিপীড়নের হৃদয়গ্রাহী ঘটনা। ঘটনার পর ঘটনা ঘটে বাংলাদেশে। একটা ভুলে গিয়ে আরেকটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তবু কিছু ঘটনা থাকে, বহু মানুষের কাছে যা মূল্যহীন, বহু মানুষের কাছে আবার অসীম বেদনার। হ্যাঁ, আমি হাওয়াই মিঠাইয়ের মত মিলিয়ে যাওয়া কোটা আর আমাদের নষ্ট হৃদয়ে বিবেকের হুল ফুটিয়ে দেয়া কিশোর আন্দোলনের পর গ্রেফতারকৃত তরুণ-তরুণীদের কথা বলছি, যাদের সবাই গুজব রটনাকারী নয়, যাদের অনেকেই তাঁদের হৃদয়নিংড়ানো ভালবাসা ঢেলে দিয়ে ঘুণে ধরা নষ্টের চূড়ান্ত একটি বেহায়া সমাজব্যবস্থাকে জাতে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল।

তত্ত্ব আর তথ্যের প্রণয় ঘটিয়ে এ নিয়ে বিস্তর লেখা সম্ভব। সেই জ্ঞান ও প্রজ্ঞা আমার নেই। নিতান্তই একজন সাধারণ মানুষ আমি যার হৃদয়ে এই অনুজদের প্রতি রয়েছে গভীর মমতাবোধ। সেই মমতাবোধ থেকে প্রতিবাদ ও তাঁদের মুক্তির দাবীতে এই আমার লেখা। দু'দিন পর ঈদ। আমাদের বহুজনের আনন্দের সীমা নাই। কিন্তু এই তরুণের মায়েরা পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মম শহরে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে ঈদের আগে প্রিয় সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরবে বলে। একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষের দুর্দশা দেখে যে হৃদয় হু হু করে উঠেনা সে হৃদয় পাথরের। আমার ধারণা, পৃথিবীতে এমন একটি হৃদয়ও নেই কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদের মায়ের যন্ত্রণায় কাতরানো দেখে স্থির থাকতে পারে। 




দুগ্ধপোষ্য শিশু হরদম কাঁদে, বৃদ্ধ মানুষ কাঁদে প্রার্থনায়, কিন্তু পুলিশ ভ্যানে তরতাজা তরুণের কান্না অসহনীয়। সেই ছবি আমি এই লেখায় সংযুক্তি করেছি বটে, কিন্তু ছবির দিকে তাকিয়ে থাকার সাহস হয় না আমার।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস থেকে সত্যজিৎ রায় একই নামে ছবি করেছিলেন। সিনেমার শুরুতেই নায়িকা বিমলার প্রথম উক্তি, ‘আমি আগুনের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে এসেছি। যেটুকু পুড়বার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, আর যেটুকু বাকি আছে তার আর মরণ নেই।’ আমি নিশ্চিত বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে জন্মানো তরুণেরা পৃথিবীর সবচেয়ে নির্যাতিত নিপীড়িত বঞ্চিত শোষিত আর সভ্যতার নিম্নতম বল্গাহীন অশ্লীল রাষ্ট্রীয় প্রবঞ্চার শিকার।

একটি সমাজের সবচেয়ে করুণ অবস্থা কখন হয়? যখন জেনেও সত্যকে সত্য, মিথ্যাকে মিথ্যা বলা যায় না, সাদাকে সাদা বলা যায় না, দুর্নিবার অন্যায়কে মুখে কুলুপ এঁটে মেনে নিতে হয় অনাচার, দুরাচার। ওদিকে সুস্থ মানুষ আর সমাজের একটি দারুণ বৈশিষ্ট্য হল– যেকোন অবস্থায়, যেকোন স্থানে, যত ক্ষুদ্র আকারেই হোক না কেন অন্তত সামান্যে হলেও প্রতিবাদটুকু জারি রাখা। আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে একারণে নয় যে ওই তরুণদের আমাদের প্রয়োজন, বরং আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে কারণ ওরা পাপহীন। যত প্রিয় সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, প্রতিবাদ সরকারের কর্ণকুহরে প্রবেশ করুক আর না করুক, এ আমাদের দায়িত্ব মনে করতে হবে। সাহিত্যে নোবেলজয়ী জার্মান কবি গুন্টার গ্রাস ইসরাইলের অন্যায় দেখেও নির্লজ্জের মত পশ্চিমাদের নিশ্চুপ থাকা নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন, 'যে কথা বলতেই হবে’ (What Must Be Said)। এরপর ইহুদীবিদ্বেষের ধুয়া তুলে তাঁকে ইসরাইল সরকার নিষিদ্ধ করেছিল। শত অত্যাচারের মধ্যে থেকেও আমাদেরও এই প্রতিবাদের কথা বলে যেতেই হবে।

বঙ্গবন্ধুর হৃদয় ছিল বাংলাদশের সমান। তাঁর কন্যা সমুদ্রসীমা জয় করার মাধ্যমে জলভাগসহ বাংলাদেশের আয়তন দ্বিগুণ করেছেন। আপনার হৃদয়ও অসীম। আপনার থেকে বাংলাদেশের মানুষ প্রজ্ঞার রাজনীতি প্রত্যাশা করে। 



***সমাপ্ত***
জাহিদ কবীর হিমন
আখেন, জার্মানি থেকে
১৮ আগস্ট ২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ৮:২৯
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৮



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

​ক্যালেন্ডারে নামটা দেখেছেন হয়তো— ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
​ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছেন যারা, তাদের অনেকের কাছেই নামটা পরিচিত। কারণ, এই নামটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×