
বৃষ্টির প্রবল ছাঁট গাড়ির সামনের উইন্ডস্ক্রিনের ওপর আছড়ে পড়ে পরক্ষণেই দরদর ধারায় গড়িয়ে নেমে যাচ্ছে কাঁচ বেয়ে। সত্যিই, আবহাওয়ার মর্জি বোঝা ভার ! এই রোদ এই আবার বৃষ্টি।
বাড়ি থেকে যখন সোফিয়া আর তার ভাই সাতোশির সঙ্গে গাড়িতে উঠে বসেছিল তখনো আবহাওয়া চমৎকার ছিল। কিন্তু গাড়ি স্টার্ট দেবার পর যত তারা পথ অতিক্রম করতে লাগল, ততই হঠাৎ করে আকাশের মুখ ভার হতে শুরু করল। ভেজা কংক্রিটের রাস্তার দু'পাশের গাছগুলো ক্রমশ ঘন হয়ে উঠছে। রাস্তাটা ক্রমেই অজগর সাপের মতো পাক খেয়ে খেয়ে ক্রমশ পাহাড়ের গা বেয়ে ওপরের দিকে উঠছে। হঠাৎ হঠাৎ করে রাস্তাটা অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে থেকে, মনে হচ্ছে যেন এবার গাড়ি থামিয়ে পায়ে হেঁটে ওপরে উঠতে হবে। কিন্তু এটা ভাবতে না ভাবতেই তারপরই আবার চোখের সামনে দৃশ্যমান হচ্ছে চকচকে পাকানো রাস্তাটা।
সতোশির কাছে অবশ্য এমন দিনে এইরকম পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালানো একটু কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে।সে তেমন একটা ভালো গাড়ি চালাতে পারে না। খুব কষ্ট করে হাতে স্টিয়ারিং ধরে তিনি গাড়িটাকে ড্রাইভ করে নিয়ে চলেছেন। ড্রাইভিং সিটের পাশেই বসে রয়েছে সোফিয়া।চোখে হালকা ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। তবুও উৎসুক দৃষ্টিতে পথের দু'পাশ দিয়ে সাঁ সাঁ করে পেছনে চলে যাওয়া পাইন গাছগুলোকে দেখছে সোফিয়া।
দুই ঘণ্টা পর। গাছগাছালিতে ঘেরা একটা সরু ড্রাইভওয়েতে গাড়িটা ঘোরাতে ঘোরাতে লাগল সাতোশি।তাঁর দৃষ্টি অদূরে একটা কাঠের লেটার বক্সের ওপর। তারপরেই সোল্লাসে বলে উঠলেন, "হ্যাঁ, এই তো সেই নম্বর।ফাদার জনের বাড়ি এসে গেছে।লেটার বক্সে নাম লেখা আছে ফাদার জন অ্যাশবর্ণ।বাড়ি খুঁজে পেতে খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি কী বলো।”
সোফিয়া কোন উত্তর দিল না। তার নজর বাড়ির ভেতরে নিভু নিভু করে জ্বলে উঠা মোমবাতির দিকে। সোফিয়ার সাড়া না পেয়ে সাতোশি বলল, "কী অদ্ভুত মানুষ! এত পুরনো মডেলের বাড়িতে এখনকার যুগের মানুষ থাকে কীভাবে? আমরা এখন আধুনিক যুগের মানুষ তাই না। বাড়িতে ইলেকট্রিসিটির ও কোন ব্যবস্থা নেই।মনে হয় বিদ্যুৎ আবিষ্কার হয়নি এমন এক যুগে ফিরে গেছি। এমন অদ্ভুত মানুষ আগে কখনো দেখিনি"
২৯ শে অক্টোবর।।রাত একটা বাজে।।
ওরা দুইজন অলক্ষ্যে নিঃশব্দে এসে দাঁড়াল বাড়িটার সামনে। একটা কাঠের দোতলা বাড়ি। সোফিয়া ও তার ভাই সাতোশি বুঝতে পারছে না বাড়িটা কোন কাঠ দিয়ে বানানো। তবে বেশ পুরনো কোন বিলুপ্ত প্রায় গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি এতটুকু বোঝা যাচ্ছে।
দরজার সামনে এসে সামান্য সময়ের জন্য স্থির হয়ে দাঁড়াল ওরা দুজন। সম্ভবত শুনতে চেষ্টা করল ভেতরে কেউ জেগে আছে কিনা, কারোর কোনও সাড়াশব্দ ভেসে আসছে কিনা - কান খাড়া করে সেরকমই কিছু শুনতে চেষ্টা করল সে।ওরা এত রাতে একজন অপরিচিত মানুষের বাড়িতে এসেছে। প্রথম সাক্ষাৎকারে কীভাবে তার সঙ্গে আলাপ শুরু করবে মনে মনে সেটাই ভাবছে সাতোশি।সাতোশির পাশেই ওর বোন সোফিয়া।
“আমাদের সম্ভবত এত রাতে আসা উচিত হয়নি। উনি বিষয়টি খারাপ ভাবেও নিতে পারে।এত রাতে তিনি হয়তো ঘুমোচ্ছেন” চিন্তিত স্বরে বলল সাতোশি
“তাহলে এখন কি করবে ? সারারাত বাড়ির সামনে বসে নিশ্চয়ই অপেক্ষা করা সম্ভব হবে না” জিজ্ঞেস করল সোফিয়া
“সম্ভবত অপেক্ষা করা দরকার। সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর উনার সঙ্গে দেখা করবো” বলল সাতোশি
“নাহ, এই সময়ে আমরা কোথায় থাকবো ? বোকার মতো কথা বলো না। আমরা তো বিপদে পরেই উনার কাছে এসেছি। উনি আশাকরি বিরক্ত হবেন না। আমি শুনেছি উনি অনেক ভালো মানুষ” বলল সোফি।
সোফিয়া দরজার সামনে এগোতে লাগল। দ্রুত, খুব দ্রুত এগিয়ে চলল সে। ক্রমে বৈঠকখানা ঘরে এসে পৌঁছল। নিঃশব্দে, একেবারে নিঃশব্দে। কলিং বেলে বাজিয়ে দিল।এক অদ্ভুত রিংটোন সেট করা। এক ধরনের ডিমনিক ভয়েজ যেন বেজে উঠলো। ভয়ে গলা শুকিয়ে আসার মতো অবস্থা হলো ওদের দুজনের। একজন আরেকজনের দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।এ আবার কেমন মানুষ ! নিজের বাড়িতে কলিং বেলের আওয়াজ এইরকম দেয়।অবাক না হয়ে পারে না দুজনে।মুহুর্তেই দরজাটা খুলে গেল। একজন অল্প বয়সী ছেলে দরজা খুলে দিল।
“বলুন, আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?” মুচকি হেসে বলল ছেলেটি
“আপনি নিশ্চয়ই ফাদার জন। আমি সোফিয়া, আর ও আমার ভাই সাতোশি।আমরা একটা জরুরী প্রয়োজনে আপনার কাছে এসেছি।যদি অনুমতি দেন তো ভিতরে এসে সবকিছু বলি” বিনয়ের সঙ্গে বলল সাতোশি
“হ্যা, অবশ্যই।ভেতরে আসুন” বলল জন
ওরা দুজন ঢুকে পড়ল ঘরের ভেতর।ঘরের দরজা বন্ধ করেই ফাদার জন কোথায় যেন চলে গেল। সাতোশি ও সোফিয়া নিঃশব্দে ঘরটা ঘুরে বেড়াতে লাগল ঘরের ভেতর একদিক থেকে আরেকদিকে।ফাদার জনের সঙ্গে আলফ্রেড নামের একজন হাউজহোল্ড হেল্পার থাকে।জনের সব কাজ সেই করে দেয়। আলফ্রেড ওদের দুজনকে গরম গরম কফি বানিয়ে দিয়েছে।
সোফিয়া ঘরটা ঘুরতে ঘুরতে এবার এগিয়ে গেল একটা জানলার দিকে। বাইরে থেকে আসা স্ট্রিটল্যাম্পের আলোয় জানলার পর্দার ওপর তার ছায়া পড়ল।ঘরটা অন্ধকার।ঘরে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা নেই। কয়েক জায়গায় ছোট ছোট মোমবাতি জ্বলছে।তা দিয়েই ঘরটা কোনরকম আলোকিত হয়ে আছে। সোফিয়া লোকমুখে শুনেছে ফাদার জন আধুনিক কোন জিনিসই পছন্দ করেন না।সবার কাছে তিনি বেশ অদ্ভুত মানুষ হিসেবেই পরিচিত। হঠাৎ সোফিয়ার মনে হলো একটা কালো অবয়ব দ্রুত সরে গেল জানলার একদিক থেকে আরেকদিকে। পরক্ষনেই মনের ভুল ভেবে বিষয়টা এড়িয়ে গেল।জানলার পাশেই একটা বড়সড় ডেস্ক। বইয়ে ঠাসা। অদ্ভুত নামের সব বই। একটা বই খোলা অবস্থায় টেবিলের ওপর রাখা আছে দেখতে পেলো সে। বইটা দেখেই চিনতে পারল সে।এক প্রাচীন ডিমন কে নিয়ে লেখা এই বই।বইয়ের ভাঁজে একটা ছোট চিরকুট। তাতে লেখা ছিল , “ মানুষের জীবন বড় অদ্ভুত। তুমি চাইলেই এটাকে বইয়ের মতো পড়ে শেষ করে ফেলতে পারবে না। আমরা অনেক বই পড়ার পরেও এর অর্থ বুঝতে পারি না। মানুষের জীবনটাও এমন তুমি পুরোপুরি বুঝতে পারবে না। জীবন সুখ দুঃখ সব মিলিয়েই। জীবন সুন্দর ভাবে উপভোগ করো। আশাকরি তুমি বাকি জীবন ভালো ভাবে উপভোগ করে কাটাবে”
সোফিয়া চিরকুট টা বইয়ের বাজে রেখে বইটা বন্ধ করে দেয়।মনের মধ্যে একরাশ চিন্তা উকি ঝুকি মারছে।ফাদার জন সেই কখন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো। এরপর যেন লাপাত্তা। কোথায় হারিয়ে গেলেন তিনি?কি করবে এখন সে?ভাবতে লাগল সোফিয়া। তার কি করা উচিত এখন?ফাদার জন কে কি নাম ধরে ডাক দিবে ? তিনি নিশ্চয়ই এটাকে অভদ্রতা ভাবতে পারেন। এখন আপাতত না ডাকাই তার জন্য শ্রেয়। অন্তত জনের সামনে ছোটলোকি মনের পরিচয় দিতে চায় না সে।
ভাবতে ভাবতে সে এগিয়ে গেল ফায়ারপ্লেসের দিকে। চুল্লির ওপরের তাকগুলো ধুলো আর ছাইয়ে ভর্তি। সেই ধুলো আর ছাইমাখা তাকের গায়ে নিজের একটা হাত রাখল সে। বুড়ো আঙুল বাদে চার-চারটে আঙুলের ছাপ পড়ল ধুলোর ওপর। চুল্লির ওপরের পুরো তাক'টায় সে নিজের হাতের ছাপ দিয়ে সাজিয়ে দিল।যদিও কাজটা ছেলেমানুষী হয়ে গেছে। তবুও সে কেন এটা করলো হয়তো সে নিজেই জানে না। ধুলোমাখা চুল্লির তাকের ওপর এলোমেলো অবিন্যস্তভাবে জেগে রইল সেই অদ্ভুত হাতের ছাপগুলো।
একসময় সে এসে থামল দেওয়ালে ঝোলানো একটা ছবির কাছে। মেটাল ফ্রেমে আটকানো একটা ছবি। ছবিটার কাছে এসে থেমে গেল সে। ছবিটা দেওয়ালের দিকে ওলটানো অবস্থায় ছিল। সেটাকে ভালো করে দেখার জন্য ছবিখানাকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিল সে।ফাদার জনের ছবি। কিন্তু জনের সঙ্গে তার মতো দেখতে আরো একটা ছেলের ছবি দেখা যাচ্ছে।যে কিনা হুবহু জনের মতোই দেখতে। তবে ছেলেটির গলায় একটা কালো বার্থ মার্ক রয়েছে।যা দুজন কে আলাদা করে।ছবিটার দিকে একদৃষ্টে চেয়েই রইল সেই সোফিয়া।ছবিটাকে আবার যথাস্থানে রেখে সাতোশির পাশেই গিয়ে বসলো।
“দুঃখিত, আপনাদের অনেক সময় বসিয়ে রাখলাম। আশাকরি আপনারা আমার উপর বিরক্ত হননি” বলল জন
“আমরা একটুও বিরক্ত হইনি ফাদার।” বলল সাতোশি
“আমার খোঁজ পেলেন কীভাবে? আমার ঠিকানা স্বাভাবিক ভাবেই জানার কথা নয়।” জিজ্ঞেস করল জন
“ফাদার ম্যাথিউস আপনার খোঁজ দিয়েছেন। আমরা খুব বড় সমস্যায় পরে এখানে এসেছি।” বলল সোফিয়া
“আমি এখন আর এইসব নিয়ে কাজ করি না। ফাদার ম্যাথিউস কেন যে আপনাকে আমার কথা বলল জানি না।” বলল জন
“জানি, আপনি কেন সবকিছু ছেড়ে দিয়েছেন।ফাদার ম্যাথিউস আমাদের সব কিছু খুলে বলেছেন। তবুও আশা রাখছি আপনি আমাকে সাহায্য করবেন।এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন” জনের দিকে তাকিয়ে বলল সাতোশি
“সেদিন এমন কী ঘটেছিল, যার জন্য আপনি সবকিছু ছেড়ে এতটা নিরিবিলি একটা জায়গায় চলে এলেন?” জিজ্ঞেস করল সোফিয়া
“ফাদার ম্যাথিউস কিছু বলে নি?” জিজ্ঞেস করল জন
"না, সে শুধু এটুকুই বলেছে—একটা ছোট ছেলের এক্সরসিজম চলাকালীন তার মৃত্যু হয়। আর সেই ঘটনার পর আপনি সব ছেড়ে, সবকিছুর থেকে দূরে সরে গিয়েছেন…” বলল সোফিয়া
“ঘটনাটা খুউব বেশিদিন আগের নয়। আজ থেকে চার পাঁচ বছর আগের। শরতের এক সুন্দর বিকেলে আমার কাছে এসেছিল এক দম্পতি। তাদের কোলে ছিল চার বছরের এক অসুস্থ বাচ্চা ছেলে। ছেলেটিকে দেখে আমার বড্ড মায়া হয়। এই অল্প বয়সেই ডিমনের দুষ্টু নজর ওর দিকে পড়লো। ছেলেটির চোখেমুখে বিষণ্নতা আর অশান্তির ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। চোখের নিচে কালচিটে পড়ে গেছে।চোখ দুটো যেন গর্তে হারিয়ে গেছে। ছেলেটিকে দেখেই বুঝলাম তাকে বাঁচানো খুব কঠিন হয়ে পড়বে। ততক্ষণে দম্পতি তাদের ছেলেকে সোফায় শুইয়ে দিল। বাচ্চাটির মা জানালো তিন দিন আগে তাদের বাচ্চা প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে একটি দামি খেলনা পুতুল চুরি করে এনেছে। অভাবের সংসার ওদের। সন্তানকে খেলনা কিনে দেওয়ার মতো অর্থ ওদের নেই। ওদের ছেলেটি প্রায়ই প্রতিবেশীর মেয়ের সঙ্গে খেলত। দুই দিন আগে ওদের বাড়ি থেকে না বলে একটা খেলনা পুতুল নিয়ে আসে তাদের ছেলে। একপ্রকার চুরি করে আনাই বলা যায়।এরপর থেকেই ওদের বাড়িতে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় স্বামী স্ত্রী ও তাদের সন্তানের সঙ্গে।বিশেষ করে তাদের ছেলেটির সঙ্গে। দম্পতি খেলনাটি ফিরিয়ে দিতে যায়, কিন্তু প্রতিবেশী জানিয়ে দেয় এটা তাদের নয়। তারা ওদের গালি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। ওরা অনেক চেষ্টা করে খেলনা টি ফিরিয়ে দেয়ার কিন্তু তা আর কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। প্রতিবেশীরা খেলনাটি গ্রহণই করছে না।তারা বারবার বলছে এটা তাদের নয়। দম্পতি এইটুকু বুঝেছে খেলনা টি অভিশপ্ত।তাই প্রতিবেশী খেলনা গ্রহণ করছে না। এই জন্যই ওরা আমার কাছে এসেছে এক্সরসিজম করানোর জন্য। ওরা বুঝতে পারছে, তাদের ছেলে হয়তো কোনো প্রেতাত্মা নয়তো কোনো ডিমনের কবলে পড়েছে।”
কথাটা বলেই একটা জোরে নিঃশ্বাস ফেললো ফাদার জন। টেবিলের উপর থেকে একটা গ্লাসে পানি ঢেলে ঢকঢক করে সবটুকু খেয়ে নিল। এইদিকে সাতোশি ও সোফিয়া বাকিটুকু শোনার জন্য জনের দিকে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।
“সেই সময় আমি একটা সম্পূর্ণ নতুন এক ডিমনের সঙ্গে পরিচিত হই। এই ডিমন খুব ভয়ংকর। সে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তার শিকারকে মেরে ফেলে। সে তার শিকার কে মারতে সর্বনিম্ন তিনদিন ও সর্বোচ্চ চল্লিশ দিন সময় নেয়। এবং মৃত্যুর তিনদিন আগে শিকারকে মানসিকভাবে খুব টর্চার করে। আমি ছেলেটির হাত ধরতেই খুব ভয়ংকর এক ডিমনের উপস্থিতি টের পাই। আমার হাতে সময় খুব কম ছিল। অলরেডি দশদিন অতিবাহিত হয়ে গেছে।খুব দ্রুত এক্সরসিজম শুরু করে দিতে হবে। তা না হলে হয়তো ছেলেটাকে এই অল্প সময়ের মধ্যে বাঁচানো সম্ভব না।কিন্তু সেদিন সময় আমার সঙ্গে ছিল না। ছেলেটির এক্সরসিজম শুরু করার সাথে সাথে খুব ভয়ংকরভাবে ভূমিকম্প শুরু হয়। ঘরটা মারাত্মকভাবে ঝুলছিল যেন এক্ষুনি মাটি ফেটে আমরা তার ভেতরে হারিয়ে যাব। এবং সেটাই হলো। ফ্লোর দুই ভাগে ফেটে গেল। আমি সেদিন নিজের চোখে নরক দেখেছিলাম যেন। মাটি দু’ভাগ হয়ে গেল, তার মধ্যে টগবগ করছে আগুন। আগুনের মধ্য থেকে অনেকগুলো ভয়ংকর হাত বেরিয়ে আসে। ছেলেটিকে সেই আগুনের নরকে টেনে নিয়ে যায়। সেই সাথে ওই দম্পতিকে ও।ঘরের মেঝেতে কেবল ওদের আনা সেই অভিশপ্ত পুতুল টি পড়ে ছিল। এরপর সব শান্ত হয়ে যায়। ফ্লোরের সেই ফাটলটা মুছে গেছে, যেন একটু আগে কিছুই হয়নি। সেদিনের সেই ঘটনা কেউ বিশ্বাস করেনি, কারণ সেদিন কোনো ভূমিকম্প হয়নি। এমনকি আমার বাড়ির সেই ফাটলও আর নেই। তবে আমি জান সেইসব কিছু সত্য যা আমি নিজের চোখে দেখেছি। সেদিন ওই ডিমন চলে যাওয়ার সময় আমাকে বলেছিল আমাদের নাকি ভবিষ্যতে আবার দেখা হবে। আমি যেন তার সঙ্গে লড়াই করার জন্য মানসিক ভাবে তৈরি হয়ে নেই জানি না ও কেন এই কথা বলেছে।” সোফিয়া ও সাতোশির দিকে তাকিয়ে বলল জন
চলব...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০২৫ সকাল ৯:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


